তৌহিদুর রহমান নিটল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া সীমান্তের কালন্দি খাল দিয়ে প্রায় দুই দশক ধরে ভারতের ত্রিপুরা থেকে আসছে বর্জ্য ও কেমিক্যাল মিশ্রিত কালো পানি। বিষাক্ত এই পানি খাল দিয়ে এসে মিশছে নদীতেও। এতে সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দারা যেমন স্বাস্থ্যঝুঁকিতে, তেমনি নষ্ট হচ্ছে জীব-বৈচিত্র। দুর্গন্ধযুক্ত কালো পানি নিয়ে স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের আপত্তির পরও মিলছেনা কোন প্রতিকার। এই বিষাক্ত পানি সেচ কাজে ব্যবহার করায় নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন নিয়ে উদ্বিগ্ন কৃষি বিভাগও।
খোঁজ নিয়ে সরেজমিনে কথা বলে জানা যায়, মূলত ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলার বিভিন্ন হাসপাতাল, শিল্প-কারখানা এবং বাসাবাড়ির স্যুয়ারেজ লাইনসহ বর্জ্যযুক্ত পানি পরিশোধন না করেই ছাড়া হয় কালন্দি খালে। আর ভারতের ত্রিপুরা থেকে আখাউড়া স্থলবন্দরে প্রবেশ করা কালন্দি খাল প্রায় ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ। এ খাল দিয়ে প্রতিনিয়ত ভারত থেকে বর্জ্য ও কেমিক্যাল মিশ্রিত
পানি ঢুকছে বাংলাদেশে। ফলে সেচের জন্য গুরুত্বপূর্ণ খালের ঘুটঘটে কালো ও বিষাক্ত
পানি দিয়েই চলছে চাষাবাদ। এতে হুমকীতে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন। যা সীমান্তবর্তী অন্য খাল ও জলাশয়গুলোতে মিশে নষ্ট করছে জীব-বৈচিত্র। রোগ-জীবাণু ছড়াচ্ছে স্থানীয়দের মাঝে। উপজেলা সদর দিয়ে বয়ে যাওয়া কালন্দি খাল তিতাস নদীতে গিয়ে মিশেছে।
স্হানীয়রা জানায়, বিষাক্ত এই কালো পানি সবচেয়ে বেশি ভোগাচ্ছে আখাউড়া স্থলবন্দর সংলগ্ন ১৫টি গ্রামের বাসিন্দাদের।এই পানি ব্যবহারের ফলে মানুষ অধিকাংশই চর্মরোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এছাড়া এই পানি সেচ কাজে ব্যবহারে একদিকে যেমন নষ্ট হচ্ছে ফসলি জমির উর্বরতা, তেমনি নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন রয়েছে হুমকীতে।
তারা আরোও জানায়, ভারতের আগরতলার হাসপাতাল, কল-কারখানা থেকে বর্জ্য ময়লা দূর্গন্ধ যুক্ত পানি সারাক্ষণ আসে এই কালন্দি খাল দিয়ে। এই পানি খুবই বিষাক্ত খারাপ পানি। এই পানি শরীরের যেখানে লাগছে সেখানে চর্মরোগ রোগ যেমন খুঁজলি-প্যাচড়া সৃষ্টি হচ্ছে।
স্হলবন্দরের এক ব্যবসায়ী বলেন, এই পানি বিষাক্ত খারাপ পানি।আমরা যারা এখানে ব্যবসা করি প্রতিনিয়ত এই দূর্গন্ধ পানির গন্ধ নাকে লাগছে। এভাবে আমাদের চলতে হচ্ছে।
আখাউড়া-প্রকৃতি ও পরিবেশ সুরক্ষা ক্লাবের আহবায়ক রুবেল আহমেদ বলেন, পরিবেশ ও জীব-বৈচিত্র রক্ষায় কালো পানির সমস্যা সমাধানে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করার দরকার।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সুশান্ত সাহা বলেন, এই বিষাক্ত পানি মানুষের অনেক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে আমরা মনে করছি ।
নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন নিশ্চিতে বিষাক্ত কালো পানির বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে উর্ধ্বতন মহলে জানানো হয়েছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ দিদারুল আলম বলেন, ভারতের আগরতলা বাংলাদেশ হাই-কমিশন থেকে আমাকে ফোন করা হয়েছিল। পানির প্রবাহ যাতে ঠিক থাকে এবং বিশুদ্ধ হয়। সে বিষয়ে তারা জোর পদক্ষেপ নিবে। আশা করছি তাড়াতাড়ি বিষয়টি সমাধান হয়ে যাবে।