শিরোনাম
◈ হঠাৎ উত্তপ্ত সিলেট: একদিনে আওয়ামী লীগের ৪ নেতার বাসায় হামলা ◈ যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক আরোপ পর্যালোচনা করছে বাংলাদেশ: শফিকুল আলম ◈ ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে পেঁয়াজ তোলা নিয়ে সংঘর্ষ, আহত ১০ ◈ ফরিদপুরে ক্রিকেট খেলাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে ১০ জন আহত ◈ আবার বিতর্কে মরিনিও, এবার টিপে দিলেন প্রতিপক্ষ কোচের নাক! ◈ বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ৩৭% শুল্ক আরোপ করল যুক্তরাষ্ট্র ◈ ব্যাটিং উইকেটে যেন আমরা আরও ভালো করতে পারি সেটাই লক্ষ্য থাকবে : জ্যোতি ◈ ‘রিয়ালে রোনালদোর কৃতিত্বকে স্পর্শ করতে পারবে এমবাপ্পে’ ◈ যশোর-বেনাপোল মহাসড়কে প্রাইভেটকার-মটরসাইকেল দূর্ঘটনায় নিহত ২ ◈ বাংলাদেশসহ যেসব দেশে যে পরিমাণ শুল্ক আরোপ করলেন ট্রাম্প, যা জানাগেল

প্রকাশিত : ২৯ মার্চ, ২০২৫, ১১:৪৬ দুপুর
আপডেট : ০২ এপ্রিল, ২০২৫, ১১:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

রোহিঙ্গাদের সশস্ত্র সংগ্রামের প্রস্তুতি ও আরসা প্রধানের গ্রেফতার নতুন সংকটের ইঙ্গিত

উখিয়া-টেকনাফ রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে নতুন এক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। হাজারো রোহিঙ্গা মিয়ানমারে ফিরে গিয়ে সেনাবাহিনী ও বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রামের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলেও খবর পাওয়া গেছে।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ভেতরে বিভিন্ন গোষ্ঠী বিভক্ত হয়ে গেছে। বাইরের বা মিয়ানমারের কিছু গোষ্ঠী যোগাযোগ করে রোহিঙ্গাদের বিভক্ত করেছে। আরসা সদস্যরা গত ৫ আগস্টের পর থেকে আরসা প্রধান গ্রেফতারের আগ পর্যন্ত আরএসও সদস্য ও ক্যাম্প মাঝিসহ শতাধিক রোহিঙ্গাকে হত্যা করেছে বলে উখিয়া থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আরিফ হোছাইন জানিয়েছেন। উখিয়া-টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে প্রাণহানির ঘটনা বেড়েই চলেছে। ক্যাম্পগুলোতে প্রতিনিয়ত অস্ত্রের এমন ঝনঝনানিতে আরসা প্রধান গ্রেফতারের খবরে স্বস্তি ফিরে এসেছে। আতাউল্লাহ গ্রেফতারের পর থেকে ক্যাম্পে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া নজরদারি এবং সাধারণ রোহিঙ্গাদের সাথে আরএসওর তীঘ্ন দৃষ্টির ফলে ক্যাম্পে অস্থিরতা থেমে গেছে।

তবে উখিয়া-টেকনাফ রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে নতুন এক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। হাজারো রোহিঙ্গা মিয়ানমারে ফিরে গিয়ে সেনাবাহিনী ও বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রামের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলেও খবর পাওয়া গেছে।

এ দিকে সম্প্রতি আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (আরসা)-এর প্রধান আতাউল্লাহ আবু আম্মার জুনুনির গ্রেফতারের ফলে ক্যাম্পে অস্থিরতা আরো বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কায় ছিলেন সাধারণ রোহিঙ্গারা। তবে আরসার প্রতিপক্ষ আরএসওর শক্ত অবস্থানের ফলে আরসা সদস্যরা তেমন সুযোগ সৃষ্টি করতে পারেনি। ক্যাম্পে এরা নানাভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে। সাধারণ রোহিঙ্গারা আরসার সন্ত্রাসী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে এখন অনেকটা সোচ্চার দেখা গেছে।

২০১৭ সালে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর নির্যাতন থেকে বাঁচতে ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। কক্সবাজারের কুতুপালং ক্যাম্পে অবস্থানরত হাজার হাজার রোহিঙ্গা এখন মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও অন্যান্য বিদ্রোহী দলের বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে। তারা ক্যাম্প থেকে পালিয়ে মিয়ানমারের গভীর জঙ্গলে গিয়ে অস্ত্র ও যুদ্ধ কৌশল শিখছে।

২৫ বছর বয়সী রোহিঙ্গা যুবক মোহাম্মদ আয়াস জানান, তিনি ছয় মাস জঙ্গলে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। প্রতিদিন তাঁবু স্থানান্তর করে অবস্থান বদলানো হতো যাতে ধরা না পড়েন। সকালে বাঁশির আওয়াজে ঘুম ভাঙত, তারপর শুরু হতো শারীরিক প্রশিক্ষণ। এরপর ভাগ হয়ে কেউ অস্ত্র, গোলাবারুদ ও মার্শাল আর্ট শিখতেন, কেউ শিখতেন প্রযুক্তিগত দক্ষতা—যেমন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার, শত্রু নজরদারি ও কৌশলগত তথ্য সংগ্রহ।

আয়াস বলেন, "আমরা প্রস্তুত। আমি আমার জনগণের জন্য মরতে প্রস্তুত। নিজ মাতৃভূমিকে পুনরুদ্ধার, মিয়ানমারে আমাদের অধিকার ও স্বাধীনতার যুদ্ধে আমার কী হবে, এ নিয়ে আমি ভাবি না।

সম্প্রতি বাংলাদেশের নিরাপত্তা বাহিনী নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে অভিযান চালিয়ে আরসা প্রধান আতাউল্লাহ আবু আম্মার জুনুনিকে গ্রেফতার করে। তার বিরুদ্ধে অবৈধ অনুপ্রবেশ, নাশকতা ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ আনা হয়েছে। গ্রেফতারের সময় তার কাছ থেকে নগদ অর্থ, একটি ছুরি এবং কিছু অন্যান্য সামগ্রী উদ্ধার করা হয়।

জুনুনির গ্রেফতারের পর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কিছু রোহিঙ্গা তার মুক্তি দাবি করছেন, আবার অনেকেই তার গ্রেফতারে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন, কারণ তার বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা, খুন ও অপহরণসহ বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। ক্যাম্পে অস্থিরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ রোহিঙ্গারা নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।

জুনুনির গ্রেফতারের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সীমান্ত এলাকায় বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফিরে গিয়ে যুদ্ধের প্রস্তুতি এবং আরসা প্রধানের গ্রেফতারের ফলে সৃষ্ট অস্থিরতা বাংলাদেশের জন্য নতুন সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে। স্থানীয়রা উদ্বিগ্ন যে, এই পরিস্থিতি সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা হুমকি সৃষ্টি করতে পারে এবং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড আরো বৃদ্ধি পেতে পারে।

রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় মিয়ানমারের সামরিক নেতাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে চেষ্টা করছে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) প্রধান প্রসিকিউটর মিয়ানমারের সামরিক নেতা মিন অং হ্লাইং-এর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আবেদন করেছেন, যার মধ্যে রোহিঙ্গা মুসলিম সংখ্যালঘুর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ রয়েছে।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল ও সংবেদনশীল। মিয়ানমারে যুদ্ধের প্রস্তুতি, আরসা প্রধানের গ্রেপ্তার এবং সীমান্তে উত্তেজনা বাংলাদেশের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে। এই সংকট মোকাবিলায় সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা প্রয়োজন। নয়া দিগন্ত

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়