শিরোনাম
◈ জাতীয় নাগরিক পার্টির আত্মপ্রকাশ: দলে যোগ দিচ্ছেন ছাত্র-জনতা (ভিডিও) ◈ জাতীয় নাগরিক পার্টির শীর্ষ ১০ নেতা চূড়ান্ত, থাকছেন যাঁরা ◈ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে যাচ্ছে বিএনপির প্রতিনিধি দল ◈ ১৪০১ জন 'জুলাই যোদ্ধার' তালিকার গেজেট প্রকাশ ◈ শাপলা চত্বরে হত্যাকাণ্ডের কারণ ও মৃত্যু সংখ্যা নিয়ে যা জানালেন প্রেস সচিব (ভিডিও) ◈ থানা থেকে গ্রেফতার হলেন ভাঙ্গা থানার ওসি ◈ আখতার হোসেন ও নাহিদ ইসলামকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করে যা বললেন আসিফ নজরুল ◈ জাতীয় নাগরিক পার্টিতে নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব কতটা গভীর, কীভাবে ঐক্য ধরে রাখবে এই নতুন দল? ◈ নতুন দল ‘জাতীয় নাগরিক পার্টি’ আত্মপ্রকাশ বিকেলে, শীর্ষ নেতৃত্বে যারা থাকছেন ◈ বরেন্দ্র অঞ্চলে স্মার্ট কৃষি প্রযুক্তির সাফল্য: নেদারল্যান্ডের ‘ভ্যালেন্সিয়া’ আলু চাষে কৃষকদের বিপ্লব

প্রকাশিত : ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫, ১১:৪৩ দুপুর
আপডেট : ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫, ০৪:২৯ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

বেক্সিমকোর শ্রমিক-কর্মচারীদের পাওনা পরিশোধে ৫২৫ কোটি টাকা ঋণ দিচ্ছে সরকার

বেক্সিমকো শিল্পপার্কের ১৪টি লে–অফ প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক-কর্মচারীদের পাওনা পরিশোধে ৫২৫ কোটি ৪৬ লাখ টাকা দিচ্ছে সরকার। পাওনা পরিশোধে কোম্পানিটিকে ঋণ হিসেবে এই অর্থ দেওয়া হচ্ছে, যা পরে বেক্সিমকো গ্রুপকে পরিশোধ করতে হবে। পাওনাদারদের মধ্যে শ্রমিক রয়েছেন ৩১ হাজার ৬৭৯ জন, আর কর্মচারী ১ হাজার ৫৬৫ জন। আগামী ৯ মার্চ থেকে এই পাওনা পরিশোধ শুরু হবে। রমজানের মাঝামাঝি পর্যন্ত ধাপে ধাপে এসব পাওনা পরিশোধ করা হবে।

সচিবালয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার বেক্সিমকো শিল্পপার্কের প্রতিষ্ঠানগুলোর শ্রম ও ব্যবসায় পরিস্থিতি পর্যালোচনা–সংক্রান্ত উপদেষ্টা কমিটির বৈঠক শেষে শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন এসব তথ্য জানান।

এ সময় আরও জানানো হয়, আজ শুক্রবার থেকে বেক্সিমকো শিল্পপার্কের ১৪টি প্রতিষ্ঠান পুরোপুরি বন্ধ ঘোষণা করা হবে। বন্ধ এসব প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক-কর্মচারীদের পাওনা পরিশোধে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ দেবে ৩২৫ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। বাকি ২০০ কোটি টাকা নেওয়া হবে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন কেন্দ্রীয় তহবিল থেকে। ৯ মার্চ থেকে বেক্সিমকো গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) শ্রমিক-কর্মচারীদের পাওনা পরিশোধের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

বেক্সিমকো শিল্পপার্কের প্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়ে পরবর্তী করণীয় ঠিক করতে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে বলেও সাংবাদিকদের জানানো হয়। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়সংক্রান্ত বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী ছয় সদস্যবিশিষ্ট এ কমিটির নেতৃত্ব দেবেন। বাংলাদেশ ব্যাংক, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ও অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় থেকে একজন করে সদস্য থাকবেন কমিটিতে। আর থাকবেন বেক্সিমকো লিমিটেডে নিযুক্ত রিসিভার। কমিটির সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান।

বেক্সিমকো শিল্পপার্কের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে ২০০৮-২০২৪ সময়ে জনতা ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যাংক থেকে বিপুল পরিমাণ ঋণ দেওয়া হয়েছে। অনিয়মের ভিত্তিতে এসব ঋণ দেওয়ার জন্য ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংক, বিএসইসির কর্মকর্তাদেরও দায় আছে। এসব কথা উল্লেখ করে শ্রম উপদেষ্টা জানান, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মাধ্যমে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আর ঋণ দেওয়ার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা যেন দেশের বাইরে যেতে না পারেন, সে জন্য নিষেধাজ্ঞা আরোপসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

গত ৫ আগস্ট সরকার বদলের পর বেক্সিমকো গ্রুপের অন্যতম কর্ণধার ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি বিনিয়োগ ও শিল্পবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান গত ১৩ আগস্ট থেকে কারাগারে রয়েছেন। ২৯ আগস্ট সালমান এফ রহমান, তাঁর ছেলে আহমেদ শায়ান ফজলুর রহমান, পুত্রবধূ শাজরেহ রহমানের ব্যাংক হিসাব জব্দ করে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)।

পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে শুরুতে বেক্সিমকো গ্রুপের কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার বিক্রি করে শ্রমিকদের পাওনা মেটানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সাখাওয়াত হোসেনের নেতৃত্বাধীন উপদেষ্টা কমিটি। পরে শেয়ার বিক্রিতে জটিলতা দেখা দেওয়ায় সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধের সিদ্ধান্ত হয়।

শ্রম উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা কোনো শ্রমিকের বিরুদ্ধে না। কোনো শ্রমিকের চাকরি চলে যাক, তা আমরা চাই না। কারণ, তাঁদেরও পরিবার আছে।’ বেক্সিমকোর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এমন কিছু করবেন না, যাতে সরকারকে কঠোর হতে হয়—এমন হুঁশিয়ারও করেন সাখাওয়াত হোসেন।

এদিকে উপদেষ্টা কমিটির সিদ্ধান্তের আগে গত বুধবার বেক্সিমকো গ্রুপের পক্ষ থেকে ১৪টি কোম্পানির কার্যক্রম বন্ধের ঘোষণা দেওয়া হয়। কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কাজ না থাকায় এসব কোম্পানি ১৬ ডিসেম্বর থেকে ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত লে-অফ ঘোষণা করা হয়েছিল। এরপরও কাজের কোনো সংস্থান না হওয়ায় আজ শুক্রবার থেকে কারখানাগুলোর কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ ঘোষণা করা হয়। সেই সঙ্গে এসব প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের শ্রম আইন মেনে ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। সূত্র: প্রথমআলো

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়