শিরোনাম
◈ বিশ্বের মুসলিম দেশগুলো ঐক্যবদ্ধ থাকলে কেউ জুলুম চালাতে পারবে না : ইরান ◈ দেশে ফিরলেন প্রধান উপদেষ্টা ◈ বাংলাদেশের কোনো নির্দিষ্ট দলকে সমর্থন নিয়ে ড. ইউনূসকে যা বলেন মোদি ◈ ড. ইউনূস-মোদি ৪০ মিনিটের বৈঠকে যেসব বিষয়ে আলোচনা করেন ◈ লাশের স্তুপে পরে থাকা কানাই লাল জানালেন সেই নৃশংস গণহত্যার ঘটনা ◈ ৭২ ঘন্টা পর চোখ খুলেছে শিশুটি, এক আসামি গ্রেফতার ◈ থাইল্যান্ডকে ভিসা সহজীকরণসহ যেসব বিষয়ে আহ্বান জানালেন প্রধান উপদেষ্টা ◈ ইউনূস-মোদি বৈঠকে আশার আলো তৈরি হয়েছে: ফখরুল ইসলাম ◈ পাচার হওয়া অর্থ ফেরাতে শ্রীলঙ্কার সহায়তা চেয়েছে সরকার ◈ বিমসটেক মহাসচিবকে যে উদ্যোগ নিতে বললেন ড. ইউনূস

প্রকাশিত : ০৩ এপ্রিল, ২০২৫, ১০:৪১ দুপুর
আপডেট : ০৫ এপ্রিল, ২০২৫, ১২:০০ রাত

প্রতিবেদক : মহসিন কবির

দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র, কোন দিকে রাজনীতি

মহসিন কবির: বাংলাদেশের জঙ্গিবাদ নিয়ে নিউইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত হয়েছে এক তরফা প্রতিবেদন। এ প্রতিবেদনে সত্যের লেশ মাত্র নেই। রাজনৈতিক নেতা বলছেন আওয়ামী দোসররা টাকা দিয়ে এ নিউজ করিয়েছেন। তারা দেশের বিরুদ্ধে সড়যন্তে লিপ্ত রয়েছেন। নির্বাচন হলে এ সমস্যা থাকবে না। 

এবারের ঈদুল ফিতর পালিত হচ্ছে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায়। বিএনপি, জামায়াতের মত পুরনো রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাকর্মীরা নিজ নিজ এলাকা চষে বেড়াচ্ছেন। পিছিয়ে ছিলেন এনসিপি নেতারও। তারা জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছে। দিয়েছে সাহায্য। এ মাসের মাঝামাঝি ফিরতে পারেন খালেদা ও তারেক রহমান। তখন দেশের রাজনীতি কোন দিকে মোড় নেয় সেটাই দেখার বিষয়। 

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, ‘দেশে জঙ্গিবাদের কোনো উত্থান হচ্ছে না। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর জঙ্গিবাদের মতো কিছু হয়নি। সবাই যদি সহযোগিতা করেন এবং যদি কোনো ধরনের সমস্যা হয় তাহলে সবাইকে একসঙ্গে নিয়ে সমাধান করবো।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানিয়েছে, বাংলাদেশে ইসলামিস্টদের উত্থান নিয়ে নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনটি উদ্বেগজনক এবং বিভ্রান্তিকর। মঙ্গলবার সিএ প্রেস উইং থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নিউইয়র্ক টাইমসের নিবন্ধটি ইঙ্গিত দেয় যে বাংলাদেশে ধর্মীয় চরমপন্থা উত্থানের দ্বারপ্রান্তে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এটি বাংলাদেশের ভুল চিত্র তুলে ধরেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিভ্রান্তিকর এ চিত্রায়ন কেবল দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক গতিশীলতাকে অতি সরলীকৃত করে না বরং ১৮ কোটি মানুষের একটি সমগ্র জাতিকে অন্যায়ভাবে কলঙ্কিত করার ঝুঁকিও তৈরি করে।

নিউইয়র্ক টাইমস প্রকাশিত নিবন্ধে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ যখন নিজেকে পুনরুজ্জীবিত করছে, তখন কট্টরপন্থি ইসলামিস্টরা একটি সুযোগ দেখতে পাচ্ছে। তবে এ বক্তব্যকে প্রত্যাখ্যান করে প্রেস উইং বলছে, নিউইয়র্ক টাইমসের নিবন্ধটি বাংলাদেশ সম্পর্কে একটি উদ্বেগজনক এবং একপেশে দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছে।

সিএ প্রেস উইংয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রকাশ করার জন্য সুনির্দিষ্টভাবে উসকানিমূলক নিবন্ধের ওপর নির্ভর করার পরিবর্তে বাংলাদেশের অগ্রগতিকে স্বীকৃতি দেওয়া বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বছর ধরে বাংলাদেশ যে অগ্রগতি করেছে সেটাকে এবং পরিস্থিতির জটিলতাকে স্বীকার করা উচিত।

আরও বলছে, যদিও নিবন্ধটি ধর্মীয় উত্তেজনা এবং রক্ষণশীল আন্দোলনের কিছু ঘটনা তুলে ধরেছে, তবে এটি অগ্রগতির বৃহত্তর প্রেক্ষাপটকে উপেক্ষা করেছে। বাংলাদেশ নারীদের অবস্থার উন্নতিতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তাদের সুরক্ষা এবং কল্যাণের জন্য বিশেষভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এটি এমন একটি সরকার যা নারীর অধিকার এবং সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। অথচ নিবন্ধে এর উলটোটা বলা হয়েছে।

নিউইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত প্রতিবেদনের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মো. মাহফুজ আলম। তিনি বলেন, নিউইয়র্ক টাইমস প্রতিবেদনে বলতে চাচ্ছে, শেখ হাসিনা চলে যাওয়ার কারণে দেশে চরমপন্থা-উগ্রপন্থার সুযোগ তৈরি হয়েছে। আমরা মনে করি, এ সুযোগ কাউকে নিতে দেওয়া হবে না। বরং আমরা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র পরিচালনা ও প্রতিষ্ঠার জন্য বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখব।

বুধবার (২ মার্চ) সকালে কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার উত্তর রামপুর গ্রামে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত শহীদ মাসুম মিয়ার কবর জিয়ারত ও পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাত শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, পরাজিত শক্তি নিউইয়র্ক টাইমসে মিথ্যা তথ্য দিয়ে রিপোর্ট করিয়েছে। ফ্যাসিবাদের দোসররা হাজার হাজার কোটি অবৈধ টাকার মালিক। তাদের অবৈধ টাকা ব্যবহার করে বাংলাদেশকে কলঙ্কিত করার চেষ্টা করছে। বুধবার নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

বিএনপির এই সিনিয়র নেতা বলেন, বাংলাদেশে উগ্রবাদের কোনও উত্থান ঘটেনি। বরং বর্তমানে বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদের কোনও ছোবল নেই, মানুষ নির্বিঘ্নে ধর্মপালন করছে, কথা বলতে পারছে। নির্ভয়ে ঈদ পালন করেছে, ফ্যাসিবাদের দৌরাত্ম ছিল না। বিগত দিনে কেউ স্বস্তিতে ঈদ উদযাপন করতে পারেনি। শেখ হাসিনার আমলে যা সম্ভব ছিল না।

তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী অপতথ্য ছড়াচ্ছে আওয়ামী লীগের দোসররা। শেখ হাসিনা জঙ্গি দমনের নামে যে নাটক করেছেন সেটা তিনি বিশ্ববাসীকে দেখিয়েছেন। এটা ক্ষমতায় টিকে থাকতে তার রাজনৈতিক কৌশল ছিল। একজন সাবেক আইজিপির বইয়েও তা ওঠে এসেছে।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, আওয়ামী লীগ বসে নেই। কালো টাকা খরচ করছে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে। আওয়ামী লীগ অবৈধ টাকা অর্জন করে বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে। আওয়ামী লীগ অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ড করছে।

বিএনপির এই কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, শেখ হাসিনার নির্দেশে যেভাবে মুগ্ধ ফাইয়াজদের গুলি করে হত্যা করা হয়েছে সে বিষয়ে তার কোনও বক্তব্যে অনুতপ্ততা নেই। অস্থিরতা তৈরি করতে দেশকে ঘোলাটে করার চেষ্টা করছেন বিদেশে পালিয়ে থাকা আওয়ামী লীগের নেতারা। প্রশাসনের চারদিকে আওয়ামী লীগের দোসররা বসে আছে।

তিনি আরও বলেন, কিছু উপদেষ্টা বিএনপির বিরুদ্ধে বিষােদগার করছেন। ষড়যন্ত্রমূলকভাবে বিএনপির বিরুদ্ধে অপপ্রচার করছেন। একজন উপদেষ্টা ২০০৭ সালেও বিএনপির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছিলেন। তিনি এবারও তা করছেন। মেহেরপুরে পেঁয়াজের দাম না পেয়ে একজন কৃষক আত্মহত্যা করেছেন। উপদেষ্টারা সেগুলো নিয়ে কথা বলছেন না। তারা সিন্ডিকেট ভেঙে দিলে কৃষক তার পণ্যের ন্যায্য মজুরি পেত।

বিশ্লষকরা বলছেন, বর্তমানে ভারতের ধর্মনিরপেক্ষতা নিথর হয়ে পড়ে রয়েছে ভারতীয় সংবিধানের কাগুজে পাতায়। বাস্তবে সেদেশে বিজেপির উগ্র হিন্দুত্ববাদ মাঠে দাপট দেখাচ্ছে। যার ফলে ভারতীয় মুসলিমসহ অপরাপর সংখ্যালঘুরা নিপীড়িত হচ্ছে প্রতিনিয়ত। ওদিকে নিউইয়র্ক টাইমসের দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আইন-কানুনে কোনো একটি ধর্মকে বিশেষ প্রাধান্য দেওয়া না হলেও সে দেশের সমাজ ও রাজনীতিতে খ্রিস্টান ধর্মের রয়েছে ব্যাপক প্রভাব।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়