সূর্যের চারপাশে ঘূর্ণায়মান সাতটি গ্রহ—শনি, বুধ, নেপচুন, শুক্র, ইউরেনাস, বৃহস্পতি এবং মঙ্গল অবস্থান করবে একই সরলরেখায়। ২০৪০ সালের মধ্যে শেষবার এই বিরল মহাজাগতিক ঘটনা ঘটতে চলেছে মহাকাশের বুকে। মঙ্গলবার, বুধবার, বৃহস্পতিবার এবং শুক্রবার সূর্যাস্তের ঠিক পরেই সাতটি গ্রহ দেখার সর্বোত্তম সুযোগ মিলবে। চারটি গ্রহ - বুধ, শুক্র, বৃহস্পতি এবং মঙ্গল- খালি চোখে দৃশ্যমান হবে। শনি গ্রহটি দিগন্তের নীচে থাকায় এটি দেখা কঠিন হবে। অন্য দুটি গ্রহ ইউরেনাস এবং নেপচুন দেখতে আপনার একটি টেলিস্কোপের প্রয়োজন হবে। পরিষ্কার আকাশ থাকলে এই গ্রহগুলি দেখার সর্বোত্তম সুযোগ মিলবে।
তবে সাতটি গ্রহ দেখার জন্য সময় খুব সংক্ষিপ্ত । রয়্যাল অবজারভেটরি গ্রিনউইচের জ্যোতির্বিজ্ঞানী ডঃ এডওয়ার্ড ব্লুমার বলেন, ‘সাতটি গ্রহকে একসঙ্গে দেখার এটি একটি বিরল সুযোগ’।শেষবার এমন ঘটনা ঘটেছিল গত বছরের এপ্রিলে, যখন উত্তর আমেরিকার আকাশে পূর্ণ সূর্যগ্রহণ চলাকালীন এই সংযোগ দেখা গিয়েছিল। যদিও পুরো সংযোগটি ২৮ ফেব্রুয়ারি দেখা যাবে, এর আগে ২১ জানুয়ারি থেকে সাতটির মধ্যে ছয়টি গ্রহকে আকাশে একত্রে দেখা যাবে। পাঁচ বা ছয়টি গ্রহের সংযোগকে সাধারণত বড় সংযোগ বলা হয়, তবে সাতটি গ্রহের সংযোগ অত্যন্ত বিরল ঘটনা। পৃথিবীসহ আমাদের সৌরজগতের আটটি মূল গ্রহ একই কক্ষপথে থেকে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে থাকে। তবে তাদের প্রদক্ষিণ করার গতি ভিন্ন ভিন্ন হয়। সূর্যের সবচেয়ে কাছের গ্রহ বুধ ৮৮ দিনে একবার প্রদক্ষিণ করে থাকে। অর্থাৎ গ্রহটিতে ৮৮ দিনে ১ বছর হয়।
আবার সূর্যকে প্রদক্ষিণ করতে পৃথিবীর সময় লাগে ৩৬৫ দিন। আর নেপচুনের সময় লাগে ৬০ হাজার ১৯০ দিন। অর্থাৎ নেপচুন গ্রহের এক বছরের মানে হলো পৃথিবীর প্রায় ১৬৫ বছর। গ্রহগুলোর গতি ভিন্ন ভিন্ন হওয়ায় কখনো কখনো কিছু গ্রহ সূর্যের একই পাশে সারিবদ্ধ হয়ে প্রদক্ষিণ করতে থাকে। গ্রহগুলো যদি সূর্যের ডান দিকে থেকে প্রদক্ষিণ করতে থাকে, তখন সেগুলো পৃথিবী থেকে দৃশ্যমান হয়। অর্থাৎ আমরা রাতের আকাশে একসঙ্গে কয়েকটি গ্রহকে দেখতে পাই।
তবে মাঝেমধ্যে বিরল ঘটনা ঘটে। এই সময় সব কটি গ্রহ এমনভাবে একই রেখায় অবস্থান করে যে এগুলোকে একসঙ্গে পৃথিবী থেকে দেখা যায়।সাধারণত জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে রাতের আকাশ পরিষ্কার থাকলে বুধ ছাড়া সব কটি গ্রহই পৃথিবী থেকে দৃশ্যমান হয়। একে গ্রহের কুচকাওয়াজ (প্ল্যানেটারি প্যারেড) বলেও ডাকা হয়ে থাকে। সূত্র : বিবিসি