আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) গঠনতন্ত্র চূড়ান্ত হচ্ছে। চলতি মাস থেকেই বিভাগীয় ও জেলায় জেলায় সমাবেশের মতো ধারাবাহিক কর্মসূচিতে যাচ্ছে নতুন দলটি। সেই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধনের প্রস্তুতি নেয়াও শুরু করেছে এনসিপি। এ কথা জানিয়েছে দলটির নেতারা।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যাত্রা শুরু করে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। এরপর থেকেই রাজনীতির মাঠে সরব দলের নেতাকর্মীরা।
ঈদের ছুটিতে দলটির শীর্ষ নেতারা নিজ নিজ এলাকায় জনসংযোগ করেছেন, যা আগামী নির্বাচনে অংশ নেওয়ারই প্রস্তুতি।
সেই সঙ্গে চলতি মাসে দলীয় ঘোষণাপত্র ও মৌলিক কর্মসূচি প্রকাশ করবে এনসিপি। বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ে সমাবেশের কর্মসূচি দিয়েছে দলটি। অংশীজনদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক আলোচনার মাধ্যমে সংস্কারের বিষয়ে একটি ঐকমত্য সৃষ্টির কথাও জানিয়েছেন এনসিপি নেতারা।
এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন বলেন, ‘বিভাগীয় সমাবেশের প্রস্তুতি চলছে। আর সংস্কার কমিশনের কাছে তো আমরা সংস্কারের প্রস্তাব দিয়েছি।’
তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠিত করতে চলতি মাস থেকেই দলটির জেলা-উপজেলা পর্যায়ে কমিটি হচ্ছে। দুই মাসের মধ্যেই যা সম্পন্ন করার লক্ষ্য। দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ প্রয়োজনীয় সংখ্যক কার্যালয় নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধনের যে শর্ত সেটাতেও কিন্তু কমিটি দেখাতে হয়। জেলায় কার্যালয় দেখাতে হয়। ফলে আমাদের এক কাজের মধ্য দিয়ে দুটি কাজ অর্জন করতে চাইছি। এছাড়া আমাদের সদস্য সংগ্রহ চলছে। আমাদের সদস্য সংগ্রহ সপ্তাহ করার একটা পরিকল্পনা আছে।’
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নতুন দলে সব বয়সীদের আনতে হবে। তাহলে দলের আবেদন সব মহলে পৌঁছাবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কাজী মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘অন্যান্য পেশাজীবী, জেন্ডার এবং সকল বয়সের মানুষের কাছে এটা পৌঁছানোর ব্যবস্থা করতে হবে। যদি তারা মনে করে এটা শুধু তরুণদের দল তাহলে বয়স্ক বা অন্যান্যরা কিন্তু দলটি প্রত্যাখান করতে পারে।’