শিরোনাম
◈ ১০ জেলায় ঈদের প্রথম দিনে সড়কে ঝরলো ২১ প্রাণ ◈ তালিকা হালনাগাদ: তরুণ ভোটাররা এবারও বিশেষ হিসাব-নিকাশে  ◈ নেতাকর্মীদের সঙ্গে খালেদা জিয়ার ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় ◈ ট্রাম্পকে গাজায় হামলা বন্ধে আহ্বান মুক্তিপ্রাপ্ত ইসরায়েলি জিম্মির ◈ সৌদি আরবে আত্মহত্যার আগে স্ত্রীসহ ২ জনকে কুপিয়ে হত্যা করলো বাংলাদেশি ◈ তিন এজেন্ডা নিয়ে এগোচ্ছি: নাহিদ ইসলাম ◈ নেপালের মাওবাদী কমান্ডার এখন রাজতন্ত্রের পক্ষে হিন্দুত্ববাদী আন্দোলনের নেতা ◈ ঈদ উপলক্ষে সেনা ক্যাম্প পরিদর্শনে সেনাপ্রধান ◈ যে কারণে ঈদের জামাতে ইমামের পাশে নামাজ আদায় করেন আসিফ মাহমুদ! (ভিডিও) ◈ বন্ধুত্বের বন্ধন আরো সুদৃঢ় হোক: ড. ইউনূসকে মোদির বার্তা

প্রকাশিত : ২৬ মার্চ, ২০২৫, ০৭:১৮ বিকাল
আপডেট : ৩১ মার্চ, ২০২৫, ১২:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

‘মাহে রমজানের সওগাত’

শবে কদর জেগে থাকুন প্রাণের আনন্দে ইবাদাত কর্মে

আবছার তৈয়বী, (আবুধাবি থেকে): মাহে রমজানের সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ও ফজিলতমণ্ডিত রাত হলো ‘লায়লাতুল কদর বা কদরের রাত। যা আমরা ‘শবে কদর’ হিসেবেই জানি। মুমিন-মুসলমানরা এই একটি রাতের জন্য সারা বছর অপেক্ষায় থাকে। কারণ, এই রাতটিও রহমত, বরকত ও মাগফিরাত লাভের জন্য অবিস্মরণীয়। মাহে রমজানের দিনগুলো যতই অতিবাহিত হচ্ছে ততই মুমিন মুসলমাদের হৃদয়ে হাহাকার ওঠছে মাহে রমজানকে হারানোর বেদনায়।

কিন্তু মুমিন মুসলমানদের অন্তরাত্মা আনন্দে উদ্বেলিত হবে শবে কদরের প্রাপ্তির খুশিতে। সত্যি বলতে কি একই সাথে আনন্দ-বেদনার অনুভুতি জাগানিয়া এ রকম মোক্ষম সুযোগ মুমিন মুসলমানদের জীবনে খুব কমই আসে। শবে কদর- জগতজুড়ে বইবে- মহান আল্লাহ জাল্লা শানুহুর রহমতের অশেষ প্রস্রবণ। মহান আল্লাহ জাল্লা শানুহু তাঁর প্রিয় হাবিব সাল্লাল্লাহু তায়ালা আলাইহি ওয়াআলিহী ওয়াসাল্লামের উসিলায় গুনাহ্গার বান্দাদের পরিশুদ্ধ, পবিত্র এবং পাপমুক্ত করার যে সব দিনক্ষণ, শুভ সময় বিশেষ মুহূর্ত স্থির করে দিয়েছেন, শবে কদরের স্থান সবার ওপরে। 

আমাদের প্রিয়নবী শফিউল মুজনেবীন, রাহমাতুল্লিল আলামীন হযরত রাসূলে করিম সাল্লাল্লাহু তায়ালা আলাইহি ওয়াআলিহী ওয়াসাল্লাম বছরের যে পাঁচটি রাতকে সর্বাধিক মর্যাদার অধিকারী বলে ঘোষণা করেছেন, তম্মধ্যে ‘লায়লাতুল কদর’ বা ‘শবে কদর’ অন্যতম। এ মহান রাতটির অবস্থান সম্পর্কে হাদিস শরীফে  বিভিন্ন বর্ণনা দেখা যায়। অধিকাংশ বর্ণনা মোতাবেক মাহে রমজানের শেষ দশকের যে কোন বেজোড় রাতে ‘লায়লাতুল কদর’ লুকায়িত আছে।

ইমামুল আয়িম্মা, সিরাজুল উম্মত, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ফকিহ্ ও মুজতাহিদ ইমামে আজম হযরত ইমাম আবূ হানিফা (রা.), সাহাবী হযরত উবাই কা’ব (রা.) প্রমূখের মতে মাহে রমজানের ২৭ তম রাতই হলো ‘লায়লাতুল কদর’। অধিকাংশ আউলিয়ায়ে কিরাম ও সালফে সালেহীন এ রাতকেই ‘লায়লাতুল কদর’ রূপে পালন করেছেন। তবুও প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু তায়ালা আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাত অনুযায়ী মাহে রমজানের শেষ দশকের সব বেজোড় রাতে শবে কদরের তালাশে ইবাদত করা উচিত। পবিত্র কোরআনে এ রাতের গুরুত্ব বর্ণনা করে পুরো একটি সূরা অবতীর্ণ করা হয়েছে। আর তাতে ঘোষণা করা হয়েছে ‘লায়লাতুল ক্বাদরি খায়রুম মিন আলফি শাহর’ অর্থাৎ ‘কদর রাত’ হাজার মাসের চেয়েও অনেক শ্রেষ্ঠ এবং উত্তম। 

‘শবে কদর’ রাতে নামাজ পড়া, কোরআন তেলাওয়াত, জিকির-আজকার, মোরাকাবা, দোয়া-দরুদ,   মিলাদ-কিয়াম, ইস্তেগফার, কবর জিয়ারত, দান-খয়রাত ইত্যাদি নফল ইবাদতে সারারাত অর্থাৎ মাগরিবের পর থেকে ফজর পর্যন্ত লিপ্ত থাকলে এক হাজার মাস বা ৮৩ বছর  ৪ মাস ইবাদতের সাওয়াব পাওয়া যায়। এ রাতে বান্দার আগত এক বছরের হায়াত-মউত, সুখ-দুঃখ, ভালো-মন্দ, আয়-ব্যয়, জীবন-জীবিকা ইত্যাদি নির্ধারণ করা হয় এবং তা সংশ্লিষ্ট ফেরেশতাদের হাতে সোপর্দ করা হয়। এ রাতে হযরত জিব্রাঈল আলাইহিস সালাম অন্যান্য ফেরেশতাদের নিয়ে জমিনে অবতরণ করেন।  পবিত্র কোরআন শরীফের অবতরণ এ রাতেই হয়েছিল বিধায় এ রাতকে ‘লায়লাতুল কদর’ বা ‘মহিমান্বিত রজনী’ বলা হয়। 

লাইলাতুল কদরের ফজিলত সম্পর্কে বহু হাদিস বর্ণিত হয়েছে। হযরত আবু  হোরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু তা’আলা আলাইহি ওয়াআলিহী ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন- “যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে এবং সাওয়াব বা পুণ্যের আশায় রমজান মাসে রোজা রাখে, তার পেছনের সব পাপরাশি ক্ষমা করে দেয়া হয় এবং যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে ও সাওয়াবের আশায় লাইলাতুল কদরে রাত জেগে ইবাদত করবে, তার পেছনের সব গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হয়। (বুখারি শরিফ) তবে পবিত্র হাদিসের ভাষ্য অনুযায়ী এ রাতে ব্যভিচারী, মদ্যপায়ী, সুদখোর, ঘুষখোর, গণক, অপরের কুৎসা রটনাকারী, হিংসুক, মাতা-পিতার অবাধ্য সন্তান ইত্যাদি লোকদের দোয়া কবুল হবে না।

এ জন্যে  যাদের কাছে এসব দোষ রয়েছে, তারা এ রাত আসার পূর্বেই এ সমস্ত গর্হিত কাজ থেকে খালিস অন্তরে তওবা করা দরকার। প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু তা’আলা আলাইহি ওয়াআলিহী ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, ‘শবে কদরে জিব্রাঈল (আলাইহিস সালাম) একদল ফেরেশতাসহ এ ধরণীতে অবতীর্ণ হন এবং ইবাদাতে লিপ্ত বান্দাদের প্রতি করুণা বর্ষণ করেন।’ (বায়হাকি)। দুররে মনসুর নামক প্রসিদ্ধ কিতাবে প্রিয়নবীর প্রিয় সাহাবি খাদিমুর রাসূল হযরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, হযরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু তায়ালা আলাইহি ওয়াআলিহী ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করছেন, “আল্লাহ তায়ালা আমার উম্মতদের ওপর ‘লায়লাতুল কদর’ দান করেছেন। অন্যান্য নবীদের উম্মতকে এ দান দেওয়া হয়নি।” 

প্রিয় পাঠক/পাঠিকা! আমরা উম্মতে মোহাম্মদীরা বড়ই খোশনসিব। কেননা আমরা প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু তা’আলা আলাইহি  ওয়াআলিহী ওয়াসাল্লাম এর উসিলায় শবে কদরের মতো মহা মর্যাদাবান ও মহিমান্বিত রাত পেয়েছি। তাই প্রিয় পাঠক/পাঠিকাদের খেদমতে আরজ থাকবে- এ মহান রাত আসার আগেই প্রস্তুতি নিন। অলসতা ছেড়ে সারারাত জেগে থাকুন প্রাণের আনন্দে, ইবাদত কর্মে। বিশ্বের নির্যাতিত নিপীড়িত মুসলমান বিশেষ করে ফিলিস্তিনি জনগণের ওপর ইসরায়েলি হায়েনাদের নারী=শিশুসহ নির্বিচারে গণহত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞের বিরুদ্ধে সোচ্চার হোন।

দু’হাত প্রসারিত করে মহান আল্লাহ্ জাল্লা শানুহুর দরবারে ফরিয়াদ করুন। নিজের জন্য, নিজের পরিবারের জন্য, পাড়া-প্রতিবেশী ও সমগ্র দেশবাসী এবং মুসলিম মিল্লাতের জন্য কায়মনোবাক্যে দোয়া করুন আপনার আমার সকলেরই সৃষ্টিকর্তা, রিযিকদাতা, পালনকর্তা মহান আল্লাহর দরবারে। হাদিসে পাকে আছে, অন্যের জন্য খালিস নিয়তে দোয়া করলে আপনার নিজের দোয়াও কবুল হবে। আল্লাহ্ আমাদের তাওফিক দিন। আমীন! বেহুরমাতি রাহমাতাল্লিল আলামীন সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়াসাল্লাম।

আবছার তৈয়বী: লেখক, গবেষক ও ইসলামী চিন্তাবিদ। প্রতিষ্ঠাতা-সভাপতি: প্রবাসী সাংবাদিক সমিতি (প্রসাস), দুবাই, ইউ.এ.ই।  চেয়ারম্যান: আহলে বায়ত (আ.) ইসলামী গবেষণা কেন্দ্র, আবুধাবি, ইউ.এ.ই।              

E-mail: muntyping@gmail.com

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়