শিরোনাম
◈ ফের সাভারে চলন্ত বাসে ডাকাতি, স্বর্ণালঙ্কারসহ মালামাল লুটপাট ◈ ফ্লাইওভারে গাড়ির সঙ্গে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ, প্রাণ গেল দুই যুবকের ◈ ফিফা র‌্যাংকিংয়ে দুই ধাপ এগিয়েছে বাংলাদশে, পিছিয়েছে ভারত ◈ ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক খারাপ হয়, এমন বক্তব্য পরিহার করার আহ্বান ভারতের প্রধানমন্ত্রীর ◈ এবার মার্কিন পণ্যে পাল্টা ৩৪ শতাংশ শুল্ক আরোপ করল চীন ◈ বিশ্বের মুসলিম দেশগুলো ঐক্যবদ্ধ থাকলে কেউ জুলুম চালাতে পারবে না : ইরান ◈ দেশে ফিরলেন প্রধান উপদেষ্টা ◈ বাংলাদেশের কোনো নির্দিষ্ট দলকে সমর্থন নিয়ে ড. ইউনূসকে যা বলেন মোদি ◈ ড. ইউনূস-মোদি ৪০ মিনিটের বৈঠকে যেসব বিষয়ে আলোচনা করেন ◈ লাশের স্তুপে পরে থাকা কানাই লাল জানালেন সেই নৃশংস গণহত্যার ঘটনা

প্রকাশিত : ০৪ এপ্রিল, ২০২৫, ০৮:৩৫ রাত
আপডেট : ০৫ এপ্রিল, ২০২৫, ০৫:০০ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ট্রাম্পের শুল্কারোপে আইফোনের দাম ছুঁতে পারে ২,৩০০ ডলার

যুক্তরাষ্ট্রের এবার আন্তর্জাতিক বাণিজ্যযুদ্ধে জড়ানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পাল্টাপাল্টি শুল্ক আরোপের কারণে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দা এবং বিশ্বের বৃহত্তম ভোক্তাবাজারে পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা প্রবল হচ্ছে। খবর: রয়টার্স

গত বুধবার ট্রাম্পের ঘোষিত শুল্কের কারণে বিশ্বব্যাপী আর্থিক বাজারে ধস নেমেছে। কয়েক দশকের বাণিজ্য উদারীকরণের যুগের সমাপ্তি নিয়ে অন্যান্য দেশের নেতারা সমালোচনা করছেন।

জাপান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদার। দেশটির প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবা বলেছেন, শুল্ক আরোপের কারণে ‘জাতীয় সংকট’ তৈরি হয়েছে। আজ শুক্রবার ব্যাংক খাতের শেয়ারদরে পতনের কারণে টোকিওর শেয়ারবাজার কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ সপ্তাহের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

বিনিয়োগ ব্যাংক জেপি মরগান জানিয়েছে, তারা এখন বছরের শেষ নাগাদ বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দার সম্ভাবনা দেখছে ৬০ শতাংশ, এর আগের অনুমান ছিল ৪০ শতাংশ।

তবে, এই শুল্ক স্থায়ী হবে নাকি, এটি আসলে বিভিন্ন দেশের কাছ থেকে ছাড় আদায়ের কৌশল, তা নিয়ে হোয়াইট হাউস থেকে পরস্পরবিরোধী বার্তা পাওয়া যাচ্ছে। ট্রাম্প বলেছেন, ‘এটি আমাদের আলোচনার জন্য দারুণ ক্ষমতা দেবে।’

মার্কিন শুল্ক এক শতাব্দীর বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ বাণিজ্য বাধা তৈরি করতে পারে:

সমস্ত আমদানির ওপর ১০ শতাংশ বেসলাইন শুল্ক এবং বেশ কয়েকটি দেশের ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপ করেছেন ট্রাম্প। এর ফলে মার্কিন ক্রেতাদের জন্য গাঁজা (!) থেকে শুরু করে জুতা এবং আইফোন পর্যন্ত সবকিছুর দাম বাড়তে পারে। রোজেনব্লাট সিকিউরিটিজের অনুমান অনুসারে, অ্যাপল যদি ভোক্তাদের ওপর খরচ চাপিয়ে দেয়, তবে একটি আইফোনের দাম হবে প্রায় ২ হাজার ৩০০।

এ ছাড়া ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো দ্রুত তাদের আয়-ব্যয় সমন্বয় করতে শুরু করবে। এরই মধ্যে অনেক প্রতিষ্ঠান এটি শুরু করে দিয়েছে। অটোমেকার স্টেলান্টিস জানিয়েছে, তারা অস্থায়ীভাবে মার্কিন কর্মীদের ছাঁটাই করবে এবং কানাডা ও মেক্সিকোতে কারখানা বন্ধ করবে। যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান জেনারেল মোটরস জানিয়েছে, তারা মার্কিন উৎপাদন বাড়াবে।

কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বলেছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সহযোগিতার চ্যাম্পিয়ন হিসেবে তার ঐতিহাসিক ভূমিকা থেকে সরে এসেছে। গত বুধবার তিনি বেশ কয়েকটি পাল্টা ব্যবস্থা ঘোষণা করে বলেছেন, ‘আজকের বিশ্ব অর্থনীতি গতকালের থেকে মৌলিকভাবে আলাদা।’

অন্যান্য দেশের মধ্যে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি চীন তাদের পণ্যে ট্রাম্পের ৫৪ শতাংশ শুল্ক আরোপের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে। ২০ শতাংশ শুল্কের মুখোমুখি ইউরোপীয় ইউনিয়নও পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ ইউরোপীয় দেশগুলোকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগ স্থগিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।

জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, মেক্সিকো এবং ভারতের মতো অন্য বাণিজ্যিক অংশীদারগুলো ট্রাম্পের ব্যবসায়িক ছাড় আদায়ের এই কৌশলের বিরুদ্ধে আপাতত কোনো প্রতিশোধ নেওয়া থেকে বিরত থাকার কথা জানিয়েছে। ব্রিটেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, তাঁরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি অর্থনৈতিক চুক্তি নিয়ে কাজ করছেন।

তবে ওয়াশিংটনের মিত্র এবং প্রতিদ্বন্দ্বী উভয়ই বিশ্ব বাণিজ্যে একটি ধ্বংসাত্মক আঘাতের সতর্কবার্তা দিয়েছে। আইএমএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিভা বলেছেন, ‘মন্দা বৃদ্ধির সময়ে এমন শুল্ক বিশ্বব্যাপী দৃষ্টিভঙ্গির জন্য একটি উল্লেখযোগ্য ঝুঁকি তৈরি করে।’ ওয়াশিংটনকে তার অংশীদারদের সঙ্গে বাণিজ্য উত্তেজনা নিরসনে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক এবং সিনিয়র বাণিজ্য উপদেষ্টা পিটার নাভারো গতকাল বৃহস্পতিবার কেবল নিউজ প্রোগ্রামগুলোতে বলেছেন, প্রেসিডেন্ট কোনোভাবেই পিছু হটবেন না। এই শুল্ক বৃদ্ধি কাউকে আলোচনার টেবিলের আনার কৌশল নয়। যদিও ট্রাম্প শুল্ক ঘোষণার সময় সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘শুল্ক আমাদের আলোচনার জন্য দারুণ ক্ষমতা দেয়। সব সময় দিয়েছে। প্রথম প্রশাসনে আমি এটি খুব ভালোভাবে ব্যবহার করেছি, যেমনটি আপনারা দেখেছেন, তবে এখন আমরা এটিকে সম্পূর্ণ নতুন স্তরে নিয়ে যাচ্ছি।’

ট্রাম্পের এই ঘোষণার পর বিশ্বব্যাপী শেয়ারবাজারে ধস নেমেছে, মার্কিন ডলারের পতন হয়েছে এবং জ্বালানি তেলের দাম কয়েক মাসের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ সপ্তাহের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। বিশ্লেষকেরা সতর্ক করেছেন, নতুন শুল্ক চাহিদা কমাতে পারে, সরবরাহ শৃঙ্খল ব্যাহত করতে পারে এবং করপোরেট মুনাফা কমাতে পারে।

গত বুধবার নতুন শুল্ক ঘোষণার দিনই বিশ্বব্যাপী পুঁজিবাজারের সূচকের মধ্যে ডাও প্রায় ৪ শতাংশ কমেছে, যা ২০২০ সালের জুনের পর থেকে এক দিনে সবচেয়ে বড় পতন। এসঅ্যান্ডপি ৫০০ প্রায় ৫ শতাংশ কমেছে এবং প্রযুক্তি কোম্পানি ঘন নাসডাক প্রায় ৬ শতাংশ কমেছে, যা ২০২০ সালের মার্চের মহামারি সময়ের পর শতাংশের দিক থেকে সবচেয়ে খারাপ দিন।

উল্লেখযোগ্য বিদেশি উৎপাদক সংস্থাসহ আমেরিকান সংস্থাগুলোও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নাইকির শেয়ার ১৪ শতাংশ কমেছে এবং অ্যাপলের শেয়ার দর কমেছে ৯ শতাংশ।

আজ শুক্রবারও বাজারের পতন অব্যাহত রয়েছে। জাপানের নিক্কেই পাঁচ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় সাপ্তাহিক পতনের দিকে এগিয়ে গেছে। বিশ্বের বৃহত্তম ঋণদাতাদের মধ্যে কয়েকটি জাপানি ব্যাংকের শেয়ার দরের পতনের কারণে নিক্কেই সূচকের এমন অধোগতি।

এদিকে জাপানি বন্ডের দামও ব্যাপকভাবে কমেছে। কারণ, বিনিয়োগকারীরা বাজি ধরেছেন, ব্যাংক অব জাপান সুদের হার বাড়ানোর পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য হতে পারে।

ট্রাম্প বলেছেন, মার্কিন পণ্যের ওপর আরোপিত নানা বাধার প্রতিক্রিয়ায় পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছেন তিনি। তাঁর প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, শুল্ক দেশে উৎপাদন খাতে কর্মসংস্থান তৈরি করবে এবং বিদেশে রপ্তানি বাজার উন্মুক্ত করবে। সেই তাঁরা সতর্ক করেছেন, ফলাফল দৃশ্যমান হতে সময় লাগবে।

নিউজম্যাক্সের সঙ্গে একটি সাক্ষাৎকারে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সমালোচকদের একহাত নিয়েছেন। স্বল্পমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে এটি বোঝা যাবে না বলে মনে করেন তিনি। ভ্যান্স বলেন, ইস্পাত থেকে শুরু করে ফার্মাসিউটিক্যালস পর্যন্ত আমাদের প্রয়োজনীয় জিনিসগুলোর উৎপাদন এবং জাতীয় নিরাপত্তাই এই শুল্কের মূল বিষয়।

গত জানুয়ারিতে হোয়াইট হাউসে দ্বিতীয় মেয়াদে আসার পর থেকে ট্রাম্পের বারবার শুল্ক আরোপের হুমকি ভোক্তা এবং ব্যবসায়ের আস্থা নাড়িয়ে দিয়েছে। ৯ এপ্রিলের আগে পাল্টাপাল্টি শুল্ক কার্যকর হওয়ার কথা নয়। অনেকে মনে করছেন, ট্রাম্প তাঁর অবস্থান থেকে পিছু হটতেও পারেন।

ক্যাপিটাল আলফার প্রতিষ্ঠাতা অংশীদার জেমস লুসিয়ার বলেছেন, ‘শুল্ক পরিকল্পনাটি ভালোভাবে চিন্তা করা হয়েছে বলে মনে হয় না। বাণিজ্য আলোচনা একটি অত্যন্ত কারিগরি শৃঙ্খলার বিষয়। আমাদের মতে, এই প্রস্তাবগুলো কোনো দেশের সঙ্গে আলোচনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ শর্ত তৈরি করে না।’

অর্থনীতিবিদেরা বলছেন, শুল্ক মূল্যস্ফীতির আগুনে আবার ঘৃতাহুতি করতে পারে। এই শুল্ক মার্কিন বাজারে মন্দার ঝুঁকি বাড়াতে পারে এবং গড় মার্কিন পরিবারের জন্য হাজার হাজার ডলার জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়াতে পারে।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, এই অতিরিক্ত শুল্ক এশিয়ার মার্কিন মিত্রদের ওয়াশিংটনের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করতে পারে এবং সেই সঙ্গে চীনকে নিয়ন্ত্রণের কৌশলগত চেষ্টাকেও দুর্বল করে দিতে পারে। ট্রাম্প জাপান এবং দক্ষিণ কোরিয়ার ওপর ২৪ শতাংশ এবং ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছেন, যেখানে উভয় দেশেই যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। চীন থেকে ক্রমবর্ধমান সামরিক চাপের মুখে থাকা তাইওয়ানের ওপরও তিনি ৩২ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার কানাডা ও মেক্সিকোকে অবশ্য নতুন শুল্কের বাইরে রাখা হয়েছে। তবে তারা ইতিমধ্যে অনেক পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্কের মুখোমুখি হয়েছে। এখন গাড়ি ও গাড়ির যন্ত্রাংশ আমদানির ওপর আলাদা শুল্কের মুখোমুখি। অনুবাদ: আজকের পত্রিকা।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়