রোববার (৯ মার্চ) বিকেলে পৌর মসজিদ মার্কেটের নিচ তলা 'লেডিস শপ ও রাহি থ্রি পিস এন্ড বেবী ফ্যাশনে' জিম্মি করে রাখার ঘটনা ঘটে। এই খবর পেয়ে দুই তরুণীর নিকটতম আত্মীয় এসে তাদের জিম্মি দশা থেকে উদ্ধার করে। তারা লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণীর শিক্ষার্থী ও পৌরসভার পশ্চিম লক্ষ্মীপুর গ্রামের বাসিন্দা।
দুই তরুণী মসজিদ মার্কেটে জিম্মি রাখার খবর পেয়ে সংবাদ সংগ্রহ করতে যান, তরুণ সাংবাদিক সোলাইমান হোসন নিশান। ওইসময় দোকানী মামুনুর অর-রশিদ ও অপর দোকানদার ইয়াছিন আরাফাত সাংবাদিক নিশানকে নাজেহাল করেন এবং সাফ বলে দিয়েছেন, মসজিদ মার্কেটে পুলিশ-সাংবাদিক প্রবেশ করতে হলে তাদের অনুমতি নিতে হবে।
দুই কলেজ শিক্ষার্থী জানান, লেডিস সফ থেকে জামাকাপড় দেখতে যান। জামাকাপড় পছন্দ না হওয়ায় তারা দোকান থেকে বের হতে চাইলে দোকানী ও কর্মচারীরা তাদের জোরপূর্বক দোকানের ভেতরে আটকিয়ে রাখে এবং জামা কিনতে বাধ্য করে। একপর্যায়ে দোকানী ও নারী ক্রেতাদের সঙ্গে তর্কবিতর্ক হয়। এক তরুণী তার নিকটতম আত্মীয় বড়-ভাইকে মুঠোফোনে বিষয়টি জানান। একই মার্কেটের তৃতীয় তলা থেকে ওই-ভাই এসে দুই তরুণীকে উদ্ধার করে।
মসজিদ মার্কেটে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিক নিশান হেনস্তার শিকার এ তথ্য পেয়ে রাত ৮টার দিকে সাংবাদিকরা মসজিদ মার্কেটের বিষয়টি জানার জন্য গেলে, ফের দোকানী ও কর্মচারীরা অশোভনীয় আচরণ করে।
অভিযুক্ত লেডিস শপরে স্বত্বাধিকারী ইয়াছিন আরাফাত ক্ষোভ জারি জানান, দুই তরুণীকে জিম্মি করে রাখা হয়নি। একটি জামার দাম নির্ধারণ করে তারা নিবে না বলে,তখন তাদের সঙ্গে তর্কবিতর্ক হয়েছে। এ-র বেশি কিছু হয়নি।
এদিকে রাহি থ্রি পিছ এন্ড বেবী ফ্যাশনের স্বত্বাধিকারী মামুনুর অর-রশিদ দুঃখপ্রকাশ করে বলেন, সাংবাদিক নিশানকে আমরা চিনতে পারেনি। সামান্য ভুল বুঝাবুঝি হয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাসান মোস্তফা স্বপন জানান, বিষয়টি আমাদের জানা নেই। বিস্তারিত জেনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এছাড়া পুলিশের এ কর্মকর্তা জানান, খুব শীঘ্রই বাজার শৃঙ্খলা ফেরাতে বণিক সমিতির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে পুলিশের মতবিনিময় সভা হওয়ার কথা রয়েছে।
লক্ষ্মীপুর