Skip to main content

‘হুমায়ুন-নামা’ এবং এলেবেলে চিন্তা

বাবর-কন্যা গুল বদন বেগমের লেখাহুমায়ূন-নামাপড়ি আর মুচকি হাসি দিই।

দেশি রাজনীতি-মন্ত্রিপরিষদ ইত্যাদি নিয়ে লেখালেখি না করে প্রায় পাঁচশো বছর আগের ইতিহাস ঘাঁটতে দেখলে আমার জান্নাতবাসী আম্মা অনেক খুশি হতেন। তার চেয়ে বড় কথা অনেক মান্যগণ্যরা বলে বেড়াচ্ছেন ফেসবুকে জঘন্য ভাষায় লেখালেখি করে নাকি দেশোদ্ধার করা যায় না। একমাত্র তারাই পারেন তাদের বিরুদ্ধে কেউ কিছু বললে তাকে ফেসবুকে লেখালেখি করে প্রতিআক্রমণ করতে। তাতেও মন না ভরলেডিজিটাল আইনদিয়ে ভরে দেবার সুব্যবস্থা তো আছেই।

তবে আমি ব্যক্তিগতভাবে বর্তমানফ্যাসিস্টরাষ্ট্র ব্যবস্থায় অনেক খুশি। আল্লাহ যা করেন ভালোর জন্যই করেন। গুল বদন বেগম ষাট বছর বয়সে তার ভাই হুমায়ূনের শাসনকাল নিয়ে স্মৃতিকথা লিখতে গিয়েছোটখাটোঅনেক ভুল তথ্য দিয়েছেন, যা পরবর্তী সময়ে ইতিহাসবিদরা সংশোধন করে দেন। বিশেষ করে দিন তারিখ কিংবা ঘটনা পরম্পরায় অনেক অসঙ্গতি লক্ষ্য করেন ঐতিহাসিকরা। ষাট বছর বয়সে গুল বদন বেগম এতোটুকু মনে রাখতে পেরেছেন তাও বা কম কি? আবার কিছু বর্ণনা এতো নিখুঁতভাবে দিয়েছেন তাতে সন্দেহ হয় তিনি এতোগুলো মানুষের বর্ণনা কীভাবে মনে রেখেছেন? এক উৎসবে হুমায়ূনের সাথে বিভিন্ন আমীর-অমাত্যের ৮৭ জন বেগম-কন্যারা একসাথে খেতে বসেছিলেন তাদের প্রত্যেকের নাম গুল বদন লিখে গিয়েছিলেন। তাছাড়া হুমায়ূন তার আমীরদের মধ্যে যে উপহার বিলিবণ্টন করতেন, তার বর্ণনাও বিশদভাবে আছে সেখানে। যদিও জওহর বায়েজিদ নামের দুই সভাষদ গুল বদন বেগমকে এইহুমায়ূন-নামালিখতে সাহায্য করলেও ইতিহাসে কেবল গুল বদনের কৃতিত্বই স্বীকৃতি পেয়েছে এর মূল লেখক হিসেবে। এই প্রসঙ্গে বাংলাদেশের এক সমকালীন ঘটনা মনে পড়ে গেলো।  ২০০৬-০৮ সালে জালেম তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে কারারুদ্ধ ছিলেন দুই প্রধান নেত্রী। এই তথ্য সবাই জানেন।

অন্তরীণ দশা থেকে মুক্ত হয়ে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় দৈনিকে তার কারাবাসের অভিজ্ঞতা নিয়ে এক অতি আবেগী কলাম লিখেছিলেন। নিঃসঙ্গ অবস্থায় গাছ-গাছালিতে ঘেরা এলাকায় একটি বানর তাকে প্রায় দেখতে আসতো, তাকে তিনি খেতে দিতেন, আরেকটু দূরে বেগম জিয়াও আছেন, তিনি কেমন আছেন, কি ভাবছেন, দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে তার দুশ্চিনস্তা- ইত্যাদি ছোট ছোট বিষয় ঘিরে এক সরল নিপাট লেখা ছিলো সেটি। কিন্তু লেখাটির রাজনৈতিক তাৎপর্য কতোটা সুদূরপ্রসারী ছিলো তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। আমি নিজেও লেখাটি পড়ে বিমোহিত হয়ে পড়েছিলাম। একইসাথে বুঝতে পারছিলাম চমৎকার গদ্যশৈলীর এই লেখাটিতেকবিত্বআরোপ করার পেছনে অদৃশ্য কোনোঘোস্ট রাইটারেরপ্রভাব থাকতে পারে। কিন্তু তার নাম আমাদের কারো জানা হয় না।

হুমায়ূন-নামা পড়তে গিয়ে এইসব এলেবেলে চিন্তা মাথায় ঘুরছে। কিন্তু তাদের ইতিহাস না লিখে এইসব লিখছি জানলে আম্মা হয়তো অনেক রাগ করতেন।

অন্যান্য সংবাদ