চট্টগ্রামে আলোচিত জোড়া খুনের ঘটনায় সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদ এবং সারোয়ার হোসেনের বিরোধকে দায়ী করেছে মামলার বাদীপক্ষ।
গত শনিবার মধ্যরাতে প্রাইভেট কারে এলোপাতাড়ি গুলির ঘটনায় নিহত মোহাম্মদ মানিকের মা ফিরোজা বেগম বাদী হয়ে মামলা করেছেন। এতে ছোট সাজ্জাদ ও তার স্ত্রী তামান্না শারমিনকে হুকুমের আসামি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১ এপ্রিল) দুপুরে নগরের বাকলিয়া থানায় এ মামলা দায়ের করা হয়।
মামলার আসামি করা হয়েছে অপর পাঁচজনকে, যারা সরাসরি খুনের ঘটনায় অংশ নিয়েছেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তাঁদের নাম জানা যায়নি। মামলার হুকুমের আসামি সাজ্জাদ গত ১৫ মার্চ গ্রেপ্তার হয়ে দুটি খুনের মামলায় রিমান্ডে আছেন বলে জানা গেছে।
মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নগরের বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইখতিয়ার উদ্দিন। তিনি বলেন, সাজ্জাদ ও তাঁর স্ত্রীকে হুকুমের আসামি করা হয়েছে। অন্য পাঁচজন সরাসরি খুনের ঘটনায় অংশ নিয়েছেন বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে। মূলত সাজ্জাদ ও সারোয়ার হোসেনের বিরোধের জের ধরে এই খুনের ঘটনা ঘটেছে বলে মামলায় উল্লেখ করেছে বাদীপক্ষ।
এখন পর্যন্ত এই ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার বা আটক করা যায়নি। তবে আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের কর্মকর্তারা।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে রুপালি রঙের একটি প্রাইভেট কার কর্ণফুলী শাহ আমানত সেতু এলাকা থেকে বাকলিয়া অ্যাকসেস রোডে আসতে থাকে। গাড়িটি শাহ আমানত সেতু এলাকা থেকে কিছু দূর যাওয়ার পর পেছন থেকে তিন-চারটি মোটরসাইকেল সেটিকে ধাওয়া করে। একপর্যায়ে এলোপাতাড়ি গুলি করতে থাকে। প্রাইভেট কারের ভেতর থেকেও মোটরসাইকেল আরোহীদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। পেছন ও পাশ থেকে গুলি ছোড়া হয় গাড়িতে। গুলিতে অনেকটা ঝাঁজরা হয়ে যায় গাড়িটি। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রাইভেট কারের দুই আরোহী নিহত হন। তাঁরা হলেন গাড়িচালক মোহাম্মদ মানিক ও আরোহী আবদুল্লাহ।
এই ঘটনায় প্রাণে বেঁচে যাওয়া গাড়ির আরোহী রবিউল ইসলাম জানিয়েছেন, চান্দগাঁও এলাকার বাসিন্দা সারোয়ার হোসেনের ডাকে তাঁরা অক্সিজেন থেকে নতুন ব্রিজ বালুর টাল এলাকায় গিয়েছিলেন। সেখান থেকে ফেরার পথে হামলার মুখে পড়েন। হামলাকারীদের চিনতে না পারলেও সম্প্রতি পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া সন্ত্রাসী সাজ্জাদ হোসেনের লোকজন এর সঙ্গে জড়িত বলে ধারণা করছেন রবিউল। তিনি বলেন, সাজ্জাদের সঙ্গে সারোয়ারের সম্ভবত আগে থেকে দ্বন্দ্ব ছিল। সম্প্রতি সাজ্জাদের গ্রেপ্তার এবং এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুজনের মধ্যে ঝামেলা বেড়েছে। তাই সাজ্জাদের লোকজন সারোয়ারকে খুন করতে এ হামলা চালাতে পারে।
চট্টগ্রাম নগর পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী সারোয়ার হোসেন। ৫ আগস্টের পর জামিনে মুক্তি পান তিনি। তাঁর বিরুদ্ধে ১৬টি হত্যা, অস্ত্র ও চাঁদাবাজির মামলা রয়েছে।
একটি সূত্র জানায়, ১৫ মার্চ ‘সন্ত্রাসী’ সাজ্জাদকে পুলিশের হাতে ধরিয়ে দেওয়ায় আকরাম নামের এক ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে প্রাইভেট কারে গুলি করা হয়। আকরামের ব্যবহৃত গাড়ি ও এই গাড়ির রং একই। সাজ্জাদকে ধরিয়ে দেওয়ার পর হুমকির ঘটনায় আকরামের স্ত্রী রুমা আক্তার বাদী হয়ে মামলা করেছিলেন। এতে সাজ্জাদের স্ত্রী, হাসানসহ কয়েকজনকে আসামি করা হয়।
স্ত্রীর পর সাজ্জাদের নানি রেহেনা বেগমও তাঁর নাতির বিরোধিতাকারীদের মারার হুমকি দিয়েছেন। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘আগে গোপনে মারতাম, এখন ওপেন মারব।’ উৎস: নিউজ২৪