শিরোনাম
◈ বিশ্বের মুসলিম দেশগুলো ঐক্যবদ্ধ থাকলে কেউ জুলুম চালাতে পারবে না : ইরান ◈ দেশে ফিরলেন প্রধান উপদেষ্টা ◈ বাংলাদেশের কোনো নির্দিষ্ট দলকে সমর্থন নিয়ে ড. ইউনূসকে যা বলেন মোদি ◈ ড. ইউনূস-মোদি ৪০ মিনিটের বৈঠকে যেসব বিষয়ে আলোচনা করেন ◈ লাশের স্তুপে পরে থাকা কানাই লাল জানালেন সেই নৃশংস গণহত্যার ঘটনা ◈ ৭২ ঘন্টা পর চোখ খুলেছে শিশুটি, এক আসামি গ্রেফতার ◈ থাইল্যান্ডকে ভিসা সহজীকরণসহ যেসব বিষয়ে আহ্বান জানালেন প্রধান উপদেষ্টা ◈ ইউনূস-মোদি বৈঠকে আশার আলো তৈরি হয়েছে: ফখরুল ইসলাম ◈ পাচার হওয়া অর্থ ফেরাতে শ্রীলঙ্কার সহায়তা চেয়েছে সরকার ◈ বিমসটেক মহাসচিবকে যে উদ্যোগ নিতে বললেন ড. ইউনূস

প্রকাশিত : ০৮ নভেম্বর, ২০২৪, ১২:৪১ দুপুর
আপডেট : ০২ এপ্রিল, ২০২৫, ০৭:০০ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

দ্রব্যমূল্যের বৃদ্ধিতে হিমশিম খাচ্ছে মেসের শিক্ষার্থীরা

ডেস্ক রিপোর্ট : সবকিছুর দাম এত বেশি বেড়েছে যে, স্বাভাবিক জীবনযাপন করা আমাদের মতো মধ্যবিত্ত শিক্ষার্থীদের জন্য কষ্টকর হয়ে পড়েছে। মেসে কোনোরকমে মিল চালাই। আলুভর্তা, আলুভাজি, পাতলা ডাল, শাকসবজি, ডিম ভাজি অথবা রান্না ডিমই এখন নিত্যদিনের খাবার। মেসে খাবার খরচ বাঁচাতে এখন আর আমরা মাছ-মাংস খাই না। কম টাকায় কীভাবে মাস পার করা যায়; সবাই সেই চেষ্টা করছি।’

সমপ্রতি নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম কয়েকগুণ বেড়ে যাওয়ার প্রভাবে মেসের পাল্টে যাওয়া খাবার মেন্যু বা খাদ্যাভ্যাসের কথা এভাবেই বলছিলেন পুরান ঢাকার নজরুল  কলেজের স্নাতক পড়ুয়া শিক্ষার্থী মো. আব্দুল্লাহ। 

মেসের অন্য শিক্ষার্থীদেরও একই অবস্থা। তারা বলছেন, গত কয়েক মাসে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে কয়েকগুণ। যার প্রভাবে রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে উচ্চশিক্ষা নিতে আসা মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীরা বিপাকে পড়েছেন। খরচ চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। কোনোরকমে জীবন পরিচালনা করতে গিয়ে খরচ কমাতে খাবার ও পরিবহন ব্যয় সংকুচিত করেছেন।

বর্তমানে মূল্যস্ফীতির কারণে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার খরচ চালাতে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিচ্ছে। শিক্ষার্থীরা আগ্রহ হারাচ্ছে শিক্ষা গ্রহণে।

সচরাচর একজন শিক্ষার্থী টাকা উপার্জন করে থাকে না। দুই-একটা টিউশনি করে তাদের চলতে হয়। টিউশনির বেতন বাড়ে না কিন্তু খাতা, কলম থেকে শুরু করে প্রতিটি শিক্ষা উপকরণের দাম ঠিকই বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি বেড়েছে প্রতিটা খাবারের মূল্য। শিক্ষার্থীদের তিন বেলা খাবারের জন্য ডিম একটি প্রধান খাবার। মাছ বলতে তেলাপিয়া বা পাঙ্গাশের ছোট টুকরা তাদের জুটে।
শিক্ষার্থীদের জন্য ক্রমবর্ধমান দ্রব্যমূল্য মূলত মড়ার উপর খাঁড়ার ঘায়ের সমতুল্য।  ঢাকা শহরসহ অন্যান্য প্রধান শহর এমনকি মফস্বল এলাকাগুলোতেও বাড়ি ভাড়া বা মেস ভাড়া ৫০০ থেকে ১০০০ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। পূর্বে একজন শিক্ষার্থীর ক্যান্টিনে সকালের নাস্তায় যেখানে ১৮ টাকা খরচ হতো সেখানে এখন ২৩ টাকা খরচ হচ্ছে। প্রতিটি খাবারের মূল্যই ৫-১০ টাকা বেড়েছে।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া আনিকা  বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পৌঁছাতেও যাতায়াত খরচ বেড়েছে। সবকিছু মিলিয়ে বেড়েছে মানসিক অবসাদ-অবসন্নতা। তাছাড়া ঢাকায় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোতে যেসব ছাত্র-ছাত্রী পড়াশুনা করেন, তাদের অধিকাংশই মধ্যবিত্ত এবং নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের। বর্তমান এই অবস্থা সার্বিক জীবনযাত্রায় মারাত্মক প্রভাব ফেলেছে। অপরদিকে শিক্ষার্থীদের সচ্ছলতা বা স্বাভাবিকতা আনতে এমন অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য শিক্ষার্থীদের জন্য কর্ম পরিবেশ তৈরি করা বা কর্মমুখী কারিগরি শিক্ষার বিস্তার ঘটানোর বিকল্প নেই বলে মনে করেছেন শিক্ষাবিদরা। শিক্ষার্থীরা মনে করছেন, শিক্ষার্থীদের ওপর মূল্যবৃদ্ধির নেতিবাচক প্রভাব প্রশমিত করার জন্য, বিশ্ববিদ্যালয় এবং নীতিনির্ধারকরা আর্থিক সহায়তা বৃদ্ধি, ফ্রি টিউশন বাস্তবায়ন আরও সাশ্রয়ী মূল্যের কোর্স উপকরণ প্রদান এবং আবাসন ও স্বাস্থ্যসেবা খরচ মোকাবিলার মতো বিকল্পগুলো অন্বেষণ করতে পারেন। উপরন্তু, শিক্ষার্থীরা তাদের খরচ কার্যকরভাবে পরিচালনা করার জন্য আর্থিক পরামর্শ, বৃত্তি, খণ্ডকালীন কাজের সুযোগ এবং বাজেটের কৌশলগুলো বাস্তবায়নের দাবি জানাতে চান। সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণে সরকারের প্রতি দাবিও জানান তারা।
 
সুত্র : মানবজমিন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়