শিরোনাম
◈ বিশ্বকে পরিবর্তন করতে হলে আগে নিজের গ্রাম থেকে পরিবর্তন শুরু করো: প্রধান উপদেষ্টা ◈ এবার বঙ্গোপসাগরের দীর্ঘতম উপকূলরেখা নিজেদের দাবি করল ভারত ◈ বাংলাদেশকে আসিয়ানে কেন যোগ দেওয়া উচিত: দ্য ডিপ্লোম্যাটের প্রতিবেদন ◈ বাংলাদেশের জন্য বেদনাদায়ক ট্রাম্পের শুল্ক আরোপ: নিউ ইয়র্ক টাইমসের সাংবাদিক ◈ এবার দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে মুখ খুললেন টিউলিপ সিদ্দিক ◈ বিমসটেক সম্মেলন: মোদির টুইটে নেই ড. ইউনূসের সঙ্গে বৈঠকের প্রসঙ্গ ◈ বাংলাদেশ-চীন-পাকিস্তান কূটনীতি জোরদার, পিছিয়ে ভারত ◈ মহুয়া কমিউটার ট্রেনে আগুন, বন্ধ ঢাকা-ময়মনসিংহ রেল যোগাযোগ ◈ ইসরায়েলের বিমান হামলায় কেঁপে উঠল দামেস্ক ও হামা ◈ হঠাৎ উত্তপ্ত সিলেট: একদিনে আওয়ামী লীগের ৪ নেতার বাসায় হামলা

প্রকাশিত : ০২ এপ্রিল, ২০২৫, ০৬:৩৪ বিকাল
আপডেট : ০৩ এপ্রিল, ২০২৫, ০৪:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

পারস্পারিক শুল্ক নীতি ট্রাম্পের, ভারত-বাংলাদেশসহ আরও যেসব দেশ ক্ষতির মুখে পড়বে

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত “পারস্পারিক” শুল্ক নীতি বুধবার (২ এপ্রিল) থেকে কার্যকর হচ্ছে। গত রোববার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ নিয়ে সতর্ক করে বলেছিলেন এর দ্বারা সমস্ত দেশ আক্রান্ত হবে। খবর আল জাজিরা 

একই সময়ে গত সোমবার তিনি বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আমদানিকৃত পণ্যের ওপর অন্যান্য দেশ যে শুল্ক আরোপ করে, সেক্ষেত্রে তার দেশের আরোপিত শুল্ক অনেক কম। 

ট্রাম্প ২ এপ্রিলকে মার্কিন বাণিজ্যের জন্য ‘লিবারেশন ডে’ হিসেবে ঘোষণা করেছেন। তবে তার ন্যায্য ও পারস্পরিক পরিকল্পনার বিস্তারিত বিবরণ এখনও অস্পষ্ট রয়ে গেছে।

ন্যায্যতা এবং পারস্পারিক পরিকল্পনা কী? 

গত ১৩ ফেব্রুয়ারি ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি পণ্যের ওপর অন্যান্য দেশের আরোপিত শুল্ক এবং বাণিজ্য নীতি পুন বিবেচনা করবেন। যাকে তিনি ন্যায্যতা ও পারস্পারিক পরিকল্পনা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। যাতে বলা হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র একই ধরনের শুল্ক আরোপ করবে, অন্যান্য দেশ যে পরিমাণ শুল্ক মার্কিন পণ্যের ওপর আরোপ করে। 

ট্রাম্পের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য অংশীদার অনেক দেশ কম শুল্ক আরোপের কারণে বেশি সুবিধা পেয়ে থাকে। অথচ এসব দেশ মার্কিন পণ্যের ওপর বেশি শুল্ক আরোপ করে রেখেছে। 

পারস্পারিক শুল্ক নীতি আরোপের ফলে সবচেয়ে বেশি সমস্যার সম্মুখীন হবে উদীয়মান অর্থনীতির দেশ আফ্রিকা, ল্যাটিন আমেরিকা, দক্ষিণ এশিয়া এবং দক্ষিণপূর্ব এশিয়া। 

উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলো মূলত নিজস্ব শিল্পকারখানার উন্নয়ন এবং প্রতিষ্ঠিত বিদেশি প্রতিযোগিতার মাঝে দেশীয় সেক্টরকে টিকিয়ে রাখতে পণ্য রপ্তানিতে বেশি শুল্ক আরোপ করে। 

ট্রাম্পের লক্ষ্য হলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি কমানো এবং দেশীয় শিল্পকে শক্তিশালী করা। এছাড়া মার্কিন ব্যবসায়ীদের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বৃদ্ধি করার পাশাপাশি শুল্ক থেকে অতিরিক্ত রাজস্ব আয় করে ভবিষ্যতে কর হ্রাসের পরিকল্পনা করা। 

তবে, বিশেষজ্ঞরা ট্রাম্পের এ ধরনের শুল্ক আরোপ নীতি সমালোচনা করে বলেন, এর ফলে বাণিজ্য যুদ্ধ শুরু হতে পারে এবং মার্কিনদের ক্ষেত্রে পণ্যের দাম অনেক বেড়ে যেতে পারে। 

সবচেয়ে বাণিজ্য ঘাটতি কোন দেশে? 

বিশ্বে সবচেয়ে বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। ২০২৩ সালের উপাত্তে দেখা গেছে, ওই বছর যুক্তরাষ্ট্র রপ্তানি পণ্যের তুলনায় ১.১ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি পণ্য আমদানি করে। ২০১৯ সাল থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েই চলছে। গত চার বছরে দেশটিতে প্রায় ১ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে। 

২০২৩ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দ্বিতীয় বাণিজ্য ঘাটতিতে রয়েছে যুক্তরাজ্য। দেশটির বাণিজ্য ঘাটতি ২৭১ বিলিয়ন ডলার। এছাড়া ভারতের ২৪১ বিলিয়ন ডলার, ফ্রান্সের ১৩৭ বিলিয়ন ডলার এবং তুরস্কের ১০৬ বিলিয়ন ডলার। 

মার্কিন ডলার বিশ্বের রিজার্ভ মুদ্রা হিসেবে যে ভূমিকা পালন করে, তা আংশিকভাবে উন্মুক্ত বাণিজ্য ও মূলধন প্রবাহের মাধ্যমে টিকে আছে। কিছু অর্থনীতিবিদ মনে করেন, বাণিজ্যে ভারসাম্যহীনতা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য আর্শীবাদ। কারণ এটি বৈশ্বিক বাজারে ডলারের চাহিদা বজায় রাখে

কোন দেশের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সবেচেয়ে বেশি বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে

২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ৯২টি দেশের বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে, এছাড়া বাণিজ্য উদ্ধৃত্ত রয়েছে ১১১টি দেশের সঙ্গে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সবচেয়ে বড় বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে- চীন, মেক্সিকো এবং ভিয়েতনামের সঙ্গে। চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ২৯৫ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে। এছাড়া মেক্সিকোর সঙ্গে ১৭২ বিলিয়ন ডলারের এবং ভিয়েতনামের সঙ্গে ১২৩ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে। 

বিমসটেক সদস্যদের বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করার আহ্বান ঢাকার
সাত বছর আগে চীনের ওপর শুল্ক আরোপ সত্ত্বেয় দেশটির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বেশি বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে। এর কারণ চীনের পণ্যের ওপর মার্কিন ভোক্তাদের চাহিদা এবং বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে (গ্লোবাল সাপ্লাই চেইন) চীনের ওপর মার্কিন কোম্পানিগুলোর নির্ভরতা। 

২০১৮ সালের মার্চে চীনের ওপর প্রথম শুল্ক আরোপ করেন ট্রাম্প। ওই সময়ে ট্রাম্প চীনের ওপর বুদ্ধিভিত্তিক সম্পত্তি চুরি এবং ব্যবসায়ীক অগ্রগতিকে টেনে ধরতে এমন পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। পরবর্তীতে সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন চীনের ওপর আরোপিত এই শুল্ক বহাল রাখেন এবং কিছু ক্ষেত্রে শুল্ক আরো বৃদ্ধি করেন। অনুবাদ: চ্যানেল২৪

 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়