শিরোনাম
◈ শুল্ক ইস্যুতে মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা নিজেই কথা বলবেন ◈ পাকিস্তানের সঙ্গে চলতি মাসেই রাজনৈতিক সংলাপে বসতে যাচ্ছে বাংলাদেশ  ◈ মার্কিন শুল্ক ইস্যুতে প্রধান উপদেষ্টার জরুরি সভা শুরু ◈ রাজধানীতে ঝড়ো হাওয়ার পর স্বস্তির বৃষ্টি ◈ আগামী বছর রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানো নিয়ে সংশয় ◈ সরকারে থাকা ছাত্র প্রতিনিধিদের অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে : ইশরাক হোসেন ◈ যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রপ্তানি কমবে না, আরও বাড়বে: প্রেসসচিব শফিকুল আলম ◈ শক্তিশালী পাসপোর্টের তালিকায় প্রথম আয়ারল্যান্ড, বাংলাদেশ ১৮১তম ◈ কী ঘটেছিল শরীয়তপুরে, কেন এত সংঘর্ষ-উত্তেজনা? (ভিডিও) ◈ ঢাকাসহ যেসব অঞ্চলে রাতে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের আশঙ্কা

প্রকাশিত : ০৭ মে, ২০২০, ১০:৪৪ দুপুর
আপডেট : ০৭ মে, ২০২০, ১০:৪৪ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

শান্তিনিকেতন তৈরির প্রস্তাব শুনে রবীন্দ্রনাথের সামনেই হেসে ফেলেছিলেন মৃণালিনী

ডেস্ক রিপোর্ট : এখনও আমার মনে তোমার উজ্জ্বল উপস্থিতি। প্রত্যেক নিভৃত ক্ষণে মত্ততা ছড়ায় যথারীতি। কিশোর কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের উচ্চারিত এই শব্দবন্ধ প্রত্যেক বাঙালির কাছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে মনে করার গুরুমন্ত্র। সেই রবীন্দ্রনাথ…যিনি আমাদের মননে, চিন্তনে, যাপনে, জীবনচর্যায়। সেই রবীন্দ্রনাথ যিনি আজও বাঙালির সাহিত্য অভিভাবক। গ্রাম্য জীবনকে খুব কাছ থেকে দেখেছিলেন গুরুদেব। গ্রামের মাটির কাছাকাছি থাকা মানুষগুলো বড় নিজের ছিল তাঁর। তাই তাঁদের আনন্দে হাসতেন তিনি, তাঁদের দুঃখে কাঁদতেন।

গ্রাম্য জীবনের অশিক্ষা ব্যথিত করত তাঁকে। শিক্ষাহীনতা এই দেশকে যে শেষ করে দিচ্ছে, তা মরমে উপলব্ধি করেছিলেন তিনি। তাঁর স্বপ্ন ছিল শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেশের উন্নতি সাধন। সেই লক্ষ্যেই শান্তি নিকেতনে স্কুল স্থাপনের ইচ্ছা ছিল তাঁর। লাল মাটির দেশ বীরভূমে মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের ব্রহ্ম সাধনার পীঠস্থানকে বেছে নিয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ। পথ চলা শুরু হয়েছিল এক ইতিহাসের, এক ঐতিহ্যের, এক ঘরাণার। যাত্রা শুরু করল শান্তিনিকেতন আশ্রম।

বাংলার শহরগুলোর ইঁট কাঠ পাথরের পাঁজরে যে প্রাণ নেই, তা আগেই বুঝেছিলেন কবিগুরু। তাই তো কলকাতা থেকে ১৫০ কিমি দূরে গড়ে তুলেছিলেন তাঁর স্বপ্নের শান্তিনিকেতন। তবে শান্তিনিকেতনে বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ভাবনায় বেশ হেসেছিলেন কবিগুরুর স্ত্রী মৃণালিনী দেবী। শুনতে অবাক লাগলেও, এটাই সত্যি। রবীন্দ্রনাথের স্কুল তৈরির ভাবনা যে এভাবে হাস্যরসের খোরাক হবে, তা বোধহয় ভাবেননি গুরুদেব। খানিকটা বিস্মিত হয়েছিলেন তিনি।

পরে মৃণালিনী দেবী বলেছিলেন যে মানুষ নিজে কখনও স্কুলের গণ্ডী পেরোননি, যার চার দেয়ালে আবদ্ধ শিক্ষাকে ভুয়ো মনে হত, সেই রবীন্দ্রনাথ নিজে স্কুল খুলবেন। এই ভাবনাতেই হেসেছিলেন তিনি। স্ত্রীর এই আচরণে কিছুটা হতবাক রবীন্দ্রনাথ বুঝিয়ে বলেছিলেন নিজের ভাবনাকে। কবিগুরু বলেছিলেন শান্তিনিকেতন আর পাঁচটা বিদ্যালয়ের মত হবে না। সেখানে ছায়া সুনিবিড়, শান্তির নীড়ে চলবে পঠনপাঠন। খোলা আকাশের নীচে শিক্ষার্থীরা পাঠ নেবে প্রকৃতির।

বিদ্যালয়ে চার দেয়ালের কড়িকাঠে নিষ্প্রাণ শিক্ষায় তিনি কোনও দিনই বিশ্বাসী ছিলেন না, আজও নেই। নিজের কল্পনা ও দর্শন মিলিয়ে কবিগুরুর মননেই মূর্ত হয়ে ওঠে সেই শান্তিনিকেতন। এই শান্তিনিকেতন শহর মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজের হাতে গড়ে তুলে ছিলেন। তিনি এই জায়গাটিকে মূলত অতিথিশালা ও উপাসনার জায়গা হিসেবে গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন।

সেই কল্পনাতেই রং দিয়ে এর কাজ শেষ করেন রবীন্দ্রনাথ। রবীন্দ্রনাথ চেয়েছিলেন তাঁর তৈরি বিদ্যালয়ে মন পাবে মুক্তি, থাকবে না গতানুগতিকতা, কোনও নিয়মের বেড়াজাল। সেই আদর্শ নিয়েই আজও পথ চলছে গুরুদেবের শান্তিনিকেতন।

সুত্র : কোলকাতা ২৪

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়