এম.ইউছুপ রেজা, চট্টগ্রাম : বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) ভোরে বহদ্দারহাট ও ফটিকছড়ি উপজেলা থেকে চট্টগ্রাম নগরীর চকবাজার থানাধীন বাকলিয়া এক্সেস রোড চন্দনপুরা অংশে প্রাইভেটকারকে ধাওয়া করে গুলি করে জোড়া খুনের ঘটনায় ২ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বেলালকে বহদ্দারহাট এলাকা থেকে এবং মানিককে ফটিকছড়ি উপজেলা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজে বেলালকে গুলি চালাতে দেখা গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) শাকিলা সোলতানা বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, প্রাইভেটকারে গুলি করে জোড়া খুনের ঘটনায় ২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের রিমান্ড আবেদনসহ আদালতে পাঠানো হবে। জিজ্ঞাসাবাদে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে। পুলিশ হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে বলে জানান তিনি।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মোট ১৩ জন সন্ত্রাসী ৬টি মোটরসাইকেল ব্যবহার করে এই পরিকল্পিত হামলা চালায়। তাদের মূল লক্ষ্য ছিল বোয়াজিদ বোস্তামি এলাকার তালিকাভুক্ত অপরাধী সরওয়ার হোসেন বাবলা, যিনি শেষ পর্যন্ত প্রাণে বেঁচে যান। এ হামলার পেছনে দুটি উদ্দেশ্য ছিল- বায়েজিদ বোস্তামি ও আশপাশের এলাকার অপরাধীদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারের লড়াই এবং শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ হোসেন প্রকাশ ছোট সাজ্জাদ গ্রেফতারের প্রতিশোধ নেওয়া।
নগরের বায়েজিদ বোস্তামি এলাকার আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী খান প্রকাশ শিবির সাজ্জাদ বর্তমানে বিদেশে অবস্থান করছেন। তিনি এই হামলার মূল পরিকল্পনাকারী। হামলাকারীরা
তিন কিলোমিটার জুড়ে ধাওয়া করে এই ঘটনা ঘটায়। গত ১ এপ্রিল সন্ধ্যায় বাকলিয়া থানায় খুনের শিকার বখতেয়ার উদ্দিন মানিকের মা ফিরোজা বেগম বাদী হয়ে কারাবন্দী শীর্ষ সন্ত্রাসী ছোট সাজ্জাদ ও তার স্ত্রীসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলায় অন্য আসামিরা হলেন- সাজ্জাদের স্ত্রী শারমিন আক্তার তামান্না (৩৭), মোহাম্মদ হাছান (৩৬), মোবারক হোসেন ইমন (২২), খোরশেদ (৪৫), রায়হান (৩৫) ও বোরহান (২৭)।
মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, ছোট সাজ্জাদ ও তার স্ত্রীর পরিকল্পনা অনুসারে আসামিরা গুলি করে মানিকসহ দুইজনকে হত্যা করেছে। ছোট সাজ্জাদকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। গত ১৫ মার্চ ঢাকার বসুন্ধরা থেকে সাজ্জাদকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
প্রসঙ্গত, রোববার (৩০ মার্চ) গভীর রাতে বাকলিয়া থানার রাজাখালী এলাকা থেকে একাধিক মোটরসাইকেলে থাকা সন্ত্রাসীরা প্রাইভেটকারকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়তে শুরু করে। প্রাইভেটকারটি বাকলিয়া এক্সেস রোড দিয়ে প্রবেশ করে চকবাজারের চন্দনপুরায় পৌঁছানোর পর থেমে যায়। তখন বেপরোয়াভাবে গুলিবর্ষণ করে সন্ত্রাসীরা। এতে দুইজন নিহত ও দুইজন আহত হন। নিহতরা হলেন- বখতেয়ার হোসেন মানিক ও মো. আব্দুল্লাহ। আহতরা হলেন- রবিন ও হৃদয়।