Skip to main content

‘নতুন মন্ত্রীদেরকে নিয়ে অভদ্র মন্তব্য হতাশাজনক’ 

Article Highlights

আমরা এখন এমন অবস্থায় পৌঁছে গেছি যখন কোনও পতিতাও সমাজে ভালো হওয়ার চেষ্টা করে তাকেও আমরা ভালো হতে সহায়তা না করে গালাগাল দেই। এতে ভালোর চেয়ে খারাপটা হয় বেশি । ফেসবুকে সমালোচনা করছেন কিন্তু মন্ত্রীরা যখন বাসে চড়ছেন তাতেও যদি বলেন অভিনয় এইটা কষ্টকর!

বাংলাদেশ ও দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের শিশু গণমাধ্যম নিয়ে কাজ করা ‘এ আর কিডস’র সিইও আরিফ রহমান শিবলী বুধবার নিজ ফেসবুকে একটি পোস্ট করেন। যেখানে বাংলাদেশের নতুন মন্ত্রীপরিষদ বিভাগের অনেককে নিয়ে করা সমালোচনা এবং গুজব ছড়ানো ব্যক্তিদের নমনীয় আচরণ করতে বলেন। নিচে তাঁর ফেসবুক স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো- 

তিনি লিখেছেন, ‘‘গুজব এবং ফেসবুকে অভদ্রতা করা এখন একটা ফ্যাশন! গতকাল থেকে ফেসবুকে নতুন মন্ত্রীদেরকে নিয়ে চলছে তুমুল আলোচনা সমালোচনা। 

প্রথমে আসি শিক্ষামন্ত্রী দিপু মনি আপা’র বিষয়ে-

তাঁর ছবি দেওয়া হলেও তা ছিল গতবছরের। ছবিটি শিক্ষামন্ত্রীর বাসার অথচ ছবিটিকে মন্ত্রণালয়ের বলে চালিয়ে দিলো ভিন্নদল সমর্থন করা কেউ। কিছু না ভেবে-ই ভাইরাল করা শুরু করলেন সবাই ? আর বাজে কমেন্টস তো রয়েছে-ই।

মন্ত্রণালয়ে মঙ্গলবার মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী কি পোশাক পড়ে গিয়েছিলেন তা কি দেখেছেন টিভিতে? সেই পোশাকের সাথে কি আপনাদের এই ভাইরাল করা ছবির কোনও মিল রয়েছে? একজনকে ইনবক্সে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি থতমত খেয়ে বললেন, স্যার সবাই দিচ্ছে তাই আমিও দিয়েছি। হাউ ফানি!!! সত্যিই অদ্ভুত এক দেশ আমার। চিলে কান নিয়ে গেছে তাই আমার চিলের পিছেই দৌড়াতে হবে?

এর নাম-ই কি শিক্ষিত সমাজ!

সত্যি-ই লজ্জা হয়। 

মন্ত্রণালয়ে ছিলো মঙ্গলবার সব মন্ত্রীর ই প্রথম দিন। কেউ এখনো পারফর্ম শুরু-ই করলো না অথচ নিন্দা করাটা অভ্যাস। 

ইনবক্সে এইগুলো নিয়ে প্রশ্ন করলে উত্তর দেয় স্যার এখন তো সবাই এইটা নিয়ে লিখছে তাই আমিও লিখলাম। 
এই যে তথ্যপ্রযুক্তি আইন পাশ হয়েছে, যদি আপনাকে র‍্যাব ধরে নিয়ে ক্যাম্পে রাখে। সেখানেও কি বলবেন সবাই দিয়েছে তাই আমিও দিলাম। যদি উত্তর তাই দেন তাহলে আপনি জানেন পরবর্তী প্রক্রিয়া কি?

খুব কমেন্টস করছেন দিপু মনি শিক্ষামন্ত্রী ক্যান হইলো? কি পারে? অনেক কিছু-ই। বাস্তবতা হচ্ছে! তিনি পারেন বলে-ই একজন নারী হয়েও এলাকায় গেলে কয়েক লাখ লোক তার জন্য জড়ো হয়। ক্যান তাহলে আপনার জন্য হয়না? নিশ্চয়ই আপনার যোগ্যতার অভাব রয়েছে। আর কি উত্তর দিবো বলেন? যেখানে গতবছরের ছবিকে মন্ত্রণালয় বলে চালিয়ে দিচ্ছেন সেই আপনাদের মত মানুষকে বুঝানো কষ্ট-ই বটে। 

তারপর আসেন! নবাগত প্রতিমন্ত্রী ডাক্তার এনামকে নিয়ে কিছু বলি। 

রানা প্লাজায় যখন সেলাই দিদিমনি, ভাইগুলো চিকিৎসা পাচ্ছিলো না তখন এই ডাক্তার এনাম স্যার-ই সকল ডাক্তার, ছাত্র-ছাত্রী, সেবক-সেবিকাদের ওষুধ থেকে নিয়ে সব ফ্রি দিয়ে গেছেন। আশপাশের সব জায়গা থেকে নিজে দাঁড়িয়ে থেকে অ্যাম্বুলেন্স এনেছেন। সেই রানা প্লাজায় সংবাদ করতে গিয়ে এনাম মেডিকেলের এনাম স্যারসহ সকল শিক্ষার্থীদের ভক্ত হয়ে গেছি। সেই ডাক্তার এনাম সাংসদ হয়ে আজ মন্ত্রী।

আলহামদুলিল্লাহ! আমার চেয়ে বেশি খুশী আর কে হতে পারে?

কারন! এই এনাম ডাক্তার রানা প্লাজায় যদি এগিয়ে না আসতেন তাহলে লাশের পরিমাণ দুই হাজার ছাড়িয়ে যেতো। সেই ঘটনায় আপনিও সেদিন কেঁদেছিলেন কিছু করতে চেয়েছিলেন। হয়তো! পেরেছিলেন হয়তো পারেন নি। মঙ্গলবার যখন মানুষটি ফেসবুকে তার মা কে নিয়ে লিখলেন পতাকা গাড়ি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী পাঠিয়েছেন। আপনারা সেই পুরনো বাজে মন্তব্য শুরু করলেন। এটা আপনাদের বদ-অভ্যাস।

বিরোধীদলের কেউ কিছু কমেন্টস করেছে তাই আপনাদের ও লিখতে হবে। লজ্জা হয় লজ্জা! এই এনাম ডাক্তারকে পতাকার গাড়ি নয় শুধু তার চেয়েও বেশি কিছু দিলেও কম দেওয়া হবে। কারণ! আমার চোখে দেখা সেরা মানুষ তিনি। 

আমি যাকে বলেছিলাম স্যার একটু পায়ে ধরে সালাম করে জড়িতে ধরতে পারি?  সেই এনাম ডাক্তার পায়ে সালাম করার আগে-ই কান্নারত আমায় নিয়েছিলেন বুকে। আমায় বলেছিলেন, আরিফ আপনিও তো হিরো ভবনের ভিতর থেকে প্রশিক্ষণ ছাড়ায় উদ্ধার করে নিয়ে আসলেন তো অনেককে। সেই সহজ সরল মনের মানুষ ডাক্তার এনামকে অপমানজনক লিখা লিখতেও আপনাদের বিবেক বাধা দেয় না। এর কারণ কি? অন্যকে উপকার করেন নাই। তাই হয়তো রানা প্লাজার প্রধান হিরো দুই হাজার শ্রমিকের ভালোবাসার প্রিয় মানুষকে এইভাবে লিখতে পারছেন। 

তারপর আসুন! মন্ত্রী পলকের কথায় আসি। মঙ্গলবার আমি নানা বাড়ি ফেনীতে যাচ্ছিলাম বাসার সেন্ডেল পড়ে-ই চলে গেছি তাড়াহুড়োতে মনে ছিলো না। এখন বলুন! পলক সাহেব কি ফেরেশতা? নাহ! তিনিও মানুষ হ্যালমেট পড়তে ভুলে গেছেন। তাই বলে সমালোচনা এতো নোংরাভাবে করা খুব দরকার? একই উত্তর আমাকে ফেসবুকে সবাই দিতেছে আমিও দিলাম। খুব-ই হাস্যকর খুব! তিনি মন্ত্রী হলেও মানুষ সেইটা তাঁর প্রধান পরিচয়। নিজেও তো জীবনে আমরা অনেক ভুল করি এইধরনের। অথচ অন্যের ভুল এমনভাবে ভাইরাল করছেন কষ্টদায়ক। 

আসলে! খারাপের পর ভালোকিছু আমাদের সমাজে চোখে পড়েনা। মন্ত্রীরা বাসে চলাফেরা করছে সেইটাও নেগেটিভ আপনার চোখে। সেই আপনারা-ই আশা করেন নিজ দেশে বাহিরের দেশের মত মন্ত্রী। 

এই মন্ত্রীগুলো চাইলেও হতে পারবেন না। কারণ! সমাজে বিরোধীতার নামে আপনারা যেটা করছেন তা ভালো হতে চাইলেও হয় না। না জেনে-ই ভাইরাল করা বন্ধ করুন। আর অন্যের সম্পর্কে বাজে কমেন্টস করলে এসব নোংরামির দায় আপনাকেও নিতে হবে।’’ 

এই স্ট্যাটাসের বিষয়ে এই প্রতিবেদককে আরিফ জানান, আমরা এখন এমন অবস্থায় পৌঁছে গেছি যখন কোনও পতিতাও সমাজে ভালো হওয়ার চেষ্টা করে তাকেও আমরা ভালো হতে সহায়তা না করে গালাগাল দেই। এতে ভালোর চেয়ে খারাপটা হয় বেশি । ফেসবুকে সমালোচনা করছেন কিন্তু মন্ত্রীরা যখন বাসে চড়ছেন তাতেও যদি বলেন অভিনয় এইটা কষ্টকর!

তিনি বলেন, এখন যদি বাজে কমেন্টসগুলো সব পজেটিভ হতো এতে হয়তো মন্ত্রী মহোদয়গণ উৎসাহী হয়ে সেভাবে-ই চলতে নিজেদের অভ্যস্ত করার চেষ্টা করতেন। ভালোকে ভালো হিসেবে গ্রহণ করা দরকার। যাদের বিরুদ্ধে জনমত খারাপ ছিল তাদের কিন্তু সরানো হয়েছে। আর নতুনদের মাত্র পথচলা শুরু হলও গতকাল। এখন-ই যদি আমরা তাদের সারাদিন খারাপ মন্তব্য করতে-ই থাকি এতে তারা কাজে ভালোভাবে মন দিতে পারবেন না। নতুনদের নতুনভাবে গ্রহণ করে সম্মানের সাথে কথা বলা উচিৎ। নতুন মন্ত্রীদেরকে নিয়ে অভদ্র মন্তব্য আমাদের সমাজের জন্য হতাশাজনক।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও মন্ত্রীপরিষদ বিভাগের সবাইকে এই সময় শুভেচ্ছা শুভকামনা জানান দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের এই ক্ষুদে গণমাধ্যম এক্সপার্ট।

অন্যান্য সংবাদ