মনিরুল ইসলাম : বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেছেন ,আওয়ামী ফ্যসিবাদের আমলে ঈদ ছিলো নিরানন্দ, ফ্যাসিবাদমুক্ত পরিবেশে এবারের ঈদ জনগণের মাঝে আনন্দের সুবাতাস ছড়িয়ে দিয়েছে। এই আনন্দ টেকসই ও অর্থবহ করতে দ্রুত নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকার কায়েম ও তাদের মাধ্যমে রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক রূপান্তর ঘটাতে হবে ।
এমরান সালেহ প্রিন্স আজ বুধবার বিকেলে ময়মনসিংহের ধোবাউড়ায় ঈদ উল ফিতর উপলক্ষ্যে তার আয়োজিত ঈদ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন । ঈদ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ধোবাউড়ার রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার নেতৃবৃন্দ, বীরমুক্তিযোদ্ধা ,শিক্ষক ,সাংবাদিক, ব্যবসায়ী, ছাত্র গণ অভুত্থানে শহিদ পরিবারের সদস্য ও আহত এবং সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
ধোবাউড়া সদরের ডাক বাংলো প্রাঙ্গণে সবুজ চত্তর আজ মিলন মেলায় পরিনত হয় । আগত ব্যক্তিগণ সারিবদ্ধভাবে এমরান সালেহ প্রিন্স এর সাথে ঈদের ঐতিহ্যগত প্রথা অনুযায়ী কলাকুলি করেন । এসময়“ রমজানের ওই রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ“ গান পরিবেশিত হয় । ঐতিহ্যবাহী এই গানের মূর্ছনায় আগত অতিথিরা একে অপরের সাথে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন । আগত অতিথিদেরকে গুড়ের পায়েসে, মুড়ি , জুস দিয়ে আপ্যায়ন করা হয় । বিকেল চারটা থেকে সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত ছয় শতাধিক মানুষ বিএনপির যুগ্ম মহাসচিবের এই ঈদ সংবর্ধনায় উপস্থিত ছিলেন ।
অনুষ্ঠানে এমরান সালেহ প্রিন্স আরও বলেন , বিএনপি অবশই রাষ্ট্র কাঠামোর সংস্কার চায় । নির্বাচনের আগে নির্বাচনকে নিরপেক্ষ , সুষ্ঠু করার লক্ষ্যে অন্তবর্তীকালীন সরকার রাজনৈতিক ঐক্যমতের ভিত্তিতে বাস্তবতার নিরিখে অতি প্র্যজনীয় সংস্কার করে ডিসেম্বরের মধ্যে , সম্ভব হলে তারও আগে নির্বাচন দিতে হবে । সংস্কারের নামে নির্বাচনে কালক্ষেপণ বা বিলম্বিত হলে অনিশ্চয়তা দেখা দিতে পারে । তিনি বলেন সংস্কার ও নির্বাচন বিকল্প নয় । সংস্কার চলমান প্রক্রিয়া ।
তিনি বলেন , নির্বাচন প্রশ্নে সরকারের ধীর গতি , নিষ্কৃয়তা , মহল বিশেষের চাপে নতি স্বীকার করা, নির্বাচনের টাইম ফ্রেম নিয়ে বিভিন্ন সময় ভিন্ন ভিন্ন কথা , অবাস্তব ধ্যান ধারণা নিয়ে জনগণ হতাশ হয়ে পড়ছে । নির্বাচন নিয়ে সময় ক্ষেপণ , মহা বিপর্যয় ডেকে আনতে পরে । তিনি অবিলম্বে রাজনৈতিক দলের সাথে আলোচনা করে সংস্কার ও নির্বাচন নিয়ে সু স্পষ্ট রোড ম্যাপ দেয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানান ।
তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের কাছ থেকে জনগণ পক্ষপাতহীন আচরন প্রত্যাশা করে । জনগণের মধ্যে এই ধারণা সৃষ্টি হচ্ছে , নতুন কোনো দলকে সুযোগ দিতে সরকার সংস্কারের নামে নির্বাচন প্রলম্বিত করছে । সরকার দ্রুত নির্বাচন না দিয়ে নিরপেক্ষতা হারালে জনগণকে সাথে নিয়ে বিএনপি পথ খুজে নেবে।
তিনি বলেন , যারা বলেন , নির্বাচনের সময় হয় নাই , তারা নির্বাচনী প্রচারোনায় নেমে পড়েছেন । যারা রাজনৈতিক নতুন বন্দোবস্তর কথা বলছেন , তারা নিজেরাই শত শত মোটর শোভাযাত্রা করে পুরানা বন্দোবস্ত নতুন করে ফিরিয়ে আনতে তৎপর । প্রকৃত পক্ষে নতুন- পুরাতন দুই একটি রাজনৈতিক দল জন সমর্থনহীন অবাস্তব কিছু ইস্যু বানিয়ে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করে নির্বাচন পেছানোর অপচেষ্টা করছে । তারা এই সুযোগে সরকারি অনুকূল্যে দল গঠণেরও সুযোগ নিচ্ছে ।
অন্তর্বর্তী সরকারের ভেতর থেকেও কেউ কেউ যড়যন্ত্র করছে নির্বাচন পিছিয়ে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা ও নতুন দলকে সুবিধা দিতে সহযোগিতা করার । তাদের উদ্দেশ্যে বিএনপির এই যুগ্ম মহাসচিব বলেন , রাজনীতি করলে বর্ণচোরার মতো নয় , পদত্যাগ করে রাজনীতিতে শামিল হন । অযথা নবেল বিজয়ীর সরকারকে বিতর্কিত করবেন না । অন্তর্বর্তী সরকার বিতর্কিত হলে বা নিরপেক্ষতা হারালে তাদের অধীনে নির্বাচন করা রাজনৈতিক দলের পক্ষে অসম্ভব হয়ে উঠবে । অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন , এদের সর্ম্পকে সতর্ক না হলে এরা আপনাকে বিপদে ফেলবে এবং তাদের দায় দায়িত্ব আপনার ওপর গিয়ে পড়বে । ড. ইউনুসের প্রতি বিএনপির আস্থা এখনও আছে উল্লেখ করে এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন , সরকারের উচিত হবে , তাদের নিরপেক্ষতা যে কোনোমূল্যে নিশ্চিত করে রাজনৈতিক দল ও জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস ধরে রাখা এবং নতুন করে বিতর্ক সৃষ্ঠি না করে দ্রুত নির্বাচনের অয়োজন করা ।
এসময় ময়মনসিংহ উত্তর জেলা বিএনপির সদস্য সাবেক চেয়ারম্যন আলহাজ্ব মফিজ উদ্দিন , ধোবাউড়া উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আনিসুর রহমান মনিক , যুগ্ম আহবায়ক মোয়াজ্জেম হোসেন লিটন , ফরহাদ রব্বানি সুমন ,আবদুল কুদ্দুস, হাবিবুর রহমান ,আবুল হাশিম , আবদুল ওয়াহেদ তালুকদার , গাজিউর রহমান ,মাহবুবউল আলম বাবুল , আবদুল মোমেন শাহিন , চেয়ারম্যন হুমায়ূন কবীর , চেয়ারম্যন জাকিরুল ইসলাম তালুকদার টোটন প্র্রমুখ উপস্থিত ছিলেন ।