Skip to main content

বিএনপি সরকারের সময়ে করা ঋণ অবলোপন আইন নিয়ে অসন্তোষ

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল গতকাল সারাদিনই কাটিয়েছেন ব্যস্ত সময়। সকালে আগারগাঁওয়ে অর্থনৈতিক সম্পর্কে বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বিকাল ৩টায় বৈঠক করেছেন সচিবালয়ে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সঙ্গে। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বৈঠক সম্পর্কে তিনি কিছু জানাননি। বলেছেন, এটি একটি অভ্যন্তরীণ  বৈঠক।
 
বৈঠকে উপস্থিত কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে জানা যায়, তিনি শেয়ার বাজার উন্নয়নে যেসব কর্মসূচি নেয়া হয়েছে তা পর্যালোচনা করেন। তিনি কর্মকর্তাদের কিছু নির্দেশও দেন। পরে ব্যাংকিং খাতের ঋণ অবলোপন ও সুদ হার  নিয়ে আলোচনা করেন। 

সূত্র জানায়, ২০০২ সালে  বিএনপি সরকারের সময়ে করা ঋণ অবলোপন আইনের বিষয়ে আলোচনা করেন। তিনি জানান, ঋণ অবলোপনরে এই আইনটিকে এখন সংশোধনের সময় হয়েছে। বৈঠকে কর্মকর্তারা অর্থমন্ত্রীকে জানান, বর্তমানে দেশে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকার ঋণ অবলোপন করা হয়েছে। এরমধ্যে সরকারি ব্যাংকগুলোর অবলোপন ২০ হাজার কোটি টাকা। আর বাকিটা অন্যান্য সব ব্যাংক মিলিয়ে। ব্যাংক ঋণের সুদ হার সম্পর্কে বলা হয়, গত বছর ব্যাংক মালিকদের সঙ্গে সমঝোতার প্রেক্ষিতে সুদের হার ৯ শতাংশ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সরকারি ব্যাংকগুলো এই সুদ হার কার্যকর করলেও অনেক বেসরকারি ব্যাংক এখনো ১১ শতাংশ, অনেক ক্ষেত্রে ১৬ শতাংশও আদায় করা হচ্ছে বলে মন্ত্রীকে জানানো হয়। কর্মকর্তারা যেসব ব্যাংকে বেশি সুদ হার আদায় করা হচ্ছে তার একটি তালিকাও দেন। আমানতের সুদ হার প্রসঙ্গে বৈঠকে বলা হয়, গত বছর বাংলাদেশ ব্যাংক মেয়াদি সঞ্চয়ি আমানতে ৬ শতাংশ সুদ হার কার্যকরের নির্দেশ দেয়। কিন্তু বেসরকারি ব্যাংকগুলো এখনো মেয়াদি সঞ্চয়ি আমানতে ৪ থেকে সাড়ে ৪ শতাংশ সুদ দিচ্ছে জানানো হয়। 

উল্লেখ্য, ৫ বছর ধরে আদায় করা যাচ্ছে না এমন ব্যাংক ঋণকে ব্যাংকগুলো অবলোপন করে থাকে। অর্থাৎ এই ঋণগুলোকে একটি আলাদা লেজারে স্থানান্তর করা হয়। ঋণ অবলোপন করলে ব্যাংকগুলো যে পরিমাণ ঋণ অবলোপন হয়েছে সেই পরিমাণ ঋণ ব্যাংকগুলোকে প্রভিশন করতে হয়। অর্থাৎ অবলোপন করা ঋণের সমান অর্থ তিনি আর ঋণ দিতে পারবেন না। সম্পাদনা : রেজাউল আহসান   

অন্যান্য সংবাদ