শিরোনাম
◈ বিডিআর হত্যাকাণ্ডের ভয়াবহ বর্ণনা দিলেন র‌্যাবের তৎকালীন সিও (ভিডিও) ◈ সড়ক ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থাপনা নিয়ে যা বললেন বুয়েট ভিসি (ভিডিও) ◈ খেলাপি ঋণ ছাড়াল ৩ লাখ ৪৫ হাজার কোটি টাকা ◈ শিগগিরই চালু হচ্ছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ◈ গ্যাসের দাম বাড়ানোর শুনানিতে হট্টগোল! ◈ যাদের নিয়ে ‘গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ’ ◈ হামজা চৌধুরীকে নিয়ে বাংলাদেশের ৩০ সদস্যের প্রাথমিক দল ঘোষণা  ◈ আরব আমিরাতের বিরুদ্ধে রাতে মাঠে নামছে বাংলাদেশ নারী দল ◈ ‘আমরা প্রস্তুত আছি, আশা করছি ডিসেম্বরে সংসদ নির্বাচন করতে পারবো’ ◈ চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে দায়িত্ব পালনে অবহেলা, পাকিস্তানে ১০০ পুলিশ বরখাস্ত

প্রকাশিত : ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫, ০৫:৪৭ বিকাল
আপডেট : ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫, ০৯:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

প্রশাসনের শিথিলতায় মাটি খাদকরা বেপরোয়া

এন এ মুরাদ, মুরাদনগর : দিন-রাত ভেকু ও ড্রেজারে চলছে মাটি কাটার উৎসব। নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে কাটছেন ফসলি জমি ও গোমতীর মাটি। অনুমতি ছাড়াই করছেন জমির শ্রেণি পরিবর্তন। শতশত বিঘা জমিকে বানিয়েছেন জলাশয়। মানচিত্র থেকে উধাও করে দিচ্ছেন কৃষি জমি! এমন দৃশ্য কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায়।

জানা যায়, প্রথমদিকে   ইউএনও এবং ভূমি কর্মকর্তা কিছু অভিযানে দ্রুত ব্যাবস্থা নিয়েছেন। তখন কিছুটা মাটি কাটা কমে আসলেও এখন চলছে পুরোদমে। প্রশাসনের শীথিলতায় মাটি খাদকরা হয়ে উঠেছে বেপরোয়া। মুরাদনগর উপজেলার ২২ ইউনিয়নে ২১টি ভূমি অফিস,  ভূমি অফিসের কর্মকর্তাদের  চোখের সামনে মাটি কেটে শ্রেণী পরিবর্তন করছেন মাটি খাদকরা। বিষয়টি দেখেও না দেখার ভান করছেন তাঁরা। 

স্থানীয়রা বলছেন, ভূমি অফিস ও সংশ্লিষ্টদের ম্যানেজ করেই চলে ড্রেজার - ভেকু। কখনো কখনো লোক দেখানো অভিযান হলেও বেশিরভাগ সময়ই মাটি ব্যবসায়ীরা থাকেন অধরা। অপরিকল্পিতভাবে কৃষি জমিগুলো বিলীন করে দিলেও ভূমি অফিসগুলো নিচ্ছেন না কোনো ব্যবস্থা। আকবপুর ইউনিয়নের মেটংঘর গ্রামের আরাফাত হোসেনের অভিযোগ থেকে জানা যায়, দীর্ঘদিন কৃষি জমি থেকে মাটি কেটে নিয়ে  যাচ্ছিল খোরশেদ আলম ভূইয়া। বিষয়টি নিয়ে ভূমি অফিসে অভিযোগ দিয়ে কোন প্রতিকার পাইনি। বরং অভিযোগ দেওয়ার কারণে খোরশেদ আলম ও তাঁর লোকজন আমার আব্বার কান কেটে মারাত্বক আহত করেছে।  এ ঘটনায় বাঙ্গরা বাজার থানায় একটি মামলাও রয়েছে।

কয়েকটি ইউনিয়ন ঘুরে দেখা যায়, দারোরা ইউনিয়নের কাজিয়াতল , পূর্বধৈইর ইউনিয়নের চাপৈর ও নবীয়াবাদ। আন্দিকুট ইউনিয়নের ইসলামপুর ও গাঙ্গেরকুট।  ৬নং বাঙ্গরা পূর্ব ইউনিয়নের মকলিশপুর। শ্রীকাইল ইউনিয়নের চন্দ্রনাইল ও পিঁপিড়িয়া । চাপিতলা ইউনিয়নের পুষ্কুরিনীর পাড় ও খাপুরা। পাহাড়পুর ইউনিয়নের পান্তি।  ছালিয়াকান্দি ইউনিয়নের বোরারচর আমপালসহ বিভিন্ন জায়গায় দেদারসে চলছে ড্রেজার।

অন্যদিকে  গোমতী চরে ভেকু দিয়ে মাটি কাটার পড়েছে ধুম। নবীপুর পশ্চিম ইউনিয়নের চৌধুরীকান্দি ও নয়াকান্দি পশ্চিম পাড়া, মুরাদনগর সদর ইউনিয়নের হিরাকান্দা, আলীরচর । এছাড়াও জাহাপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন জায়গায় ভেকু দিয়ে কাটা হচ্ছে মাটি। গোমতীর মাটি কাটলেও পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কর্মকর্তাদের নেই কোনো মাথা ব্যথা । তাঁদের নিরবতায় গোমতীর বাঁধ ও পরিবেশ পড়েছে চরম হুমকির মুখে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড কুমিল্লার নিবার্হী প্রকৌশলী খান মোহাম্মদ ওয়ালিউজ্জামান বলেন, “ তথ্য পাওয়ার সাথে সাথে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে থাকি। যারা পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাটি কাটবে তাদের বিরুদ্ধে মামলা নেওয়া হবে ”।

এ বিষয়ে মুরাদনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুর রহমান বলেন, “ সম্প্রতি ড্রেজার ও ভেকুর বিরুদ্ধে জোড়ালো অভিযান করেছি। এটি অব্যাহত থাকবে ”। কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মো. আমিরুল কায়সার বলেন, “ কৃষি জমির মাটি কাটার কোন অনুমতি নেই। যদি প্রশাসনের কেউ কৃষি জমি কাটার সাথে আপোষ করে
থাকে এমনটা প্রমাণিত হয়, তাহলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়