শিরোনাম
◈ বাংলাদেশ-চীন-পাকিস্তান কূটনীতি জোরদার, পিছিয়ে ভারত ◈ দায়িত্ব ছাড়ছেন ইলন মাস্ক, মন্ত্রিসভাকে বলেছেন ট্রাম্প: পলিটিকো ◈ ইসরায়েলের বিমান হামলায় কেঁপে উঠল দামেস্ক ও হামা ◈ এবার নাগরিকত্ব পাওয়া নিয়ে দুঃসংবাদ দিল ইতালি, যা রয়েছে নতুন আইনে ◈ হঠাৎ উত্তপ্ত সিলেট: একদিনে আওয়ামী লীগের ৪ নেতার বাসায় হামলা ◈ যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক আরোপ পর্যালোচনা করছে বাংলাদেশ: শফিকুল আলম ◈ ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে পেঁয়াজ তোলা নিয়ে সংঘর্ষ, আহত ১০ ◈ ফরিদপুরে ক্রিকেট খেলাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে ১০ জন আহত ◈ আবার বিতর্কে মরিনিও, এবার টিপে দিলেন প্রতিপক্ষ কোচের নাক! ◈ বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ৩৭% শুল্ক আরোপ করল যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশিত : ০২ এপ্রিল, ২০২৫, ০১:০৯ দুপুর
আপডেট : ০৩ এপ্রিল, ২০২৫, ১২:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

যে কারণে সন্তানদের ১ শতাংশও সম্পদের ভাগ দিবেন না বিল গেটস!

সন্তানদের সম্পত্তির ১ শতাংশের কম দেওয়ার পরিকল্পনা করেছেন মাইক্রোসফট-এর প্রতিষ্ঠাতা ও বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ধনী বিল গেটস। কারণ তিনি বিশ্বাস করেন, সন্তানদের উত্তরাধিকার হিসেবে বিশাল সম্পদ পাওয়ার চেয়ে নিজের প্রচেষ্টায় সফলতা অর্জন করা উচিৎ। 

প্রযুক্তি জগতের প্রভাবশালী পরিবারের মধ্যে এই প্রবণতা সাধারণ। যেমন অ্যাপল প্রতিষ্ঠাতা স্টিভ জবস এবং আমাজনের জেফ বেজোস তাদের সন্তানদের জন্য সম্পদ না রেখে, দানশীলতা কেই প্রাধান্য দিয়েছিলেন।

ব্লুমবার্গ বিলিয়নিয়ারস ইনডেক্স অনুযায়ী, গেটসের মোট সম্পদের পরিমাণ ১৬২ বিলিয়ন ডলার। যার ১ শতাংশ হলো, ১.৬২ বিলিয়ন ডলার।

তাহলে, তিনজন গেটস সন্তানই তাদের বাবার মতো সম্পদশালী না হলেও, তাদের সম্পদ এখনও সম্ভবত তাদেরকে বিশ্বের শীর্ষ ১ শতাংশ ধনীর মাঝে স্থান করে দেবে। বৈশ্বিক রিয়েল এস্টেট পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নাইট ফ্র্যাঙ্ক গেটস-এর সন্তানদের ৫.৮ মিলিয়ন ডলার বা তার বেশি সম্পদের অধিকারী হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

এই সপ্তাহে ফিগারিং আউট উইথ রাজ শামানি পডকাস্টে কথা বলতে গিয়ে গেটস বলেছেন, ধনী পরিবারের উত্তরাধিকার সংক্রান্ত সিদ্ধান্তগুলো তাদের ব্যক্তিগত বিশ্বাসের ওপর নির্ভর করে।

গেটস শুরুতে বলেন, "প্রত্যেকেই এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারে।" তারপর যোগ করেন, "আমার ক্ষেত্রে আমার সন্তানরা দারুণ একটি বেড়ে ওঠার পরিবেশ এবং শিক্ষা পেয়েছে। কিন্তু তাদের মোট সম্পদের পরিমাণ ১ শতাংসের কম, কারণ আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম যে এটি তাদের জন্য সুবিধাজনক হবে না।"

তিনি বলেন, "এটা একটি রাজবংশের ব্যাপার নয়। আমি তাদের মাইক্রোসফট চালাতে বলছি না। আমি তাদের নিজেদের উপার্জন করার এবং সাফল্য অর্জনের সুযোগ দিতে চাই।"

গেটস পূর্বে ডেইলি মেইলে বলেছিলেন, তিনি তার সন্তানদের ১০ মিলিয়ন ডলার করে দেবেন। তিনি আরও বলেছিলেন, তাদের বেশি সম্পদ দেওয়াটা তাদের জন্য সুবিধাজনক হবে না। তবে, তখন থেকে তার ইচ্ছার পরিবর্তন হয়েছে কি না এবং তিনি সন্তানদের ১ শতাংশ সম্পদ দেওয়ার সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন কিনা, তা স্পষ্ট নয়।

এই সপ্তাহে শামানির সাথে কথা বলতে গিয়ে গেটস আরও বলেছেন, তিনি চান তার সন্তানরা নিজেদের মধ্যে "গুরুত্বপূর্ণ" হয়ে উঠুক এবং "তাদের বাবার অদ্ভুত সৌভাগ্য ও ভাগ্যের চাপ অনুভব না করুক।"

তিনি বলেন, "আপনি কখনোই চান না, আপনার সন্তানরা আপনার সমর্থন এবং ভালোবাসা নিয়ে বিভ্রান্ত হোক। তাই আমি মনে করি, শুরু থেকেই আপনার দৃষ্টিভঙ্গি ব্যাখ্যা করা গুরুত্বপূর্ণ। আপনি তাদের সবার সাথে একই আচরণ করবেন এবং অসাধারণ সুযোগ দেবেন। তবে এই সম্পদের সর্বোচ্চ উদ্দেশ্য হলো, অভাবীদের কাছে ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে এটি দান করা।"

গেটসের সন্তানরা তাদের বাবা-মাকে পোলিও, স্যানিটেশন এবং প্রাণঘাতী রোগের জন্য প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিনের মতো বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করতে দেখেছে। গেটস আশা করেন, এসেব দেখে তার সন্তানরা "গর্বিত" হবে।

তিনি আরও বলেন, "আমি এমন কিছু পরিস্থিতি দেখেছি যেখানে সন্তানরা তাদের বাবা-মাকে আরও দানশীল হওয়ার জন্য বলে। আমি মনে করি, কিছু ক্ষেত্রে তরুণ প্রজন্ম আসলে এই ধারণার বিপরীতে অবস্থান নিচ্ছে যে, সম্পদ শুধু উত্তরাধিকার হিসেবে পরবর্তী প্রজন্মকে দেওয়া হবে।"

বিলিয়নিয়ার বিল গেটস একমাত্র প্রযুক্তি উদ্যোক্তা নন যিনি তার বিশাল সম্পদ তার সন্তানদের কাছে না দেওয়ার পরিকল্পনা করেছেন।

প্রয়াত অ্যাপল প্রতিষ্ঠাতা স্টিভ জবসের স্ত্রী লরেন পাওয়েল জবস বলেছেন, তিনি তার স্বামীর কাছ থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া বিলিয়ন ডলার তার তিন সন্তানকে দেবেন না।

জবস ২০১১ সালে মারা যাওয়ার সময় আনুমানিক ৭ বিলিয়ন ডলার সম্পদের মালিক ছিলেন। তার স্ত্রী ২০২০ সালে নিউ ইয়র্ক টাইমসকে জানিয়েছিলেন, জবস "পরম্পরা ধরে ধনসম্পদ তৈরি করতে আগ্রহী ছিলেন না।" 

লরেন বলেন, "আমি আমার স্বামীর কাছ থেকে সম্পদ পেয়েছি, যিনি ধনসম্পদের সংগ্রহে আগ্রহী ছিলেন না। আমি তার কাজের সম্মানে এটি করছি, এবং আমি আমার জীবন উৎসর্গ করেছি এটি কার্যকরভাবে বিতরণ করার জন্য, এমন উপায়ে যা ব্যক্তি এবং সম্প্রদায়গুলোকে দীর্ঘ মেয়াদে সাহায্য করবে।"

তিনি আরও বলেন, "যদি আমি যথেষ্ট সময় বাঁচি, তবে এটি আমার সঙ্গেই শেষ হবে।"

অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোসও একইভাবে বলেছেন, তিনি তার বিশাল সম্পদের বেশিরভাগই দান করবেন।  সূত্র: বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়