আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলে সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট সংসদের (এসডিএস) জমিতে অবৈধভাবে মাটি কাটার অভিযোগে জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হকের ভেকু পুড়িয়ে দিয়েছে বিক্ষুব্ধ জনতা। অভিযোগ রয়েছে, জাপা নেতা মোজাম্মেল হক দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে মাটি কেটে বিক্রি করে আসছিলেন।
মঙ্গলবার (২৫ মার্চ) রাতে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার দাইন্যা ইউনিয়নের চারাবাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানায়, এসডিএস থেকে প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে ভোররাত পর্যন্ত মাটি কেটে বিক্রি করা হয়। তবে দিনে মাটি কাটা হয় না। এখানে অনুমতি ছাড়া কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হতো না। ২০১৫ সালে নুরুল ইসলাম ইসলামিক রিসার্স ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক দাবি করে মোজাম্মেল হকের কাছে জমি বিক্রি করেন।
স্থানীয়রা আরও জানায়, মোজাম্মেল হক সাইনবোর্ডে উল্লেখ করেছেন, তিনি ক্রয় সূত্রে ৮০০ শতাংশ জমির মালিক। তবে তিনি এই জমি ভূয়া দলিল তৈরি করে নিজের নামে করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এর আগে এসডিএস-এর জমিতে প্রশাসন একাধিকবার অভিযান চালায়।
এ নিয়ে ২০২৩ সালের ১২ মার্চ এসডিএস-এর চেয়ারম্যান ইসমাইল হোসেন সিরাজী বাদি হয়ে টাঙ্গাইলের যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ ১ম আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলায় মোজাম্মেল হক, সখীপুরের কচুয়া রোড আড়াইপাড়া গ্রামের আনছার আলীর ছেলে নুরুল ইসলাম, সদর উপজেলার ইসলামপুর গ্রামের ইমান আলীর ছেলে আকবর আলী, মাগুরাটা গ্রামের মৃত আইন উদ্দিনের ছেলে হাবিবুর রহমান, স্বদেশ রোড এলাকার সুরুজ্জামানের ছেলে জাকির হোসেনকে বিবাদি করা হয়।
একই দিন ইসমাইল হোসেন সিরাজী বাদি হয়ে আরো একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় মোজাম্মেল হক, সখীপুরের কচুয়া রোড আড়াইপাড়া গ্রামের আনছার আলীর ছেলে নুরুল ইসলাম, শহরের পাতুলীপাড়া এলাকার মৃত কলিল উদ্দিন আহম্মেদের ছেলে ওস্তাগীর হোসেন, একই এলাকার মৃত আফতাব উদ্দিনের ছেলে মোকছেদ আলী ও স্বদেশ রোড এলাকার সুরুজ্জামানের ছেলে জাকির হোসেনকে বিবাদি করা হয়।
এ ব্যাপারে জানতে জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হকের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি।