অনুজ দেব বাপু, চট্টগ্রাম : রমজান শুরুর মাসখানেক আগ থেকেই প্রতিবার অত্যাবশ্যকীয় ভোগ্যপণ্যের দাম বাড়ার প্রবণতা দেখা গেলেও এবারের চিত্র ভিন্ন। সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকায় চট্টগ্রামের পাইকারি ও খুচরা বাজারে এবার স্থিতিশীল আছে বেশিরভাগ পণ্যের দাম। এমনকি রমজানের অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের মধ্যে ছোলা, খেজুর, চিনি, পেঁয়াজ, আদা, রসুন, মসুর ডাল ও পাম ওয়েলসহ কিছু কিছু পণ্যের দাম গত মাসের চেয়ে কমেছে বলেও জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। রমজানে এসব পণ্য সহনীয় পর্যায়ে থাকায় ক্রেতাদের মধ্যে ছিল স্বস্তি। তবে সয়াবিন তেলের সংকট ও চালের চড়া দামে অসন্তুষ্ট ক্রেতারা।
শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বিকালে নগরীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, শাক-সবজির দাম স্থিতিশীল রয়েছে। কাঁচাবাজারে ফুলকপি, বাঁধাকপি, শিম, মুলা, মিষ্টি কুমড়া, টমেটো, বেগুনসহ বেশিরভাগ সবজি বিক্রি হচ্ছে ১৫ থেকে ৪০ টাকার মধ্যে। বড় আলু বিক্রি হচ্ছে ২০-২৫ টাকায়। ছোট দেশি আলু ৪০-৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শসা ৩০-৪০, বরবটি ৫০-৬০, লাউ ৩০-৪০ এবং বিভিন্ন ধরনের শাক ১০-২৫ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। ৩০-৪০ টাকায় নেমে এসেছে কাঁচা মরিচের দাম। ফলে শাক-সবজির দাম নিয়ে সন্তুষ্ট ক্রেতারা। তবে রমজানকে ঘিরে লেবুর দাম বেড়েছে সবচেয়ে বেশি। প্রতি ডজন বিক্রি হচ্ছে ১২০-১৩০ টাকা। ব্যবসায়ীরা বলছেন, সিজন না হওয়ায় এবং চাহিদা বাড়ায় লেবুর দাম বেড়েছে।
এদিকে এখনো অস্থিরতা রয়ে গেছে সয়াবিন তেলে। বাজারে সয়াবিন তেলের পর্যাপ্ত সরবরাহ নেই। ফলে সরবরাহ সংকটের সুযোগ নিয়ে কিছু কিছু বিক্রেতা বাড়তি দামে বিক্রি করছেন সয়াবিন তেল। বেশিরভাগ দোকানে ২ থেকে ৫ লিটারের সয়াবিন তেলের সংকটও লক্ষ্য করা গেছে। খোলা তেলও বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে বলে ক্রেতাদের অভিযোগ। খুচরায় বোতলের সয়াবিন তেল প্রতিলিটার ১৭৫-১৮৫ টাকা, দুই লিটার বোতল ৩৪৮-৩৫৫ টাকা এবং ৫ লিটারের বোতল ৮৫০-৮৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে গত দুই মাসের তুলনায় ফেব্রুয়ারিতে পাম ওয়েলের দাম মণপ্রতি সাড়ে তিনশ টাকা কমেছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
চালের চড়া দর এখনো না কমায় ক্রেতাদের অস্বস্তি কমেনি। খুচরায় প্রতিকেজি স্বর্ণা, চায়না ও ইরি মোটা চাল ৫২-৫৬, নাজিরশাইল হাফসিদ্ধ ৮৫-৯০, পাইজাম সিদ্ধ ৯০, মিনিকেট সরু আতপ চাল ৫৮, ৬৫ ও ৭৪ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চিনিগুঁড়া মানভেদে ১৪০-১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
পর্যাপ্ত আমদানি হওয়ায় গত দুই মাসে পাইকারি বাজারে খাতুনগঞ্জে ছোলার দাম মণপ্রতি প্রায় ৬০০ টাকা কমে এসেছে। ৪২০০ টাকা থেকে নেমে পাইকারিতে ছোলা বিক্রি হচ্ছে ৩৬০০ টাকায়। খাতুনগঞ্জে গত মাসে ১০৫- ১১০ টাকায় বিক্রি হওয়া প্রতিকেজি ছোলা বিক্রি হচ্ছে ৯৫ টাকা। খুচরায় ছোলা বিক্রি হচ্ছে মানভেদে ১১০-১২০ টাকায়। খাতুনগঞ্জে পাইকারিতে মণপ্রতি চিনির দাম ৫০ টাকা কমে ৪২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খুচরায় সাদা চিনি ১২০-১২৫ এবং লাল চিনি ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
গত এক মাসে পাইকারিতে কেজিতে ৫-১০ টাকা কমেছে মসুর, মটর ও চনার ডাল। মোটা মসুর ডাল ৯০-৯৫, চনার ডাল ১১০-১২০ এবং মটরের ডাল বিক্রি হচ্ছে ৫০-৫৫ টাকায়। খুচরায় ছোট মসুর ডাল ১৩০-১৩৫, মোটা মসুর ডাল ১১০, বড় মুগ ডাল ১৩০, ছোট মুগ ডাল ১৭০, খেসারি ডাল ১২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খোলা আটা ৪৫-৫০, প্যাকেট আটা ৫৫-৬০, খোলা ময়দা ৫৫-৬৫ এবং প্যাকেট ময়দা ৭০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
পাইকারিতে সবধরনের পেঁয়াজের দাম কেজিতে ১২-১৫ টাকা কমেছে। দেশি পেঁয়াজ মানভেদে ৩৫-৩৮, ভারতীয় পেঁয়াজ ৪৫-৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খুচরায় মানভেদে দেশি পেঁয়াজ ৪০-৫০ এবং ভারতীয় পেঁয়াজ ৫৫-৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাইকারি ও খুচরায় প্রায় ২০ টাকা কমেছে আদা ও রসুনের দাম। পাইকারিতে আদা প্রতিকেজি ৫০-৮০ এবং খুচরায় ১০০-১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাইকারিতে রসুন ২০০ এবং খুচরায় ২২০-২৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
সরকার এবার খেজুরের আমদানি শুল্ক কমিয়ে দেওয়ায় এর প্রভাব পড়েছে বাজারে। গত বছরের চেয়ে এবার বিভিন্ন ধরনের খেজুরের দাম কেজিতে ৫০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। বাজারে খুচরায় খেজুর মানভেদে প্রতি কেজি ৩০০ থেকে ২ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
স্থিতিশীল রয়েছে মাছ-মাংসের বাজার। ব্রয়লার মুরগি প্রতিকেজি ১৮৫-১৯০, সোনালি মুরগি ২৯০-৩০০, লেয়ার লাল মুরগি ৩০০-৩২০ এবং দেশি মুরগি ৫৫০- ৬০০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। গরুর মাংস হাড়ছাড়া প্রতিকেজি ৯৫০ এবং হাড়সহ ৭৫০-৮০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। খাসির মাংস ১১০০-১১৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। মুরগির ডিমের দাম গত কয়েক সপ্তাহ ধরে স্থিতিশীল রয়েছে। ব্রয়লার মুরগির ডিম প্রতি ডজন ১২৫, দেশি মুরগির ডিম ২৩০-২৫০ এবং হাঁসের ডিম ২২০-২৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে মাছের বাজারে দেশি মাছের মধ্যে তেলাপিয়া ১৮০-২২০, রুই ২৫০-৩৮০, কাতলা ২৫০-৪০০, মৃগেল ২০০-২৫০, পাঙ্গাস ২০০-২২০, মাগুর ও শিং ৪৫০-৬৫০ এবং দেশি কই ৪৫০-৬৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। লইট্যা বিক্রি হচ্ছে ১৮০-৩০০ টাকায়। এছাড়া চিংড়ি ৭০০-১২০০, মলা ৩৫০-৪৫০, বাইল্যা ৪০০-৫৫০, রিকশা ৪৫০-৬০০, পাবদা ৩৫০-৪৫০, কোরাল ৭০০-১০০০, টেংরা ৬০০- ৭০০ এবং বোয়াল ৭০০-৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।