লালমনিরহাট প্রতিনিধি : লালমনিরহাটে গোপনে ধারণ করা নগ্ন ছবি ও ভিডিও নিয়ে ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগে পৌরসভার কলেজ বাজার এলাকা থেকে আব্দুর রাজ্জাক (২৮) নামের একজনকে গ্রেফতার করেছে লালমনিরহাট সদর থানা পুলিশ। শনিবার (২৯ মার্চ) সকালে লালমনিরহাট সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি তদন্ত) বাদল কুমার মন্ডল সাংবাদিকদের গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে শুক্রবার রাতে কলেজ বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
গ্রেফতার আব্দুর রাজ্জাক আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের মন্টু মিয়ার ছেলে। অভিযোগে জানা যায়, লালমনিরহাট সদর থানায় পর্নোগ্রাফির একটি অভিযোগের পর থানা পুলিশ আসামি গ্রেফতারে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে। এর ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার রাতে থানার লালমনিরহাট পৌরসভার কলেজ বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে।
এ সময় তার কাছ থেকে ভিকটিমের বিপুল পরিমাণ নগ্ন ছবি, ভিডিও, ইমো ও ম্যাসেঞ্জার কথোপকথনের স্ক্রিনশট জব্দ করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আব্দুর রাজ্জাক জানান, ভিকটিমের সঙ্গে তার প্রায় তিন বছর আগে প্রাইভেট পড়াতে গিয়ে পরিচয় হয়। তখন থেকেই ভিকটিমের সঙ্গে তিনি মাঝে মাঝে ম্যাসেঞ্জারে কথা বলতেন। ধীরে ধীরে তাদের মাঝে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রেমের এক পর্যায়ে ভিকটিমকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তার সাথে দৈহিক সম্পর্ক গড়ে তোলে এবং গোপনে সেই মুহুর্তের নগ্ন ছবি ও ভিডিও ধারন করেন।
এসব নগ্ন ছবি, ভিডিও বন্ধু ও পরিবারের সদস্যদের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ভিকটিমকে পুনরায় শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করার জন্য চাপ প্রয়োগ করতে থাকেন। পরবর্তীতে ভিকটিম বিয়ের কথা বললে তিনি বিভিন্নভাবে টাল-বাহানা শুরু করেন। একপর্যায়ে প্রেমিক বিভিন্ন সময় কার ধারণকৃত ছবি-ভিডিও ভিকটিমের আত্মীয়-স্বজন, বন্ধুসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন।
এরপর ভিকটিম সম্পর্ক ছিন্ন করার চেষ্টা করলে আসামি ৫ লাখ টাকা দাবি করেন। এছাড়া শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন না করলে তার কাছে থাকা নগ্ন ছবি-ভিডিও ভাইরাল করার হুমকি দেন। গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে তার মোবাইলে ও গুগল ড্রাইভে বিপুল পরিমাণ নগ্ন ভিডিও ও ছবি পাওয়া যায়। লালমনিরহাট সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি তদন্ত) বাদল কুমার মন্ডল জানান, পর্নোগ্রাফি আইন ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়েরের পর আজ শনিবার দুপুরের দিকে আদালতে পাঠানো হবে।