শিরোনাম

প্রকাশিত : ২৭ মার্চ, ২০২৫, ০৫:৩৭ বিকাল
আপডেট : ৩০ মার্চ, ২০২৫, ০৭:০০ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

মেয়র হবো কিনা সেটা দলীয় সিদ্ধান্ত: ইশরাক হোসেন (ভিডিও)

২০২০ সালের ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের ফলাফল বাতিল করেছেন আদালত। ইশরাক হোসেনকে মেয়র ঘোষণা করে রায় দেওয়া হয়েছে। এ রায়ের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ইশরাক হোসেন বলেন, আমি মেয়র হতে পারবো বা মেয়র হিসেবে শপথ নেবো কিনা— সেটা সম্পূর্ণ দলীয় সিদ্ধান্ত।

বৃহস্পতিবার (২৭ মার্চ) ঢাকার মহানগর আদালত প্রাঙ্গণে এ কথা বলেন তিনি।

ইশরাক হোসেন আরও বলেন, ‘মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করছি। আমি ন্যায়বিচার পেয়েছি। আমি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের হয়ে ধানের শীষের মার্কা নিয়ে ২০২০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে অনুষ্ঠিত মেয়র পদে নির্বাচন করেছিলাম। পরবর্তীতে সারা বাংলাদেশ, জাতি দিনদুপুরে দেখেছেন ভোট ডাকাতি হয়েছে। প্রচারণার প্রথম থেকে আমরা অভিযোগ করে আসছিলাম, বিভিন্নভাবে আমাদের প্রচারণায় বাধাগ্রস্থ করা হচ্ছে। তখনকার বিএনপির কাউন্সিলর প্রার্থীদের বিনা মামলায় গ্রেফতার করে নিয়ে যাওয়া হয়। আমাদের মিছিলের ওপর হামলা করা হয়। বহু নেতাকর্মীকে মেরে রক্তাক্ত করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সর্বশেষ নির্বাচনের দিন মিডিয়ার ভাইদের নিয়ে সমস্ত কেন্দ্রে যাই। সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত তারা কেন্দ্রই খোলেনি। এরপর এক থেকে দেড় ঘণ্টার মতো কয়েকটা কেন্দ্র খোলা ছিল। পরবর্তীতে সমস্ত কেন্দ্র বন্ধ করে দেওয়া হয়। ব্যাপক কারচুপির মাধ্যমে ভোট জালিয়াতি করে আমার যে ভোট হয়েছিল, আমি যে সংখ্যক ভোট পেয়েছিলাম সেটি থেকে বেশি ভোট দেখানোর জন্য দিনব্যাপী তারা কারচুপি করে। সেই বিষয়ে আমরা তখনই মামলা করেছিলাম। আদালত আজ রায় দিলেন।'

তিনি বলেন, 'মূল বিষয় হচ্ছে আমি ন্যায়বিচার পেয়েছি। বাংলাদেশে ন্যায়বিচার ফিরে আসুক। একজন সাধারণ নাগরিকও যেন ন্যায়বিচার পায়। ন্যায়বিচারের যে ধারাটা শুরু হয়েছে খুনি, স্বৈরাচার, ফ্যাসিস্ট হাসিনার পতনের পর সেটির ধারা অব্যাহত থাকুক। সর্বস্তরে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে পারি এটাই আমাদের মূল উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য।'

এক প্রশ্নের জবাবে ইশরাক হোসেন বলেন, 'আমি অন্য নির্বাচনের বিষয়ে মন্তব্য করবো না। এই নির্বাচন নিয়ে মামলা করেছিলাম, লড়েছি। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ায় আইনি জটিলতা তৈরি করে রাখা হয়েছিল। হাসিনার  ভাতিজা তাপস নিজে আদালতে হস্তক্ষেপ করে মামলার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্থ করে বন্ধ করে রেখেছিল। ৫ আগস্টের পর আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে আদালতে সমস্ত তথ্য, সাক্ষ্য, প্রমাণাদি দিয়ে এবং মামলা লড়ে জিতেছি। অন্যান্য নির্বাচন নিয়ে মন্তব্য করা আমার বিষয় না।'

আরেক প্রশ্নের জবাবে বলেন, 'অতীতে নুরু কমিশন, হুদা কমিশন এবং আউয়াল কমিশন ছিল। এই কমিশনে যারা সাংবিধানিক পোস্টে ছিল আমি মনে করি, যে অগণতান্ত্রিক ধারায় বাংলাদেশ ধ্বংস করার চক্রান্ত হয়েছিলো, ফ্যাসিবাদী শাসন কায়েম হয়েছিল। সাংবিধানিক পদে যারা ছিল তারা অবশ্যই তাদের দায়িত্ব এড়াতে পারে না। সাংবিধানিকভাবে তাদের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল। তারা কোনও চাপে না পড়ে এবং কোনও কিছুর বশবর্তী না হয়ে কাজ করবে, কিন্তু সেটিতে তারা ব্যর্থ হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু করা উচিত।

অনিয়ম, দুর্নীতি ও অগ্রহণযোগ্যতার অভিযোগে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) নির্বাচন ও ফলাফল বাতিল চেয়ে ২০২০ সালের ৩ মার্চ মামলা করেছিলেন মেয়রপ্রার্থী ইশরাক হোসেন।

 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়