সালেহ্ বিপ্লব: [২] নেদারল্যান্ডসে বাংলাদেশ দূতাবাস ৪০টিরও বেশি ডাচ এনজিও থেকে ৬০ জন প্রতিনিধিকে নিয়ে তৃতীয় এনজিও কনক্লেভ আয়োজন করে। এই সংস্থাগুলো বাংলাদেশে নারী ও শিশু, জলবায়ু অভিযোজন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পানি, কৃষি এবং মানসিক স্বাস্থ্যের মতো বিষয়গুলোতে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।
[৩] দূতাবাসের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নেদারল্যান্ডসে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মু. রিয়াজ হামিদুল্লাহ এই কনক্লেভ সঞ্চালনা করেন। ডাচ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক (আন্তর্জাতিক সহযোগিতা) রাষ্ট্রদূত প্যসকেল খ্রোটেনহাউস এবং রাষ্ট্রদূত (এশিয়া ও ওশেনিয়া) ওয়াউটার ইয়োর্খেন এতে বক্তব্য রাখেন।
[৪] রাষ্ট্রদূত হামিদুল্লাহ বিশদভাবে তুলে ধরেন কীভাবে দুটি বদ্বীপের মানুষ সক্ষমতা এবং জ্ঞানের পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও উদ্ভাবন, সহনশীলতা এবং উন্নয়ন উদ্যোগের ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধি করতে পারে।
[৫] ডাচ এনজিওগুলোকে ‘বাংলাদেশের জনগণের বন্ধু’ আখ্যায়িত করে তিনি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে ডাচ এনজিওগুলো কীভাবে বাংলাদেশে আরও নিয়োজিত হতে পারে তার ক্ষেত্র ও ধারণাগুলো তুলে ধরেন।
[৬] রাষ্ট্রদূত প্যসকেল তার মূল বক্তব্যে কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশের অর্জনের ভূয়সী প্রশংসা করেন। ঝুঁকিপূর্ণ জনসংখ্যার সুরক্ষা ও জীবিকা অর্জনের জন্য একটি সামাজিক-অর্থনৈতিকভাবে অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনে তার চিন্তাভাবনা উপস্থাপন করেন।
[৭] প্যানেল আলোচনায় ডাচ সরকারি সংস্থা, বিশ্ববিদ্যালয় এবং এনজিও থেকে ১০ জন ডাচ বিশেষজ্ঞ এবং উন্নয়নকর্মী অংশ নেন। তারা জলবায়ু পরিবর্তন কীভাবে তৃণমূল, নারী, শিশু ও যুবকদের প্রভাবিত করে এমন বিষয়গুলোর ওপর আলোচনা করেছেন। বাংলাদেশের অর্থনীতির ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা, সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের পাশাপাশি রূপান্তরকারী সম্ভাবনা পরীক্ষণের সুযোগ এবং সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে তারা আলোচনা করেন। জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ জনসংখ্যার জন্য জীবিকার বিকল্প তৈরি করতে প্রযুক্তি-চালিত সমাধান প্রবর্তনও তাদের আলোচনায় প্রাধান্য পায়।
[৮] নেদারল্যান্ডস ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন কালেকশন (এনআইসিসি) বাংলাদেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে ডাচ এনজিও ও উন্নয়ন সংস্থাগুলোর সম্পৃক্ততার একটি সময়রেখা তুলে ধরে। কনক্লেভ-এ অংশগ্রহণকারী ডাচ এনজিও এবং অন্যরা বাংলাদেশের ‘উন্মুক্ত ও উদার নৈতিক মূল্যবোধ’ এবং টেকসই সমাধান, সামাজিক সংহতি ও জলবায়ু স্থিতিস্থাপকতা নিশ্চিতকরণে একটি ‘জীবন্ত গবেষণাগার’ হিসেবে বাংলাদেশের অবদানের প্রশংসা করেন।
এসবি/এসবি২