Skip to main content

সৈয়দ আবুল হোসেন এখনো কেন অপংক্তেয়?

সৈয়দ আবুল হোসেন। আওয়ামী লীগের নিবেদিতপ্রাণ নেতা। ২০০৮ সালে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী। তিনি ছিলেন যোগাযোগ মন্ত্রী। তার সময়ই পদ্মাসেতু নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়। কানাডার একটি কোম্পানি এসএনসি-লাভালিনের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মাধ্যমে পদ্মাসেতু নির্মাণের কাজ পাওয়ার চেষ্টার অভিযোগ তুলে বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের পদ্মাসেতু নির্মাণ-প্রকল্পে তাদের ঋণ বন্ধ করে দেয়ার ফলে পদ্মাসেতু নির্মাণ নিয়ে সংশয় দেখা দেয়। সে-অভিযোগের তির মন্ত্রী আবুল হোসেনের দিকেও নিক্ষিপ্ত হয় এবং তৎকালীন সচিবকে এ জন্যে জেলও খাটতে হয়। সংবাদপত্র থেকে শুরু করে ব্যক্তিপর্যায় পর্যন্ত বাঙালির স্বভাবসিদ্ধ ছিদ্রান্বেষণের মানসিকতা থেকে আবুল হোসেনকেও আক্রমণের শিকার হতে হয়। শেষপর্যন্ত মন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে তাকে সরেও যেতে হয়। কিন্তু বাংলাদেশ এবং মন্ত্রীর পক্ষ থেকে সবসময় কোনো ধরনের দুর্নীতি হবার কথা অস্বীকার করা হয়। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকেও দুর্নীতির অভিযোগ দৃঢ়তার সঙ্গে প্রত্যাখ্যান করা হয়।

বিশ্বব্যাংক থেকে শুরু করে যে-সব দেশ পদ্মসেতু নির্মাণে আর্থিক সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলো, সেখান থেকে সরে যাওয়ার ব্যাপারে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তোলেন। কানাডার একটি আদালতে বিশ্বব্যাংকের অভিযোগ ভুয়া বলে প্রমাণিত হয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সকল প্রতিকূলতা সত্ত্বেও বাংলাদেশের নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মসেতু নির্মাণের ঘোষণা দেন। সারা পথিবীর রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা অবশেষে পদ্মাসেতুর কাজ শুরু হয় এবং তা এখন শুধু দৃশ্যমান নয়, সমাপ্তিরও পথেও। কিন্ত বিস্ময়ের ব্যাপার হলো, যা নিয়ে অভিযোগ, তা নিরঙ্কুশভাবে ভিত্তিহীন প্রমাণিত হবার পরও যার বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হলো, তিনি নির্দোষ প্রমাণিত হওয়া সত্ত্বেও তাকে কেন সসম্মানে তার পদে ফিরিয়ে আনা হলো না? এমনকি তাকে রাজনীতির দৃশ্যপট থেকেও আড়াল করে ফেলা হলো? যিনি একসময় দলটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ পালন করেছেন, তিনি কেন চোখের আড়ালে চলে যেতে বাধ্য হলেন? এসব প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে যারা স্বচ্ছ রাজনীতির কথা বলেন, তারা সত্যিকার অর্থেই তাতে বিশ্বাস করেন কিনা, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করার সুযোগ থেকেই যাচ্ছে! সবচেয়ে দুঃখজনক এবার তার নির্বাচনী এলাকা মাদারীপুরের কালকিনী থেকেও নির্বাচনে তাকে  মনোনয়ন দেয়া হয়নি। যিনি একজন দানবীর হিশেবে কালকিনী থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার প্রসারে আত্মনিবেদিতপ্রাণ, তিনি কেন অপরাধ না করার সত্ত্বেও তার সম্মান ফিরে পাবেন না, এটা আমি বুঝতে অক্ষম। তা হলে কি যারা সুবিধাবাধী, অসৎ, ধান্ধাবাজ ও আত্মপ্রেমিক, তারা ছাড়া সৎ মানুষরা রাজনীতি করতে পারবেন না? এটা কী ধরনের মূল্যায়ন? সৈয়দ আবুল হোসেনের মতো লোকরা বিনা অপরাধে শাস্তি পাওয়া সত্ত্বেও দল বা নেত্রীর বিরুদ্ধে একটি কথাও বলেননি, তারপরও তারাই কেন ভিকটিম হবেন? তা হলে কি বিপরীত মেরুতে থাকলে তাদের সঠিক মেরুতে আনতে আপন লোকদের জবাই করাই এখন রাজনীতির মুখ্য উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে?

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী করুন আর নাই করুন, সৈয়দ আবুল হোসেনের মতো মানুষদের দূরে ঠেলে দেয়া আপনার জন্য আত্মঘাতী হবে বলেই আমার ধারণা। অতএব তাকে তার যোগ্য স্থানে ফিরিয়ে নিয়ে আপনি আপনার ঔদার্যের পরিচয় দেবেন বলেই আপনার মতো মহৎ হৃদয়ের কাছে আমার প্রত্যাশা।

লেখক : কবি ও সংযুক্ত সম্পাদক, দৈনিক আমাদের নতুন সময়

অন্যান্য সংবাদ