Skip to main content

মনগড়া তথ্য ও পরস্পর বিরোধী ধারণায় চলছে দেশের আম সেক্টর

আজও প্রকাশ পায়নি দেশে আম উৎপাদনের সঠিক এবং সমন্বিত তথ্য। যুক্তিহীন ও পরস্পর বিরোধী মনগড়া ধারণা দিয়েই চলছে দেশের আম সেক্টর। কৃষিবিদ, কৃষি গবেষক, আম চাষী, রপ্তানীকারকসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান সূত্রে এসব কথা জানা গেছে।   

ঝুকিপুর্ণ হলেও আমের এলাকার পরিবর্তে কোয়ারেন্টাইন হয় ঢাকায়। কোন জেলার আম কখন রপ্তানী হবে এবং কি পরিমাণে রপ্তানী হবে তারও কোনো যুক্তিযুক্ত নির্দেশনা নেই। মাঠপর্যায় থেকে দেশ বিদেশের খাওয়ার টেবিল পর্যন্ত আম পৌছাতে অতিক্রম করতে হচ্ছে বাঁধার পর বাঁধা। সরকার ও প্রশাসনের নানা উদ্যোগের বাস্তবায়ন, সেমিনার সিম্পোজিয়াম সবই হচ্ছে তবে কোনো অবস্থাতেই কাটছে না আম খাতের অব্যবস্থা। 

মৌলভীবাজারের আকবরপুরের আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের উর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. শরফ উদ্দিন বলেন, বিবিএস এর হিসেবে বর্তমানে দেশে ৩৭৮৪৬ হেক্টর জমিতে আম চাষ করে উৎপাদন প্রায় ১১.৬১ লক্ষ মেট্রিক টন। আর রাজধানীর খামারবাড়ির কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তর হিসেব দিয়ে জানিয়েছে প্রতি বছর দেশে ১ লক্ষ ৭৪ হাজার ২০৮ হেক্টর জমি চাষ করে আম উৎপাদন হয় ২১ লক্ষ ৪৩ হাজার ৪০৩ মেট্রিক টন। সুতরাং দেখা যাচ্ছে, এদেশের আম উৎপাদনের সঠিক তথ্য আজও প্রকাশ পায়নি যা একটি দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন। 

অনুসন্ধানে জানা যায়, এ পর্যন্ত দেশের কতজন চাষী ও রপ্তানিকারকের  আমে নন-কমপ্লায়েন্স এসেছে ও তাতে কি কি ক্ষতি হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার কথা শোনা যায়নি। এ ছাড়া এসব নন-কমপ্লায়েন্স আসার কারণও খুঁজে বের করা হয়নি। অথচ জরুরী ভিত্তিতে এসব নন-কমপ্লায়েন্সের কারণ খুঁজে ব্যবস্থা নেয়া দরকার ছিলো।  আম গবেষকরা বললেন, আমের কোয়ারেন্টাইনের মতো গুরুত্বপূর্ন বিষয়গুলো (আমে কোন রোগ বা পোকার আক্রমণ নেই, ব্যবহৃত কীটনাশকের অবশিষ্ঠাংশ নেই যা মানব স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর) ঢাকায় বসে সঠিক পরীক্ষণ সম্ভব নয়। বিশেষ করে আমের মাছি পোকা খোসার নীচে ডিম প্রবেশ করিয়ে দেয় এবং পরবর্তীতে স্থানটি বন্ধ হয়ে যায়। যা আম পরিপক্কতার পর কাটা ছাড়া নিশ্চিত হওয়া যায় না। কিন্তু বর্তমানে নারায়নগঞ্জের শ্যামপুরে বসে কাজটি সম্পন্ন করা হয়। ফলে রপ্তানি করা আমে নন-কমপ্লায়েন্স আসাটা অস্বাভাবিক নয়।

সংশ্লিষ্টরা বলেন, আম রপ্তানির সব প্রক্রিয়ায় কোন আম বিশেষজ্ঞ বা আম গবেষণা প্রতিষ্ঠানের কোন সংশ্লিষ্টতা নেই, যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন। আম রপ্তানির পরিকল্পনা থেকে শুরু করে চাষী বা বাগান নির্বাচন, বাগান ব্যবস্থাপনা, উৎপাদন পদ্ধতি, সংগ্রহ, প্যাকিং প্রত্যেক ধাপে আম গবেষকের সংশ্লিষ্টতা বা মতামত অবশ্যই দরকার। অথচ এ বিষয়ে কোনই গুরুত্ব দেওয়া হয় না। বিষয়টিকে গুরুত্ব না দিলে চলতি মৌসুমেও আম রপ্তানির ক্ষেত্রে আগের বছরের পূনরাবৃত্তি ঘটতে পারে। 

রপ্তানিকারকেরা এই বিষয়ে মূখ্য ভুমিকা পালন করে থাকে। যা মোটেই যৌক্তিক নয়। এ ক্ষেত্রে শৃংখলা ও কার্যকর ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রহ করার অন্তত ১৫ দিন আগে একটি বিশেষজ্ঞ দল আম রপ্তানিকারক অঞ্চল বা জেলাগুলোতে সরেজমিন পরিদর্শনে যেয়ে আম সংগ্রহের বিষয়ে একটি তালিকা প্রস্তুত করবেন। যা রপ্তানির সময় অনুসরণ করা হবে।