Skip to main content

শফী হুজুররা বদলায় না, আমরাই আপোস করি

১. হেফাজতে ইসলামীর আমির আল্লামা শাহ আহমেদ শফীর একটি বক্তব্য নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তোলপাড়। শুক্রবার (১১ জানুয়ারি ২০১৮) জুমার নামাজের পর চট্টগ্রামের দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদ্রাসার বার্ষিক মাহফিলে তিনি মেয়েদের স্কুলে না পাঠানোর আহবান জানান। পাঠালেও ‘ফোর-ফাইভের’ বেশি না পড়ানোর কথা বলেছেন। শুধু বলে ক্ষান্ত হননি। তিনি উপস্থিত ১৫ হাজার অনুসারীকে হাত তুলে ওয়াদা করিয়েছেন, তারা যেন তাদের মেয়েকে ফোর-ফাইভের বেশি না পড়ান; যাতে মেয়েরা বিয়ের পর স্বামীর টাকাপয়সার হিসাব রাখতে পারে, স্বামীর কাছে চিঠি লিখতে পারে। এর বেশি পড়ালে নাকি মেয়েদের অন্য কেউ নিয়ে যাবে।

আল্লামা শফীর বক্তব্য নিয়ে এখন তোলপাড়। অনেকেই দেখি চমকে গেছেন। কিন্তু আমি একটুও অবাক হইনি। ২০১৩ সালে যে ১৩ দফা দাবি নিয়ে আল্লমা শফীর হেফাজতে ইসলাম ঢাকা অবরোধ করেছিল, তা ছিলো ভয়ঙ্কর ও প্রগতিবিরোধী। ২০১৩ সালেই তিনি এমনই এক ওয়াজে মেয়েদের ফোর-ফাইভের বেশি না পড়ানোর ফতোয়া দিয়েছিলেন। সে ওয়াজে ছাত্রীদের এবং গার্মেন্টসের নারী শ্রমিকদের নিয়ে অশ্লীল ইঙ্গিত দিয়ে কথা বলেছিলেন। তিনি নারীদের তুলনা করেছিলেন তেঁতুলের সাথে। নারীদের দেখলেই নাকি তার দিলে লালা ঝরে, কুখেয়াল আসে। সেই কুখেয়াল থেকে তিনি ‘তেঁতুল হুজুর’ হিসেবে কুখ্যাতি পেয়েছিলেন।

৬ বছর আগে নারী শিক্ষা নিয়ে আল্লামা শফি যা বলেছিলেন, এখনো তাই বলছেন। তিনি এককথার মানুষ। তার কথার কোনো নড়চড় হয়নি। কিন্তু আমরা আমাদের অবস্থান বদলে ফেলেছি। আল্লামা শফীর সাথে সরকারের সুসম্পর্কের পর প্রগতিশীলরাও তার সম্পর্কে অবস্থানের বদল ঘটিয়েছেন। এখন আর আমরা তাকে তেঁতুল হুজুর বলে গালি দিই না, অনেক সমীহ করে কথা বলি। আওয়ামী নির্বাচনী কৌশলের কথা বলে আল্লামা শফীদের সাথে আপোস করেছে। আল্লামা শফী গণভবনে এসেছেন। সরকার কওমী মাদ্রাসার সনদের স্বীকৃতি দেয়ায় তারা প্রধানমন্ত্রীকে সংবর্ধনা দিয়েছিলেন। কওমী শিক্ষার স্বীকৃতি নিয়ে আমার আপত্তি নেই। কারণ তারাও এ দেশেরই সন্তান। তাদের শিক্ষার মূলধারায় আনা সরকারের দায়িত্ব। কিন্তু কওমী মাদ্রাসার সনদের স্বীকৃতি দেয়া আর আল্লামা শফীর কাছে নতি স্বীকার করা এক কথা নয়। শফীরা সবসসয় অগ্রগতির জন্য বিপজ্জনক। এই মৌলবাদী, প্রতিক্রিয়াশীলদের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যেতে হবে।

২. ঐক্যফ্রণ্টের আহবায়ক ড. কামাল হোসেন বলেছেন, ‘জামায়াতের সঙ্গে অতীতে যেটা হয়েছে, সেটি অনিচ্ছাকৃত ভুল। বিএনপি যে ধানের শীষে জামায়াতের ২২ জনকে মনোনয়ন দেবে, সেটি আমরা জানতাম না’।  ড. কামাল আরো বলেছেন, ‘তাড়াতাড়ি জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট করতে গিয়ে অনিচ্ছাকৃত যেসব ভুল-ত্রুটি হয়েছে, তা সংশোধন করে ভবিষ্যতের জন্য সৃদৃঢ় জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে’। ড. কামাল হোসেনের মতো একজন ঝানু আইনজীবীকে জামায়াতের সাথে মিলে নির্বাচন করার ভুলটুকু বুঝতে এতোদিন সময় লাগলো, সেটা বিস্ময়কর। বেটার লেট দ্যান নেভার। দেরিতে হলেও বুঝেছেন, এ জন্য তাকে ধন্যবাদ। জামায়াতের সাথে অভিন্ন প্রতীকে নির্বাচন করে যে ভুল তিনি করেছেন, সে ভুলের প্রায়শ্চিত্ত হলো বিএনপিকে জামায়াতের খপ্পর থেকে মুক্ত করে স্বাধীনতার পক্ষের শক্তির ঐক্য সামিল করা।

লেখক : হেড অব নিউজ, এটিএন নিউজর

অন্যান্য সংবাদ