গফরগাঁওয়ে মানসিক ভারসাম্যহীন স্বামীর ছুরিকাঘাতে স্ত্রী নিহত
আশরাফ আলী ফারুকী : গফরগাঁও উপজেলার যশরা ইউনিয়নের কুর্শাপুর গ্রামে স্বামীর ছুরিকাঘাতে মার্জিয়া আক্তার (২৯) নামে এক গৃহবধূ নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে নিজ ঘরে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মোহাম্মদ আলীর ছেলে নাজমুল আলম (৩৫) দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভুগছিলেন এবং তার চিকিৎসা চলছিল। ঘটনার রাতে তিনি স্ত্রী মার্জিয়ার সঙ্গে ঘুমিয়ে ছিলেন। একপর্যায়ে রাতের কোনো এক সময় ছুরি দিয়ে মার্জিয়ার পেটে আঘাত করেন। চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্যরা ঘরে ঢুকে দেখেন, মার্জিয়া রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছেন, আর নাজমুল চুপচাপ বসে আছেন।
তৎক্ষণাৎ মার্জিয়াকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত মার্জিয়ার এক মেয়ে ও দুই ছেলে রয়েছে। বড় মেয়ের বয়স ৯ বছর, মেজো ছেলের বয়স ৭ বছর এবং ছোট ছেলের বয়স দেড় বছর।
নিহতের ভাই আশরাফুল আলম বলেন, "আমাদের ভগ্নীপতি নাজমুল মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন, তার চিকিৎসা চলছিল। কিন্তু সে যে এমন ভয়ংকর কিছু করতে পারে, তা আমরা কল্পনাও করিনি।"
নাজমুলের মা মতিজা বেগম বলেন, "ছেলে ও পুত্রবধূ রাতে একসঙ্গে ঘুমিয়েছিল। হঠাৎ চিৎকার শুনে দরজা ভেঙে দেখি, মার্জিয়া আহত অবস্থায় পড়ে আছে, আর নাজমুল পাশে বসে আছে।"
গফরগাঁও থানার ওসি শিবিরুল ইসলাম বলেন, "আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত নাজমুল আলম ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান চলছে।"