সকল প্রকার ভয়কে উপেক্ষা করে শবে কদরে আল আকসায় নামাজ পড়লেন প্রায় ২ লাখ ফিলিস্তিনি। ইসরাইলের নজিরবিহীন আগ্রাসনও তাদের ঠেকাতে পারল না।
সকাল থেকেই ফিলিস্তিনের সব প্রান্ত থেকে আল আকসার পথে রওনা দেয় লাখলাখ মানুষ। তাদের এই জনস্রোতে হারিয়ে যায় নেতানিয়াহুর বাহিনী।
এবারের শবে কদর বিশ্বের অন্যান্য মুসলিম দেশ থেকে ফিলিস্তিনিদের জন্য অনেকটাই ভিন্ন। প্রায় ২ বছরের এক যুদ্ধে ফিলিস্তিন এখন ছিন্ন বিচ্ছিন্ন। ইসরাইলের হামলায় নিয়মিতই ঘটছে প্রাণহানি। পরিবার, স্বজন আর ঠিকানা হারানো এসব মানুষ তবুও দমে যাননি। আল্লাহর ইবাদতের জন্য ছুটে এসেছেন আল আকসায়।
শবে কদরকে সামনে রেখে মসজিদটিতে জড়ো হওয়ার উপর কঠোর বিধিনিষেধ রাখে নেতানিয়াহু সরকার। চেকপয়েন্টে গুলোতে শতশত ইসরাইলি সেনা অবস্থান নেন। জেরুজালেম শহর অনেকটাই মিলিটারি কোনো জোনে পরিণত হয়েছে। তবে লাখো মানুষের সামনে ভেসে যায় সেসব সেনা।
বুধবার আল আকসায় জড়ো হন প্রায় ২ লাখ মানুষ। সকাল থেকেই আল আকসার প্রাঙ্গনে জড়ো হতে থাকেন তারা। দুপুরের পরেই কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে মসজিদ প্রাঙ্গণ। ২ লাখ মানুষ অংশ নেন তারাবীর নামাজে। এরপর শবে কদরের নফল ইবাদতে অংশ নেন তারা। সারারাত চলে ইবাদত বন্দেগী।
আল আকসার দায়িত্বে থাকা কর্তৃপক্ষ বলছে রমজান মাসে মসজিদটিতে অন্যতম রেকর্ড এটি। ইসরায়েলি বাহিনী যতই ফিলিস্তিনিদের অস্তিত্ব মুছে ফেলার চেষ্টা করছে ততই যেন আরো শক্তিশালী হয়ে ফিরে আসছে তারা। নিজেদের ভূমি থেকেও যে সর্বশক্তি প্রয়োগ করেও ফিলিস্তিনিদের উপড়ে ফেলা যাবে না, ইসরাইলকে সেই বার্তাই দেন তারা। আল আকসার যে তাদের অস্তিত্বের অংশ। তাই এই পরিচয় কোনোভাবেই মুছে ফেলা যাবে না।
ইসরাইলিদের আগ্রাসনের বিচার ফিলিস্তিনিরা দিচ্ছেন আল্লাহর কাছে প্রার্থনান মাধ্যমে। শবে কদর মুসলিমদের জন্য অত্যন্ত মহিমান্বিত রাত। ২০ রমজানের পর যেকোনো বিজোড় রাতেই শবে কদর হতে পারে। তবে, অনেকে বলেন ২৬ রমজান দিবাগত রাতেই শবে কদরের সম্ভাবনা বেশি। ক্ষমা প্রার্থনা, ইবাদত ও সওয়াবের আশায় সারারাত ইবাদত বন্দেগী করে কাটান সারা বিশ্বের মুসলমানরা।