শিরোনাম

প্রকাশিত : ২৮ মার্চ, ২০২৫, ০২:০৫ রাত
আপডেট : ৩১ মার্চ, ২০২৫, ০৩:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ময়মনসিংহের আলোচিত চারজন বসতির সেই উমানাথপুর গ্রাম বিক্রি হয়ে গেছে

অবশেষে মাত্র চারজন জনসংখ্যা নিয়ে গড়ে উঠা ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার আলোচিত সেই উমানাথপুর গ্রাম বিক্রি হয়ে গেছে।

চার মাস আগে গ্রামের মালিক মো. সিরাজুল হক সরকার স্থানীয় আব্দুল মন্নাছের কাছে এই গ্রামটি বিক্রি করে দেন। তবে বুধবার বিকালে গ্রাম বিক্রির ঘটনা প্রকাশ পায় বলে জানান এলাকাবাসী।

গত বছর জুলাই মাসে ‘একটি বাড়ি নিয়ে একটি গ্রামের’ বিষয়টি সংবাদমাধ্যমে এলে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়।

উপজেলার রাজিবপুর ইউনিয়নের ‘উমানাথপুর’ নামে এই গ্রামের মোট জমির পরিমাণ ২৫ শতক। ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. সিরাজুল সরকার উত্তরাধিকার সূত্রে বাড়িটি পেয়েছেন। তিনি স্ত্রী ও সন্তানসহ মোট চারজনকে নিয়ে বসবাস করে আসছিলেন। যেখানে দুটি বসত ঘর, একটি গোয়াল ঘর, আছে একটি ছোট পুকুর ও একটি টয়লেট ছাড়াও বেশ কিছু গাছগাছালি। অন্যের জমির আইল দিয়ে এই বাড়িতে প্রবেশ করতে হয়। আর এই বাড়ি ঘিরেই ‘উমানাথপুর’ নামে একটি গ্রাম।

সিরাজুল হক সরকার উপজেলা সাবরেজিস্ট্রি অফিসে দলিল লেখক হিসাবে কাজ করেন। ইউনিয়ন পরিষদসহ সব স্থানে কাগজে-কলমে এই বাড়িকে ঘিরেই গ্রামের পরিচয়। উপজেলার উত্তর দিকে এই গ্রামের অবস্থান। এই গ্রামের পাশেই পশ্চিমে রয়েছে ব্রহ্মপুত্র নদ। উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত কাগজপত্রে মৌজার নামও ‘উমানাথপুর’। এর আশপাশে গ্রামগুলো হলো- উত্তরে রামগোবিন্দপুর, দক্ষিণে হরিপুর, পূর্বে উদয়রামপুর ও পশ্চিমে রামগোবিন্দপুর ও হরিপুর।

রাজিবপুর ইউনিয়নে মোট গ্রামের সংখ্যা ৪৩টি তার মধ্যে উমানাথপুরও একটি। তবে এত কম লোক আর কোনো গ্রামে বসবাস করেন না।

প্রায় চার মাস আগে ১৫ লাখ টাকায় গ্রামটি বিক্রি করে দেন সিরাজুল ইসলাম সরকার। এক সপ্তাহ আগে জমির দলিল করাসহ অন্যান্য সব কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

সিরাজুল ইসলাম সরকার বলেন, নিজের জন্য এত বড় বাড়ির প্রয়োজন নেই। তাই ভালো দামে বিক্রি করে একটু কম দামে পাশেই অন্য গ্রামে জমি কিনেছেন। সেখানেই নতুন বাড়ি করে বসবাস করবেন।

বাড়ি তো নয়, পুরো গ্রামই বিক্রি করে দিলেন এমন প্রশ্নের জবাবে সিরাজুল বলেন, “তা বলতে পারেন। এখন যারা থাকবেন তারা তো ভাগ্যবান। গত প্রায় ৬০ বছরের ইতি টানলাম।”

গ্রামটি কিনেছেন পাশের উদয়রামপুর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল মন্নাছ। তিনি ঢাকায় বড় ছেলে মোস্তুফা কামালকে নিয়ে ফলের ব্যবসা করেন। তার মোবাইলে কল করলে ধরেন ছেলে মোস্তুফা কামাল।

তিনি বলেন, তার বাবা সবকিছু নিয়ে এই বাড়িটি ১৫ লাখ টাকায় কিনেছেন। রেজিস্ট্রিসহ খরচ পড়েছে ১৭ লাখ। যেদিন সবকিছু সম্পন্ন হয়েছে পরদিনই তিন ভাই, মা ও বাবাকে নিয়ে বাড়িতে উঠেছেন। এখন তাদের সদস্য সংখ্যা নয়জন। বাড়িটি কিনতে পেরে তারা সবাই খুশি। কারণ এটা শুধু বাড়িই নয়, পুরো একটা গ্রামের পরিচয়। সূত্র: বিডিনিউজ ২৪

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়