বাংলাদেশ প্রতিদিন : চট্টগ্রামে ১৬টি সংসদীয় আসনে সাত মাসে বিএনপির অন্তঃকোন্দলে ছোটবড় সংঘর্ষ হয়েছে ৫ শতাধিক। আহত হয়েছেন কয়েক হাজার। নিহত হয়েছেন কমপক্ষে ২০ জন। বেশির ভাগ সংঘর্ষের নেপথ্যে ছিল ব্যক্তিগত আক্রোশ, অন্তঃকোন্দল, দ্বন্দ্ব ও আধিপত্য বিস্তার। বিএনপি হাইকমান্ডের দাবি, অন্তঃকোন্দল রোধে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে নেওয়া হয়েছে সাংগঠনিক ব্যবস্থা। বিভাগীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক হারুন উর রশিদ বলেন, ‘অন্তঃকোন্দল ও সংঘাত ঠেকাতে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে বিএনপি।
সংঘাতে জড়িত থাকার অভিযোগে শত শত নেতা-কর্মীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। নেতা-কর্মীদের প্রতি আমাদের বার্তা-অপরাধ করে পার পাওয়ার সুযোগ নেই বিএনপিতে।’ জানা যায়, আগস্টে ছাত্র-জনতার বিপ্লবের পর পালিয়ে থাকা বিএনপি নেতা-কর্মীরা এলাকায় ফিরে আসেন। এর পরই শুরু হয় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দ্বন্দ্ব। নিজ দলের নেতা-কর্মীদের হাতে অপহরণও হয়েছেন অনেকে। এসবের সঙ্গে যুক্ত হয় ভূমি ও বালুমহাল দখল, অন্যের জমি ও পুকুরের মাটি কেটে ব্যবসা, ইন্টারনেট-ডিশ ব্যবসা নিয়ে বিরোধ।
এদিকে চট্টগ্রামের রাউজান বিএনপি নেতা-কর্মীদের জন্য আতঙ্কের জনপদে পরিণত হয়েছে। চাঁদাবাজি, বালুমহাল দখল এবং আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সাত মাসে বিদ্যমান গ্রুপগুলোর মধ্যে কমপক্ষে ৬০টি সংঘর্ষ হয়েছে। হামলা-পাল্টা হামলায় নিহত হয়েছেন সাতজন। আহত হয়েছেন ৩ শতাধিক। ২৬ মার্চ মিরসরাই উপজেলা এবং দুই পৌরসভার কমিটি ঘোষণা কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে একজন নিহত এবং কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়েছেন।
একই দিন কুপিয়ে হত্যা করা হয় সীতাকু উপজেলা কৃষক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক নাছির উদ্দিনকে। ১৯ মার্চ ফটিকছড়ি উপজেলায় যুবদলের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে রমজান আলী নামে যুবদল কর্মী নিহত এবং আহত হয়েছেন দুজন। ৮ ফেব্রুয়ারি সীতাকুে কুপিয়ে হত্যা করা হয় যুবদল কর্মী মোহাম্মদ সজীবকে। ২০ জানুয়ারি সন্দ্বীপ উপজেলার গাছুয়ায় পিটিয়ে হত্যা করা হয় এক বিএনপি কর্মীকে। ২ জানুয়ারি সীতাকুে র সলিমপুরে ছুরিকাঘাতে খুন করা হয় উপজেলা বিএনপি নেতা মীর আরমান হোসেনকে।