Skip to main content

সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন বঞ্চিতদের উপজেলা নির্বাচনে মনোনয়ন দেবে আ.লীগ

সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বঞ্চিত নেতাদের মধ্যে জনপ্রিয়তার ভিত্তিতে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন দেয়া হবে। দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ইতিমধ্যে অনেককে উপজেলা নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শেরপুর-২ আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন ঝিনাইগাতী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এসএমএ ওয়ারেজ নাঈম। কিন্তু দল থেকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে ইঞ্জিনিয়ার ফজলুল হক চানকে। বুধবার দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে দেখা করতে যান ওয়ারেজ নাঈম। ওবায়দুল কাদের তাকে উপজেলা নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

এভাবেই দেশের অন্য এলাকাগুলোতেও আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বঞ্চিতদের উপজেলা নির্বাচনে মনোনয়ন দেয়ার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে আওয়ামী লীগ। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনে মনোনয়নের জন্য ৩ হাজার ৬শ’ ২৮জন মনোনয়নপত্র কিনেছিলেন। যাদের মধ্য দিয়ে ২৬১জনকে মনোনয়ন দেয়। অবশিষ্ট নেতাদের মধ্যে স্থানীয়ভাবে যারা জনপ্রিয় এবং উপজেলা নির্বাচন করতে আগ্রহী তাদেরকেই মনোনয়ন দেয়া হবে।

আগামী ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসের মধ্যে দেশের প্রায় পাঁচ শতাধিক উপজেলা পরিষদে ৬ দফায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যেই নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। আওয়ামী লীগও দলীয়ভাবে প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। শিগগিরই দলের মনোনয়ন লাভে আগ্রহীদের কাছে মনোনয়নপত্র বিক্রি শুরু করবে দলটি। এরপর তৃণমূলের মতামতের ভিত্তিতে দলীয় মনোনয়ন চূড়ান্ত করা হতে পারে। স্থানীয়ভাবে সংসদ সদস্যরা যাতে কোনো প্রার্থী চাপিয়ে দিতে না পারেন সেদিকেও কঠোর দৃষ্টি দেয়া হবে।

সংসদ নির্বাচনে ভরাডুরি পর বিএনপির নেতৃত্বাধীন ঐক্যফ্রন্টের দলগুলো এ নির্বাচনে অংশ নেবে কি-না তা নিয়ে নানা সংশয় ও সন্দেহ রয়েছে। বিগত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিয়েছিল। কিন্তু সে সময়ে দলীয় প্রতীক না থাকার কারণে অনেক এলাকাতেই বিএনপির প্রার্থীরা জয়লাভ করে। দলীয় প্রতীকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের পর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনও দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত হবে। ফলে নির্বাচনের মাঠের পরিস্থিতি কী হয় তা নিয়ে শঙ্কিত দলটি।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট নিতাই রায়চৌধুরী জানান, উপজেলা নির্বাচনের ব্যাপারে দলীয়ভাবে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এ সরকারের অধীনে আর কোনো নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। ফলে দলের প্রার্থীরাও নির্বাচন করতে রাজি নন। নির্বাচন নিয়ে মানুষেরও আগ্রহ নেই। রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে সংসদ নির্বাচনে সারা দেশে ভোট ডাকাতির যে মহোৎসব হয়েছে তা শুধু দেশবাসীই নয়, বিশ্ববাসী অবাক বিস্ময়ে দেখেছে। তারপরেও দলীয়ভাবে বসে আমরা সিদ্ধান্ত নেবো এ সরকারের অধীনে আর কোনো নির্বাচনে যাবো কি-না।
 

অন্যান্য সংবাদ