মুসবা তিন্নি : রাজশাহী নগরীর একটি কাজি অফিসে চাঁদা নিতে গিয়ে নারীসহ একজন কথিত সাংবাদিককে হাতেনাতে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার রাত ১০টার দিকে নগরীর কাটাখালি থানাধিন দেওয়ান পাড়া মোড়ে মোঃ আসাদুল ইসলাম (৪৬) নামের এক কাজির অফিস থেকে তাদের আটক করে এসআই জাহাঙ্গীর ও সঙ্গীয় ফোর্স।
আটককৃতরা হলেন- আনন্দ টিভির রাজশাহী প্রতিনিধি পরিচয় দানকারী নারী সাংবাদিক মমতাজ বেগম ওরফে সাথী (৩২)। তার স্বামীর নাম রাসেদুজ্জামান ও পিতার নাম মোঃ আলী মৃধা। অপরজন মোঃ আতিকুর রহমান (২৭) বাংলাদেশ সমাচার রাজশাহী প্রতিনিধি পরিচয় দানকারী। নগরীর চন্দ্রিমা থানাধিন ছোটবনগ্রাম ১২রাস্তার মোড়ে বাড়ি ভাড়া করে থাকেন বলে জানান তারা।
জিজ্ঞাসাবাদে তারা দুইজন আপন ভাই-বোন বলে স্বীকার করেছে। এছাড়া চাঁদাবাজি ও প্রতারণার বিষয়টি তারা স্বীকার করেছেন।
কাজি মোঃ আসাদুল ইসলাম জানান, গত ১৫/২০দিন পূর্বে সাংবাদিক পরিচয়দানকারী সাথী ও আতিকুর রহমান তার অফিসে এসে বলে, আপনি বাল্য বিবাহ দেন এছাড়াও আপনার বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ আছে আমাদের কাছে। খরচ না দিলে নিউজ করে দেবো। বিপদে পড়বেন আপনি। তাদের কথায় ভয় পেয়ে ৭০০ টাকা দেন কাজি।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) তারা আবারও গিয়ে বলে, জরুরী একটা কাজে পুঠিয়া যাচ্ছি একটি খামে টাকা রেডি রাখবেন ফেরার পথে নিয়ে যাবো।
তাদের এই রকম আচারণে কাজির সন্দেহ হয়। পরে তিনি তার এক বন্ধু সাংবাদিকের নিকট পরামর্শ করে কাটাখালি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি মোঃ জিল্লুর রহমানকে বিষয়টি অবগত করেন। ওসি বিকাল থেকে ওই কাজি অফিসে পুলিশি নজরদারীতে রাখেন।
পরে রাত ৯টার দিকে ওই দুই সাংবাদিক কাজি অফিসে প্রবেশ করে টাকার খাম হাতে নেয়ার সময় পুলিশ তাদের আটক করে কাটাখালি থানায় নিয়ে যায়। কথিত সাংবাদিক আটকের খবর ছড়িয়ে পড়লে একাধিক ভূক্তভোগী কাজি’রা উপস্থিত হন থানায়। বর্ণনা করেন তাদের প্রতারণার ঘটনা।
কাটাখালি থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ জিল্লুর রহমান (ওসি)’র নিদের্শে (সিডিএমইএস) সার্চ দিয়ে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। বেরিয়ে আসতে থাকে একে একে ৪/৫টি চাঁদাবাজি ও প্রতারণা মামলা। শুধু তাই নয় তাদের প্রকৃত ঠিকানা নওগাঁ কাশিমপুর রাজবাড়ি এলাকায়। তাছাড়া নওগাঁ থানাতেও রয়েছে তাদের চাঁদাবাজি মামলা।
কাটাখালি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জিল্লুর রহমান জানান, সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে কাজি অফিসে চাঁদাবাজি করার সময় কাজি ও স্থানীয়দের সহযোগীতায় সাথী ও আতিকুর রহমান নামের দুই প্রতারককে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় কাজি মোঃ আসাদুল ইসলাম প্রতারণা ও চাঁদাবাজির অভিযোগে বাদি হয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
ওসি আরো বলেন, তারা একাধিক কাজি অফিস, মিষ্টির দোকানসহ বিভিন্ন জায়গায় চাঁদাবাজি ও প্রতারণার তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়াও জেলার বিভিন্ন থানায় তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে বলেও জানান তিনি।