‘আওয়ামী লিগ’ নামে নতুন রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন চেয়ে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আবেদন করা উজ্জল রায়ের সম্পর্কে চমকপ্রদ তথ্য উঠে এসেছে। তার দল গঠন নিয়েও এলাকায় চলছে নানা গুঞ্জন।
উজ্জ্বল রায় দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার হাবড়া ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামের নরেশ চন্দ্র রায়ের ছেলে। এমন আবেদনের পর থেকে লাপাত্তা উজ্জ্বল।
দিনাজপুরে তাকে এলাকার মানুষ উজ্জল রায় নয়, চেনেন ভিভিড সাহা নামে। আর তার বাবা-মায়ের দাবি, উজ্জল রায় একজন মানসিক রোগী। গত সাতদিন ধরে তিনি বাড়িতে নেই। তারা জানেন না ছেলে কোথায় আছে। তারা জানান, ২০১৬ সাল থেকে তার মানসিক ভারসাম্যহীনতার চিকিৎসা চলছে। তিনি কখনও কোনও রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন না।
নরেশ চন্দ্র রায় বলেন, আমার দুই ছেলে, এক মেয়ে। বড় ছেলে কনক চন্দ্র ইউএডিপিতে চাকরি করে। মেয়ে প্রতীমা রানীকে বিয়ে দিয়েছি দিনাজপুরে। ছোট ছেলে ভিভিড সাহা এসএসসি পাস করেছে চারবার ফেল করার পর। সে মানসিক ভারসাম্যহীন।
পারুল রায় বলেন, আমার ছেলের নাম উজ্জ্বল রায়। সে মানসিক রোগী। গত চার-পাঁচদিন ধরে সে বাড়িতে নেই। কোথায় আছে জানি না। সে ভিভিড হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম সংগঠন ইসকনে যাতায়াত করতো। এখন সে যায় না।
ভিভিড যে মানসিক ভারসাম্যহীন, প্রমাণ হিসেবে তিনি রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরোসার্জন ও নিউরো সার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. রাজ কুমার রায়ের চিকিৎসার ব্যবস্থাপত্র দেখান। নরেশ জানান, এসএসসি পাস করার পর ভিভিড ফুলবাড়ী টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজে ভর্তি হন। তিনি প্রতিষ্ঠানের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র।
নরেশ আরও বলেন, কেন, কীভাবে বা কি কারণে, কার পাল্লায় পড়ে ভিভিড এমন কাজ করেছে আমি জানি না। ভিভিড সাহার নাম ব্যবহার করে কেউ তাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে। সে একজন মানসিক রোগী। গত কয়েকদিন ধরে তাকে খুঁজেও পাচ্ছি না।
তবে এলাকাবাসী বলছে, ভিভিড বা উজ্জ্বল আওয়ামী লিগ নামে নতুন রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন চেয়ে আবেদন করে এখন গা-ঢাকা দিয়েছেন।
এসব বিষয়ে জানতে উজ্জ্বল বা ভিভিডের মোবাইল নম্বরে কল করা হলে সেটি বন্ধ পাওয়া গেছে।