শিরোনাম

প্রকাশিত : ০৪ এপ্রিল, ২০২৫, ০১:৪৫ রাত
আপডেট : ০৪ এপ্রিল, ২০২৫, ০৬:০০ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

রাশিয়ার হয়ে ইউক্রেনে যুদ্ধ করা ময়মনসিংহের ইয়াসিন মারা গেলেন

ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার ডৌহাখলার মরিচালি গ্রামের আব্দুস সাত্তার শেখের ছেলে ইয়াসিন মিয়া শেখ। বাবার স্বপ্ন ছিল ছেলে একজন সেনাসদস্য হবেন। তবে স্বপ্ন আর বাস্তবে রূপ নেয়নি। ৯ বছর আগে মারা যান আব্দুস সাত্তার শেখ।

অভাব-অনটনের সংসারের হাল ধরতে কোম্পানিতে চাকরি করতে গত বছরের সেপ্টেম্বরে রাশিয়ায় পাড়ি দেন ইয়াসিন। সেখানে গিয়ে রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে সৈনিক হিসেবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেয়ে যোগ দেন ইউক্রেন যুদ্ধে। গত ২৭ মার্চ ইউক্রেনের মিসাইল হামলায় থেমে যায় সেই স্বপ্নের যাত্রা। একটি বোমা এসে পড়ে শরীরে। সঙ্গে সঙ্গে ছিন্নভিন্ন হয়ে যায় শরীর। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ইয়াসিনের।

ঈদুল ফিতরের পরদিন (মঙ্গলবার) বিকেলে ইয়াসিনের এক সহযোদ্ধা ইয়াসিনের মৃত্যুর খবর জানিয়েছেন তার পরিবারকে। তার মৃত্যুর খবরে শোকে বিহ্বল পরিবারের সদস্যরা।

বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) বিকেলে ইয়াসিন শেখের গ্রামের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, মৃত্যুর খবরে শোকে কাতর পরিবার। ছেলের ছবি হাতে নিয়ে বিলাপ করছেন মা ফিরোজা খাতুন। বড় ভাই রুহুল আমিন শেখের দুচোখ দিয়ে অঝোরে গড়িয়ে পড়ছে পানি। খাটের কোণে বসে কখনো নীরবে আবার কখনো হাউমাউ করে কেঁদে উঠছেন। মা আর ছেলের কান্না দেখে প্রতিবেশীরাও যেন বাকরুদ্ধ।

স্থানীয় জাহিদুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ‘ইয়াসিন এলাকায় খুব ভালো ছেলে হিসেবে পরিচিত। সে চাকরির জন্য বিদেশ যাওয়ায় আমরা সবাই খুব খুশি হয়েছিলাম। ভেবেছিলাম, ছেলেটা অনেক টাকা উপার্জন করে পরিবারে সচ্ছলতা ফেরাবে। কিন্তু তা আর হলো না।’

আব্দুল হাই নামের আরেকজন বলেন, ‘পরিবারটি দরিদ্রতার সঙ্গে যুদ্ধ করছে। সুখের হাতছানি দিয়েও সুখ বাস্তবে দেখা দেয়নি। এমন মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।’

আহাজারি করতে করতে ইয়াসিনের মা ফিরোজা খাতুন বলছিলেন, ইয়াসিন ঢাকার পল্লবীর সরকারি বঙ্গবন্ধু কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন। বাবা মারা যাওয়ার পর বড় ছেলে অনেক কষ্ট করে তাকে পড়াশোনা করিয়েছেন। ঋণ করে বিদেশে পাঠিয়েছেন। ছেলের মৃত্যুতে পরিবারের সব স্বপ্ন ধূলিসাৎ হয়ে গেছে। তিনি বলেন, এখন শুধু আমরা আমাদের ছেলের লাশটা ফেরত চাই।

নিহতের বড় ভাই রুহুল আমি বলেন, ‘২০২৪ সালের ২২ ডিসেম্বর জানতে পারি ইয়াসিনকে সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ দিয়ে যুদ্ধে পাঠানো হয়েছে। যুদ্ধে যাওয়ার আগেই মস্কো থেকে প্রায় ১১ হাজার কিলোমিটার দূরের ওই কোম্পানিতে তিন মাস চাকরির করেছিল সে। এরইমধ্যে আমরা তার মৃত্যুর খবর পাই।’

এ বিষয়ে গৌরীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাজ্জাদুল হাসান বলেন, খবর পেয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনারকে ইয়াসিনের গ্রামের বাড়িতে পাঠানো হয়েছে। জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হবে। উৎস: জাগোনিউজ২৪

 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়