Skip to main content

১১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে সিলেটে আধুনিক টার্মিনাল নির্মাণে কমবে দুর্ভোগ

Article Highlights

সিলেট বাস টার্মিনাল আধুনিকায়নের জন্য দুটি পৃথক দুটি প্রকল্প শুরু হচ্ছে। টার্মিনালের ডাম্পিং গ্রাউন্ড নির্মাণসহ টার্মিনালের অবকাঠামোতগত উন্নয়ন প্রকল্প দুটির জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ১১৭ কোটি টাকা। এতে যাত্রী দুর্ভোগ লাগবের পাশাপাশি টার্মিনালকে দৃষ্টিনন্দন করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

সিলেট বাস টার্মিনাল আধুনিকায়নের জন্য দুটি পৃথক দুটি প্রকল্প শুরু হচ্ছে। টার্মিনালের ডাম্পিং গ্রাউন্ড নির্মাণসহ টার্মিনালের অবকাঠামোতগত উন্নয়ন প্রকল্প দুটির জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ১১৭ কোটি টাকা। এতে যাত্রী দুর্ভোগ লাগবের পাশাপাশি টার্মিনালকে দৃষ্টিনন্দন করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে দুই ডাম্পিং গ্রাাউন্ডের জন্য ৫৬ কোটি টাকা এবং টার্মিনালের অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য ৬১ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে।

সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) প্রধান প্রকৌশলী নুর আজিজুর রহমান বলেন, ‘বাস টার্মিনাল আধুনিকায়ন করতে ডাম্পিং গ্রাউন্ডসহ অবকাঠামোগত উন্নয়নও হবে। এ কাজের জন্য দুটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান দরপত্র দিয়েছে। কাজ শুরু হবে শিগগির।’

সিলেট বাস টার্মিনাল আধুনিকায়ন করতে গেল অক্টোবরে বিশ্বব্যাংকের একটি প্রতিনিধি দল সরেজমিন পরিদর্শন করে। তারা টার্মিনালের জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করে দ্রুত কাজ শুরুর তাগিদ দিয়েছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে কাজ শুরুর কথা। 

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছে, ডাম্পিং গ্রাউন্ডের কাজ দুটি ভাগে আর টার্মিনালের অবকাঠামোগত কাজ তিনটি ভাগে বিভক্ত করা হবে। পুরো বাস টার্মিনালের ময়লা-আবর্জনা যাবে ডাম্পিং গ্রাউন্ডে। সেখানে ময়লা-আবর্জনাকে পরিশোধন করা হবে। এছাড়া বাস টার্মিনালে আধুনিক ভবন নির্মাণ করা হবে। যেখানে যাত্রীদের জন্য বিশ্রাম কক্ষ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কক্ষ, টয়লেট ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা থাকবে।
আধুনিক টার্মিনালে প্রত্যেক রুটের যানবাহনের জন্য আলাদা পার্কিং জোন, প্রবেশ ও বের হওয়ার আলাদা রাস্তা থাকবে। টার্মিনালে কেউ অসুস্থ হলে বা দুর্ঘটনায় আক্রান্ত হলে প্রাথমিক সেবা দিতে থাকবে চিকিৎসা ব্যবস্থা। থাকবেন চিকিৎসকও।  

এ দুটি প্রকল্পের কাজের মেয়াদ ধরা হয়েছে ২০২০ সালের জুন মাস। এ প্রসঙ্গে সিসিকের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন এটি একটি বাস টার্মিনাল হবে। আন্তর্জাতিকমানের বাস টার্মিনালের যতো সুবিধা থাকা দরকার, সবটাই এখানে থাকবে।’
উল্লেখ্য, আশির দশকে সিলেট নগরীর কদমতীতে প্রায় সাড়ে ৭ একর জমি নিয়ে গড়ে ওঠে এই বাস টার্মিনাল। এখান থেকে প্রতিদিন প্রায় ৫শ’ দূরাপাল্লার বাস যাতায়াত করে। অভ্যন্তরীণ সড়কে এর দ্বিগুণ বাস চলাচল করে। কিন্তু সিলেট বিভাগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই বাস টার্মিনালে রয়েছে নানা সমস্যা। 

কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল হওয়া সত্ত্বেও এখানে যাত্রীদের জন্য নেই বসার কোনো সুব্যবস্থা। এতে হাজারো যাত্রীদের পোহাতে হয় দুর্ভোগ। রোদ-বৃষ্টিতে রাস্তায় দাঁড়িয়ে বাসের অপেক্ষা করতে হয় তাদের। এছাড়া টার্মিনালে যাত্রীদের জন্য নেই কোনো টয়লেটের ব্যবস্থা। টার্মিনালজুড়ে স্যাঁতস্যাতে অবস্থা। ময়লা আর্বজনার স্তুপ। বিশুদ্ধ খাবার পানি সংকটসহ নানা সমস্যায় আবৃত ছিল সিলেটের বিভাগীয় এই বাস টার্মিনাল। মেয়রের আশাবাদ, আধুনিক টার্মিনাল হলে এসব সমস্যা থাকবে না।