চলতি রমজান মাসে আবুধাবিজুড়ে ২৩৭ জন ভিক্ষুককে আটক করেছে পুলিশ। সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকার মনে করে, ভিক্ষাবৃত্তি হলো ‘সমাজের সভ্য ভাবমূর্তি বিনষ্টকারী’ প্রথা। ভিক্ষাবৃত্তি প্রায়শই প্রতারণার একটি ছদ্মরূপ।
আবুধাবির ক্রিমিনাল সিকিউরিটি সেক্টরের ডেপুটি ডিরেক্টর ব্রিগেডিয়ার মুসাল্লাম মোহাম্মদ আল আমেরি গালফ নিউজকে বলেন, ভিক্ষুকেরা অর্থ সংগ্রহের জন্য মিথ্যা গল্প তৈরি করে জনসাধারণের সহানুভূতি আদায়ের চেষ্টা করে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ভিক্ষুকদের কৌশল যাই হোক না কেন, পুলিশ অধিদপ্তর তাদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রাখবে।
তিনি জনসাধারণকে ভিক্ষুকদের সরাসরি দান ও জাকাত দেওয়া থেকে বিরত থাকার মাধ্যমে ভিক্ষাবৃত্তি রোধে সহায়তার আহ্বান জানান। পরিবর্তে, স্বীকৃত দাতব্য সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের মতো সরকারি চ্যানেলের মাধ্যমে দান করার জন্য উৎসাহিত করেন।
আল আমেরি আরও সতর্ক করে বলেন, ভিক্ষুকদের অর্থ দেওয়া অনিচ্ছাকৃতভাবে তাদের টিকে থাকতে উৎসাহিত করে। এর ফলে ভিক্ষাবৃত্তির ছদ্মবেশে সংঘটিত অপরাধ বাড়ে।
কীভাবে ভিক্ষুকেরা সোশ্যাল মিডিয়াকে কাজে লাগায়, সে ব্যাপারে সচেতনতামূলক কর্মসূচি শুরু করেছে পুলিশ। মসজিদ, বাজার বা রাস্তার পাশে সাধারণত ভিক্ষুকদের দেখা যায়। তবে ইদানীং অনলাইন ভিক্ষুকও বেরিয়েছে। তারা ডিজিটাল উপায়ে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে অর্থ সংগ্রহ করতে পারে।
কর্তৃপক্ষ বিশেষ করে রমজান এবং উৎসবের সময়ে অনলাইন ভিক্ষাবৃত্তির বেড়ে যাওয়ার প্রবণতা লক্ষ করেছে। প্রতারকেরা আবেগপূর্ণ বার্তা, জাল ছবি এবং প্রতারণামূলক আবেদন ব্যবহার করে যেমন—অনাথ–এতিমদের সাহায্য করা, চিকিৎসা তহবিলের ব্যবস্থা করা বা দরিদ্র অঞ্চলে মসজিদ ও স্কুল নির্মাণ—এসব বলে লোকজনের কাছ থেকে দান আদায় করে।