মাসুদ আলম : জননিরাপত্তা বিধান ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে ঢাকা মহানগর এলাকায় পুলিশি কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে ডিএমপিসহ অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে সমন্বিত চেকপোস্ট ও টহল কার্যক্রম বৃদ্ধি করা হয়েছে।
বুধবার ডিএমপির ক্রাইম কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ ঘন্টায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ৫০টি থানা এলাকায় জননিরাপত্তা বিধানে ডিএমপির ৫০০টি টহল টিম দায়িত্ব পালন করে। এছাড়া মহানগর এলাকার নিরাপত্তা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত স্থানে ডিএমপি কর্তৃক ৬৫টি পুলিশি চেকপোস্ট পরিচালনা করা হয়।
জননিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় ডিএমপির টহল টিমের পাশাপাশি মহানগরীর বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ স্থানে সিটিটিসির ১৪টি, অ্যান্টি টেরোরিজম ইউনিট (এটিইউ) এর ১২টি এবং ডিএমপির সাথে র্যাবের ১০টি টহল টিম দায়িত্ব পালন করে। এছাড়াও ডিএমপির চেকপোস্টের পাশাপাশি পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট এপিবিএন কর্তৃক ২০টি চেকপোস্ট পরিচালনা করা হয়।
গত ২৪ ঘন্টায় মহানগরীর বিভিন্ন স্থানে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত মোট ২৮৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রয়েছে ২৯ জন ডাকাত, ২৮ জন পেশাদার সক্রিয় ছিনতাইকারী, ছয়জন চাঁদাবাজ, ১০ জন চোর, ১৯ জন চিহ্নিত মাদক কারবারি, ৪৫ জন পরোয়ানাভূক্ত আসামিসহ অন্যান্য অপরাধে জড়িত অপরাধী।
অভিযানে গ্রেফতারকৃতদের হেফাজত হতে বিভিন্ন অপরাধে ব্যবহৃত একটি রামদা, চারটি চাকু, দুটি সামুরাই, একটি কাটিং প্লায়ার্স, দুটি ছুরি, একটি শাবল, দুটি রড, সাংবাদিকতার দুটি ভুয়া আইডি কার্ড, দুটি মোটরসাইকেল, দুই কেজি ৯০০ গ্রাম তামার তার, ১৭ টি চাবি, একটি সুইচ, তিনটি দড়ি, পাঁচটি মোবাইল, ১২টি বিদেশী নোট, একটি স্বর্ণের চেইন, দুটি ওভেন, একটি ফ্রিজ, দুটি ব্লেনডার, দুটি সাব-মেশিন, একটি জুস সিল মেশিন, একটি সাউন্ড বক্স ও নগদ আট লাখ ১৩ হাজার ৪৭০ টাকা উদ্ধার করা হয়। এছাড়া অভিযানে উদ্ধারকৃত মাদকের মধ্যে রয়েছে ১০ হাজার ৩০২ পিস ইয়াবা, এক কেজি ১৪০ গ্রাম গাঁজা, দুই ক্যান বিয়ার ও দুই বোতল ফেনসিডিল। গত ২৪ ঘন্টায় ডিএমপির বিভিন্ন থানায় ৬৮টি মামলা রুজু করা হয়। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
ঢাকা মহানগরবাসীর সার্বিক নিরাপত্তা ও নির্বিঘ্নে চলাচল নিশ্চিত করতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।