শিরোনাম
◈ একদিকে বন্ধ হয় শিল্প কারখানা, অন্যদিকে বাড়ে রপ্তানি ◈ শেওড়াপাড়া মেট্রো স্টেশনের নিচের কাঁচা বাজারে ভ.য়াবহ আগুন, নিয়ন্ত্রণে ৫ ইউনিট (ভিডিও) ◈ ৮ নির্দেশনা নির্বাচন ভবনে প্রবেশে ◈ রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানে সফলতা অর্জনের আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার ◈ মায়ানমার আরকান আর্মির হাতে জিম্মি থাকা ২৯ জন জেলেকে ফেরত আনলো বিজিবি ◈ ২২ ডিসির পাসপোর্ট বাতিল করা হয়েছে, যাদের করা হল ◈ থাইল্যান্ড-মিয়ানমার সীমান্তের ‘স্ক্যাম সেন্টারে’ বন্দী ২৪ বাংলাদেশি ◈ নতুন রাজনৈতিক দল নিয়ে যা বললেন উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ (ভিডিও) ◈ পুরো সংবিধানকে বদলে ফেলা যুক্তিযুক্ত নয়: ড. কামাল হোসেন (ভিডিও) ◈ আবারও শ্রীনগরে একটি কবরস্থান থেকে ৭টি কঙ্কাল চুরি হয়েছে!

প্রকাশিত : ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫, ০১:৩৬ রাত
আপডেট : ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫, ০৪:০০ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

এক দিনের মাথায় যে কারণে নতুন ছাত্র সংগঠন থেকে পদত্যাগ করলেন রিফাত রশিদ

আত্মপ্রকাশের মাত্র একদিনের মাথায় ছাত্র সংগঠন ‘গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ’ থেকে পদত্যাগ করেছেন সংগঠনটির সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিবের পদে থাকা রিফাত রশিদ। তার স্থলে পদ পেয়েছেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী নাঈম আবেদীন। খবর: বাংলাট্রিবিউন।

বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সমন্বয়ক রিফাত রশিদের পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন সংগঠনটির আহ্বায়ক আবু বাকের মজুমদার।

তবে পদত্যাগের কারণ জানিয়ে নিজের ফেসবুক আইডিতে একটি দীর্ঘ পোস্ট দিয়েছেন রিফাত রশিদ। পোস্টে রিফাত রশিদ লিখেন, নতুন ছাত্র সংগঠনের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটিতে যুগ্ম সদস্যসচিব হিসেবে আমার নাম ঘোষণা করা হয়েছে। এই কমিটিতে আমার নাম ঘোষণার আগে আমার থেকে কনফার্মেশন নেওয়া হয়নি। দফায় দফায় আলোচনা হয়েছিল কিন্তু আলোচনা ফলপ্রসূ হয়নি। ফলত অনুমতি ব্যতীত আমার নাম কমিটিতে রাখায় আমি এই পদ থেকে সরে এসেছি।


তিনি উল্লেখ করেন, ‘গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ’ একটি স্বতন্ত্র উদ্যোগ হলেও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পুরো সাংগঠনিক সেটআপ, লিডারশিপ থেকে শুরু করে ‘বৈছাআ’ এর পেজকেও নতুন ছাত্র সংগঠনের প্রোমোশনের কাজে লাগানো হয়েছে। কিন্তু বৈছাআকে একটি সংগঠন আকারে যারা এতদিন টেনে নিয়ে গেছেন তাদের মূল্যায়ন করা হয়নি, তাদের অংশগ্রহণ ছিল না খুব একটা ছাত্র সংগঠন গঠনের ক্ষেত্রে। বিশেষত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, সাত কলেজ, অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়সহ সবার কালেক্টিভ একটি ক্ষোভ সেখানে উপস্থিত ছিল। সবার প্রশ্ন ছিল, যদি স্বতন্ত্র উদ্যোগ হয় তাহলে ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ সেট আপকে কেন ব্যবহার করা হচ্ছে ছাত্র সংগঠন নির্মাণের ক্ষেত্রে? এই প্রশ্নটাই বারবার করা হয়েছে।

পলিসি বিষয়ে তিনি বলেন, পলিসি ছিল ছাত্র সংগঠন নির্মাণে ঢাবি ক্যাম্পাসকে যারা সংগঠিত করেছে এবং বৈষম্যবিরোধীকে যারা সংগঠিত করেছে তাদের মাঝে টপ ৮টা পোস্ট এর লিডারশিপে সমন্বয় করা হবে। পলিসি মেকিং যে পলিট ব্যুরো তৈরি হবে তারা হবে ঢাবি ও কেন্দ্রের অর্গানোগ্রাম। এক্ষেত্রে প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি, ঢাবি ব্যতীত অন্যান্য পাবলিক ইউনিভার্সিটি, সাত কলেজসহ অন্য কারোই অংশগ্রহণ ছিল না। এই জন্যই একটা কালেক্টিভ ক্ষোভ জন্ম নেয় সবার মাঝে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রিপ্রেজেনটেটিভরা ইন্টার্নালি ও এক্সটার্নালি অভিযোগও জানায়, সাত কলেজ থেকে আসা বৈছাআ নির্বাহী সদস্য মইনুল-সিনথিয়া থেকে শুরু করে সাত কলেজের প্রায় সব লিডারশিপই নতুন ছাত্র সংগঠন থেকে নিজেদের সরিয়ে নিয়েছে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পজিট করার জন্য যেই সার্চ কমিটি ছিল সেটা প্রাইভেটকে রিপ্রেজেন্ট করে না বলে প্রাইভেটের শিক্ষার্থীরা বারবার অভিযোগ এনেছে। সাত কলেজ অন্যান্য পাবলিক ও প্রাইভেট তিন গ্রুপই টপ চার/ছয় পোস্টের একটায় নিজেদের রিপ্রেজেনটেটিভ চেয়েছিল। ফলত একটা দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছে।

রিফাত রশিদ বলেন, নতুন ছাত্র সংগঠনের কেন্দ্রে বৈছাআ টপ চার এ দু’জন লিডারশিপ চেয়েছিল এবং টপ ছয়ে চার জন চেয়েছিল। টপ চার পোস্টের দুই পোস্টে জাহিদ আহসান ও আমি এবং বাকি দুই পোস্টে তৌহিদ সিয়াম ও নাঈম আবেদীনকে চেয়েছিল। টপ পোস্ট বাদ দিয়ে সাত কলেজ, প্রাইভেট, অন্যান্য পাবলিকসহ বাকিদের ক্ষেত্রে কতজন প্রতিনিধি থাকবে এটা নিয়ে বার্গেইন চলছিল। বৈছাআ থেকে আমার এবং নাঈম আবেদীনকে পজিট না করায় শিক্ষার্থীদের মাঝে ক্ষোভের জন্ম নেয়। গতকাল ভোরে প্রাইভেট ইউনিভার্সিটির ২০ জনকে নেওয়ার কমিটমেন্ট দেওয়া হলেও মূল তালিকায় ১০ জনকে রাখা হয়েছিল, বাকিদের ইনক্লুড করা হয় নাই। এটা প্রাইভেটের শিক্ষার্থীদের আরও ক্ষুব্ধ করে তোলে।

প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে তিনি বলেন, আমি প্রাইভেটের আর্বান মিডল ক্লাসকে পলিটিক্যাল করে তুলতে চেয়েছিলাম। আমার অনেকগুলো রাজনৈতিক স্বপ্ন আছে। ‘কেমন বাংলাদেশ দেখতে চাই’ এই প্রশ্নে আমার যেই ৫-৬ টা অ্যাম্বিশন আছে, তার মাঝে একটা ড্রিম হলো ঢাকাকে বাসযোগ্য নগরী বানাতে চাই, ঢাকার খালগুলো উদ্ধার করতে চাই, ঢাকাকে ডিসেন্ট্রালাইজেশন প্রসেসের মধ্য দিয়ে নিতে চাই। ঢাকায় জন্মেছি, ঢাকায় বড় হয়েছি, ঢাকা আমার সবচেয়ে প্রিয় শহর, এই শহরের প্রতি আমার দায়। এই জন্যই ঢাকা মহানগরকে সংগঠিত করতে চেয়েছি আমি।

ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, অভ্যুত্থানের পর সবাই যখন টকশো করে বেড়িয়েছে, থানা-ডিসি অফিস-সচিবালয়ে ঘুরেছে, বিভিন্ন পলিটিকাল স্ফেয়ারে-অ্যাম্বাসিতে গিয়েছে, বিদেশে ডেলিগেট হয়ে স্পিচ দিয়ে বেড়িয়েছে, আমি তখন প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিগুলোতে গিয়েছি, ঢাকার অলিগলিতে গিয়েছি। এটা আমার রাজনৈতিক অ্যাম্বিশনেরই অংশ। অভ্যুত্থানের পর আমি এই অ্যাম্বিশনের পথেই হেঁটেছি। এটা আমার চয়েজ ছিল।

তিনি বলেন, অভ্যুত্থানের পরিচিত ফেস হওয়ার পরেও এই গ্রুপটার সঙ্গে অনেক বেশি সময় কাটানো ও তাদের পলিটিক্যালি পজিট করার ফলে এদের একটা বড় অংশ চেয়েছে তাদের রিপ্রেজেনটেটিভ হিসেবে আমি থাকি নতুন ছাত্র সংগঠনের টপ পোস্টে। না হলে তাদের স্বার্থের কথা অতীতে যেমন কেউ বলে নাই এখনও বলবে না, এমন একটা আলাপ ওদের মাঝে চাউর ছিল। এইটুকুই আর কি।

নতুন ছাত্র সংগঠনে নিজের পদ সম্পর্কে তিনি বলেন, নতুন ছাত্র সংগঠনে প্রাথমিকভাবে বলা হয়েছিল আমি সদস্যসচিব হবো। এরপর আমাকে সেখান থেকে সরিয়ে মুখ্য সংগঠক, পরবর্তীতে সেখান থেকেও সরিয়ে মুখপাত্র করার প্রস্তাবনা করে। সবশেষে সেখান থেকেও মাইনাস করে আমাকে সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব পদে আসার প্রস্তাব করে। মুখপাত্র পোস্ট পর্যন্ত প্রতিটা ক্ষেত্রেই আমি কালেক্টিভ স্বার্থের কথা ভেবে মেনে নিয়েছি। যখন যুগ্ম সদস্যসচিব হিসেবে নাম প্রস্তাব করা হয় তখন আমি স্পষ্টভাবেই জানিয়ে দেই, এই ছাত্র সংগঠনে আমি থাকবো না। এটা জানিয়ে দেওয়ার পর আর কোনও মিটিং, সংগঠন গঠনের ক্ষেত্রে সার্চ কমিটি এবং লিটারেচার টিমের কোনও কাজের সঙ্গেই যুক্ত ছিলাম না। আমি পুরোপুরি এই সংগঠন গঠনের সব প্রসেস থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছিলাম। প্রাইভেট ও মহানগর থেকে সার্চ কমিটিতে রিপ্রেজেনটেটিভ দিয়ে গিয়েছিলাম। তাদের পজিট করানো আমার দায়িত্ব ছিল, আমি সেই দায়িত্ব পালন করে সরে গিয়েছি।

রিফাত রশিদ আরও লিখেন, আমাকে যখন প্রতিদিন নতুন প্রস্তাবনায় পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে, এটা ক্ষোভ জন্ম দেয় সেসব গ্রুপের মাঝে, যারা আমার হাত ধরে প্রথমবার রাজনীতিতে এসেছে। তারা চেয়েছিল আমি আমার সদস্যসচিব পদ আঁকড়ে ধরে রাখি, কিন্তু আমি জানিয়ে দেই সংগঠনের স্বার্থে আমাকে যদি সংগঠন থেকে সরেও যেতে হয় আমি সেটাই করবো। আমি আসলে সেটাই করেছিলাম। জ্বরে অসুস্থ ছিলাম, বের হইনি, সারাদিন ঘরে বসে সিনেমা দেখেছি। নিজেকে সরিয়ে নিয়েছি কালেক্টিভ স্বার্থের কথা চিন্তা করে।

 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়