ফারুকুজ্জামান, কিশোরগঞ্জ :কিশোরগঞ্জের হাওরে ধনু নদীতে নৌযানে চলছে বেপরোয়া চাঁদাবাজি। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় সন্ত্রাসীদের পাশাপাশি নৌযান থেকে প্রকাশ্যে চাঁদা তুলছে নৌপুলিশও । তাদের দাপটে অসহায় হাজার হাজার নৌযান মালিক ও ব্যবসায়ী। পুলিশের সম্পৃক্ততা থাকায় মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না কেউ। ক্যামেরায় চাঁদাবাজির ঘটনা ধরা পড়লেও অভিযোগ অস্বীকার করেন চামড়া নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আমিনুল ইসলাম। তবে ধনু নদীতে চাঁদাবাজির কথা স্বীকার করেছেন নৌপুলিশের কিশোরগঞ্জ অঞ্চলের এসপি মো. আহাদুজ্জামান মিয়া। তিনি বলেন, লোকবল ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের অভাবে চাঁদাবাজদের হাতেনাতে ধরা সম্ভব হচ্ছে না। শিগগির চাঁদাবাজি বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
সরেজমিন অনুসন্ধানে করিমগঞ্জ উপজেলার সুতাপাড়া ইউনিয়নের চংনোয়াগাঁও এলাকায় পুলিশ ও স্থানীয় সন্ত্রাসীদের বেপরোয়া চাঁদাবাজির সত্যতা মিলেছে। এসময় দেখা যায়, একটি ছোট্ট নৌকায় নদীর তীরে অপেক্ষায় রয়েছেন কয়েকজন পুলিশ সদস্য। কাছাকাছি কোনো নৌযান দেখলেই সেদিকে ছুটে যাচ্ছে পুলিশের নৌকাটি। চলন্ত অবস্থায় লঞ্চ ও বাল্কহেড থেকে এক কিশোর টাকা তুলে পুলিশের নৌকার ভেতরে বসে থাকা নৌপুলিশ ফাঁড়ির এসআই নূরে আলমের হাতে সেই টাকা তুলে দিচ্ছে। দ্রুত কাজ শেষ করে অন্য নৌযানের দিকে ছুটে যাচ্ছে পুলিশের নৌকাটি। খানিকটা দূরে আরেকটি ছোট্ট নৌকা নিয়ে ছাতা মাথায় দিয়ে একের পর এক জলযান থেকে চাঁদা তুলছে এলাকার চিহ্নিত চাঁদাবাজ শাহীন।
হাওরের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার সুতারপাড়া ইউনিয়নের চংনোয়াগাঁও এলাকায় ধনু নদীতে পুলিশ ও স্থানীয় সন্ত্রাসীদের প্রকাশ্যে এমন চাঁদাবাজির ঘটনা দীর্ঘদিনের। করিমগঞ্জ উপজেলার
সন্ত্রাসীদের পাশাপাশি চাঁদা নিচ্ছে নৌপুলিশও, চংনোয়াগাঁও এবং ইটনা উপজেলার টেজেরঘাট পর্যন্ত দিনভর চলে এমন চাঁদাবাজি।
কিশোরগঞ্জের চামড়াঘাট সংলগ্ন ধনু নদী হয়ে সিলেট, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, নেত্রকোনা, ময়মনসিংহসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার প্রতিদিন নৌপথে চলাচল করে মালবাহী জাহাজ, কার্গো, লঞ্চ, ড্রেজার, বাল্কহেডসহ হাজার হাজার নৌযান। এসব জলযানের মাঝি-মাল্লাদের ঘাটে ঘাটে গুনতে হয় মোটা অঙ্কের চাঁদা। তাদের অভিযোগ, চংনেয়াগাঁও গ্রামের চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ শাহীনসহ তার আত্মীয়রা দীর্ঘদিন ধরে বেপরোয়া চাঁদাবাজি চালাচ্ছে। চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে লাঞ্ছিত হতে হয়। নৌপুলিশের সঙ্গে তাদের সুসম্পর্ক থাকায় ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না। চামড়াঘাট সংলগ্ন ধনু নদী হয়ে হয়ে নৌপথে প্রতিদিন অন্তত ১০ হাজার নৌযান চলাচল করে।