শিরোনাম
◈ ড. ইউনূসের সঙ্গে শেহবাজ শরিফের ফোনালাপ, ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় ◈ বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে রেকর্ড, প্রথমবারের মতো ছাড়াল ৩১০০ ডলার ◈ ঈদের ছুটি: অনেক এটিএম বুথেই টাকা নেই, ভোগান্তিতে গ্রাহক ◈ ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন না হলে দেশ অস্থিতিশীল হতে পারে, রয়টার্সকে মঈন খান ◈ আওয়ামী লীগের বাংলাদেশে রাজনীতি করার অধিকার নেই: নাহিদ ইসলাম (ভিডিও) ◈ জয়পুরে মুসলিমদের ফুল ছিটিয়ে শুভেচ্ছা জানালেন হিন্দুরা! (ভিডিও) ◈ আয়কর নথিতে দেখাতে হবে ঈদ খরচ  ◈ ঈদের দিনে ফেসবুক বার্তায় যা বললেন সারজিস আলমের ◈ শোলাকিয়ায় ভাঙলো আগের সব রেকর্ড, ৬ লাখের বেশি মুসল্লির নামাজ আদায় ◈ এবার কারাগারে যেমন কাটছে আ.লীগ নেতাদের ঈদ

প্রকাশিত : ২৮ মার্চ, ২০২৫, ০৯:৪৬ রাত
আপডেট : ৩০ মার্চ, ২০২৫, ০৫:০০ বিকাল

প্রতিবেদক : মহসিন কবির

রাজনৈতিক নেতারা ঈদকে কেন্দ্র করে সক্রিয় হচ্ছে

মহসিন কবির: পবিত্র ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক নেতারা সক্রিয় হচ্ছে। নেতারা ছুটছেন নিজ নিজ এলাকায়। এছাড়া সাংবাদিক, পেশাজীবি ও বিশিষ্টজনের সম্মানে  ইফতার ও দোয়া মাহফিলে সক্রিয় ছিলেন তারা। একে অপরের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেছেন। রাজনৈতিক বিদ থাকলেও নির্বাচন প্রশ্নে সবাই এক হওয়ার চেষ্টা করছে। 

প্রায় ১৭ বছর পর পরিবারের সঙ্গে নির্ভয়ে ঈদ কাটাবেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। সেই সঙ্গে বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের সময়ে যুগপৎ আন্দোলন-সংগ্রামের সহযোগীদের সঙ্গেও ঈদ কাটাবেন তারা। 

ঈদকে কেন্দ্র করে যার যার সংসদীয় আসনে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ততা বাড়াতে জনসংযোগ করবেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। পাশাপাশি ১৭ বছরে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও ভোটাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনে যারা গুম-খুনের শিকার হয়েছেন তাদের পরিবারের পাশে ঈদ উপহার নিয়ে দাঁড়াবে দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা।

এর আগে পতিত স্বৈরাচার শেখ হাসিনার সময়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা হয় জেলে না হয় আত্মগোপনে ঈদ উদযাপন করেছেন। গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার বিপ্লব-পরবর্তী সময়ে রাজনীতির মাঠে সবচেয়ে ভালো সময় পার করছে বিএনপি। বিপ্লবের পর একটা মুক্ত পরিবেশে ঈদ উদযাপন করবে দলটির নেতাকর্মীরা। সেই সঙ্গে নির্বাচন সামনে হওয়ায় নেতাকর্মীদের চাঙা করা ও এলাকার মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক বাড়াতে সংসদীয় এলাকায় ঈদ করবেন কেন্দ্রীয় নেতারা।

বিএনপির দলীয় সূত্রে জানা যায়, সংস্কারের নামে যাতে নির্বাচন পিছিয়ে না যায় সেজন্য নির্বাচনের লক্ষ্যে মাঠে থাকবে বিএনপি। ঈদকে সামনে রেখে প্রতিটি সংসদীয় এলাকায় সম্ভাব্য প্রার্থীরা জনসংযোগ করবেন। তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতেও নির্দেশনা রয়েছে। পাশাপাশি বিগত সময়ে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও ভোটাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনে যারা নিহত ও আহত হয়েছে তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে নির্দেশনা দিয়েছেন দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

দলটির এক শীর্ষ নেতা জানান, আসন্ন ঈদে সারা দেশে সব সংসদীয় আসনের সব প্রার্থীকে নিজ এলাকায় অবস্থান করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ঈদের দিনগুলোতে নেতাকর্মীদের আবারও চাঙা করতে কাজ করছেন নেতারা। ঈদ আয়োজনের মধ্যেই দেওয়া হবে দলের নির্দেশনা।

দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঈদ উপহার নিয়ে ইতোমধ্যে তৃণমূলে ছুটেছেন কেন্দ্রীয় নেতারা। বিভিন্ন সময়ে আন্দোলন-সংগ্রামে খুন, গুম ও নির্যাতনের শিকার নেতাকর্মীদের খোঁজ নিতে ও তাদের পরিবারের সদস্যদের পাজামা-পাঞ্জাবি ও শাড়ি উপহার দিতে কেন্দ্রীয় নেতাদের সমন্বয়ে টিম গঠন করা হয়েছে। দলের নেতাকর্মী ছাড়াও সারা দেশে অসহায়-দুস্থদের জন্য বস্ত্র ও খাবার বিতরণ কার্যক্রমও চালিয়ে যাচ্ছে বিএনপির নেতারা।

এর আগে রোজার শুরুতে ইফতার পার্টি ও বিভিন্ন কর্মসূচি দিয়ে মাঠে ছিল বিএনপি। দলটি প্রথম রোজায় এতিম ও মাদরাসা শিক্ষার্থীদের সম্মানে ইফতার আয়োজন করে। পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক দল, পেশাজীবী, গুম-খুনের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের পরিবার, কূটনৈতিকদের সম্মানে ইফতার ও সাংবাদিকসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মানে ইফতার আয়োজন করে বিএনপি।

এদিকে প্রতি বছর দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের মধ্যে দিয়ে ঈদ উদযাপন শুরু হয় দলীয় নেতাকর্মীদের। তবে গত কয়েক বছর তিনি কারাবন্দি ও গুরুতর অসুস্থতার জন্য বাসায় আইসোলেটেড থাকায় নেতাকর্মীরা ঈদে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারেনি। শেখ হাসিনার পালিয়ে যাওয়ার পর তিনি সাজা থেকে মুক্তি পেলেও দলীয় নেতাকর্মীদের শুভেচ্ছা বিনিময়ের সুযোগ থাকছে না। তিনি বর্তমানে উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনে অবস্থান করছেন। তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকরা জানিয়েছে, ঈদের পরে পবিত্র ওমরাহ পালন শেষে খালেদা জিয়ার দেশে আসার কথা রয়েছে।

ঈদ উপলক্ষে দলীয় কোনো কর্মসূচিতে অংশ নিতে দেওয়া হতো না অভিযোগ গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান গণমাধ্যেকে বলেছেন, ২০১৯ সাল থেকে স্বাভাবিকভাবে আমরা ঈদ করতে পারিনি। কোনো ঈদ জেলে, আবার কোনো ঈদ আত্মগোপনে থেকে করতে হয়েছে।

এবার মুক্ত পরিবেশে ঈদ উদযাপন করার জন্য নিজ সংসদীয় আসন ঝিনাইদহ আছেন জানিয়ে রাশেদ খান বলেন, ঈদ এলে সাধারণ জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ততা বাড়ানোর একটি সুযোগ সৃষ্টি হয়। রাজনীতিবিদরা যেহেতু নির্বাচন করেন, তাই তারা চাইবেন ঈদের সুযোগ কাজে লাগিয়ে মানুষের সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততা বাড়াতে।

বাধাহীন পরিবেশে ঈদ উদযাপনের পরিকল্পনা নিয়ে সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী আমার দেশকে বলেন, হাসিনামুক্ত বাংলাদেশে এবার বাধাহীন ঈদ করব। গত ১৫ বছর এটা আমরা পারিনি। মন খুলে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে ঈদের সৌজন্য বিনিময় করতে পারিনি।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ গণমাধ্যমকে বলেছেন, দীর্ঘ বন্দিজীবন থেকে মুক্ত পরিবেশে বিএনপি ও সারা দেশের মানুষ এবারের ঈদুল ফিতর উদযাপন করবে। ফ্যাসিস্ট সরকার দেশের মানুষকে এমনভাবে বন্দি করেছে যে, কেউ স্বাধীনভাবে পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে পারেনি। ১৫ বছরে কেউ জেলখানায় কেউ আত্মগোপনে কেউ পরিবারের প্রিয় মানুষকে হারিয়ে ঈদ উদযাপন করেছে। এবার শেখ হাসিনামুক্ত বাংলাদেশে আমরা বাধাহীন ঈদ উদযাপন করব।

ডিসেম্বরে জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে প্রার্থী বাছাইসহ অভ্যন্তরীণ প্রস্তুতি নিচ্ছে জামায়াতে ইসলামী। একক নাকি জোটগতভাবে নির্বাচনে অংশ নেবে
এখনো সে সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি তারা। প্রায় সব আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। 

এছাড়া ইসলামী আন্দোলন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, ইসলামী ঐক্যজোট, খেলাফত আন্দোলনসহ অন্য ধর্মীয় দলগুলোও প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ করছে। এরই মধ্যে সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজেদের নির্বাচনি এলাকায় তৎপরতাও চালানো শুরু করেছেন। বিশেষ করে জামায়াতের পক্ষ থেকে প্রায় সব আসনে প্রার্থী ঘোষণা দিয়ে বেশ আগে থেকেই প্রচার-প্রচারণা চালানো হচ্ছে।

পবিত্র রমজানের শুরু থেকেই ইফতার মাহফিল, ইফতারসামগ্রী বিতরণ, নানা উপহার ও সহায়তা দিয়ে আসছেন ইসলামি দলগুলোর সম্ভাব্য প্রার্থীরা। এরই ধারাবাহিকতায় আসন্ন ঈদুল ফিতর ঘিরে এই তৎপরতা আরো জোরদার হয়েছে। আওয়ামী ফ্যাসিবাদের পতনের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ১৬ বছর পর এবার সম্পূর্ণ নির্বিঘ্নে ও উন্মুক্ত পরিবেশে ঈদ উদযাপনের সুযোগ পাচ্ছেন নেতাকর্মীরা। তাই আসন্ন নির্বাচনের আগে এবার দেশের সব এলাকায় ঈদের ভিন্ন আবহ সৃষ্টি হয়েছে। ঈদের নামাজ ও পরে এলাকাবাসীর সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন প্রার্থীরা।

দুই শতাধিক আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে খেলাফত মজলিস।প্রার্থী এখনো চূড়ান্ত করেনি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। আসনপ্রতি তিনজন করে প্রার্থী বাছাই করা রয়েছে দলটির। 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে এনিসিপি।  প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ করছে বলে জানা গেছে। তৃণমূল পর্যায়ে দলকে শক্তিশালী করা এবং নির্বাচনের জন্য সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ করবে দলটি। প্রার্থী মনোনয়নের বিষয়ে তরুণদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি, পেশা ও সব বয়সের যোগ্য প্রার্থীকে সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিচ্ছে তারা। এ ছাড়া জাতীয় নির্বাচনের জন্য প্রার্থী বাছাই এবং দলের সাংগঠনিক কাঠামো শক্তিশালী করার লক্ষ্যে দ্রুত সময়ের মধ্যে একটি উপদেষ্টা পরিষদ গঠনের বিষয়েও ভাবছে দলটির শীর্ষ নেতারা। ঈদকে কেন্দ্র করে এনসিপিও ভোটের মাঠে নিজেদের শক্তি বাড়েনোর চেষ্টা করছে। নেতার ছুটছেন দেশের বিভিন্ন জেলায়।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়