২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে চলমান সামরিক অভিযানে ৫০,০০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে মার্কিন আইনপ্রণেতারা বলছেন, ইসরাইলকে অস্ত্র সরবরাহ করা অনৈতিক।
মার্কিন কংগ্রেসের একদল আইনপ্রণেতা ইসরাইলে বড় ধরনের অস্ত্র বিক্রি বন্ধ করার জন্য একটি বিল উত্থাপন করেছেন। তারা গাজায় বেসামরিক হত্যাকাণ্ড এবং আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে।
এই উদ্যোগের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য প্রমিলা জয়পাল ও রাশিদা তালিব। রাশিদা তালিব কংগ্রেসের প্রথম ফিলিস্তিনি-আমেরিকান নারী সদস্য। তারা চারটি আলাদা প্রস্তাবনা দিয়েছেন, যা নির্দিষ্ট কিছু অস্ত্র বিক্রি ঠেকানোর লক্ষ্যে করা হয়েছে।
এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে ইসরাইল ৩৫,৫২৯টি শক্তিশালী ২,০০০ পাউন্ড ওজনের বোমা, বিভিন্ন ধরণের গাইডেন্স সিস্টেম, হাজার হাজার অতিরিক্ত বোমা ও সাঁজোয়া বুলডোজার পাবে না। এই বুলডোজারগুলো ফিলিস্তিনি বাড়িঘর ধ্বংস করতে ব্যবহৃত হয়েছে।
প্রমিলা জয়পাল বলেছেন, ‘ইসরাইলি সরকার আন্তর্জাতিক ও মার্কিন আইন লঙ্ঘন করেই সামরিক অভিযান চালাচ্ছে। এই অবস্থায় তাদের আক্রমণাত্মক অস্ত্র দেওয়া অগ্রহণযোগ্য। এটি আমাদেরও এই সহিংসতার অংশীদার করে তোলে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের আলোচনার মাধ্যমে একটি যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছাতে হবে, যাতে গাজায় মানবিক সহায়তা প্রবেশ করতে পারে, বন্দিদের মুক্তি নিশ্চিত হয় এবং অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠিত হয়।’
এই উদ্যোগ অবশ্য নতুন নয়। এর আগেও মার্কিন কংগ্রেস সদস্যরা ইসরাইলে অস্ত্র বিক্রি বন্ধের চেষ্টা করেছেন। তবে ট্রাম্প প্রশাসন বরাবরই ইসরাইলের সামরিক অভিযানকে সমর্থন দিয়েছে। তারা বলছে, এই অস্ত্র ইসরাইলের আত্মরক্ষার জন্য জরুরি।
কংগ্রেসে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় ডেমোক্র্যাটদের এই প্রস্তাব পাশ হওয়ার সম্ভাবনা কম। এই নিষেধাজ্ঞা আর্টস এক্সপোর্ট কন্ট্রোল অ্যাক্টের আওতায় এসেছে, যা কংগ্রেসকে বিদেশি অস্ত্র বিক্রির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দেয়। তবে প্রেসিডেন্টরা জরুরি জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাতে এই বিধিনিষেধ এড়িয়ে যেতে পারেন।
গাজায় মানবিক সংকট আরও প্রকট হচ্ছে। আন্তর্জাতিক আদালতগুলো ইসরাইলের সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে তদন্ত বাড়িয়েছে। গত নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ও সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গালান্টের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। ইসরাইলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগে আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালতে একটি মামলাও চলছে।