Skip to main content

বাংলাদেশে কাজুবাদাম উৎপাদন এবং রপ্তানি শীর্ষক সেমিনার 

বান্দরবান জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জনাব ক্য সৈ হ্লা বলেছেন, কাজুবাদামের জাত উন্নয়ন, প্রোসেসিং ও কারখানা স্থাপনের প্রয়োজনীয় জ্ঞান অর্জনে বিদেশ থেকে প্রশিক্ষণ নিতে হবে। ১০ জানুয়ারি বান্দরবান জেলা বান্দরবান জেলা পরিষদের হলরুমে ‘কাজুবাদাম উৎপাদন এবং রপ্তানি’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। 

তিনি বলেন, পার্বত্য তিন জেলায় কাজুবাদাম চাষ ও উৎপাদনের অপার সম্ভাবনা রয়েছে। অত্যন্ত লাভজনক এই চাষ সম্প্রসারণে যথেষ্ট অভিজ্ঞতা ও জ্ঞানের কোনো বিকল্প নেই। বাংলাদেশ অর্গানিক প্রোডাক্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স এ্যসোসিয়েশন ও এ্যগ্রো প্রোডাক্টস বিজনেস প্রমোশন কাউন্সিল যৌথভাবে এ সেমিনার আয়োজন করে।  

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মো. সেলিম উদ্দীনের সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন, বান্দরবান জেলার কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. আলতাফ হোসেন। প্রধান বক্তার বক্তব্য দেন রুমা উপজেলা কৃষি অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান। নির্ধারিত বিষয়ের ওপর বক্তব্য দেন, আয়োজক সংগঠনের সভাপতি মুহাম্মদ আব্দুস ছালাম। 

কাজুবাদাম উৎপাদন, প্রোসেসিং এবং রপ্তানি বিষয়ে করণীয় এবং দিক নির্দেশনা দিয়ে মো. সেলিম উদ্দীন বলেন, কাজুবাদাম চাষ সম্প্রসারণে যথাসম্ভব সব কিছু করা হবে। এব্যপারে মন্ত্রণালয়ের সহায়তা পাওয়া যাবে বলে প্রতিশ্রুতি দেন মো. আলতাফ হোসেন। 

কাজুবাদাম চাষের অপার সম্ভাবনা তুলে ধরে মুহাম্মদ আব্দুস ছালাম বলেন, এই বাদামের মাথায় কাজু আপেল হয়। এ আপেলে প্রায় ৮০ শতাংশ জুস থাকে যা অনেক ঔষধি ও পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ। কমলা লেবুর চেয়ে ৬ গুন বেশী ভিটামিন সি রয়েছে। কাজু আপেল থেকে প্রায় ৩০ লাখ টন কাজু জুস উৎপাদন সম্বব। যা দিয়ে আমরা দেশের মানুষের পুষ্টিহীনতা দূর করতে পারি। 

তিনি বলেন, কাজুবাদামের শেল বা খোশা থেকে উৎপাদিত ১২০০০০ টন তেল দিয়ে উৎকৃষ্টমানের পেস্টিসাইড বা কীটনাশক উৎপাদন করা যাবে। যা নিরাপদ ফসল এবং খাদ্য উৎপাদনে অত্যন্ত জরুরী। অপরদিকে, মানবদেহ এবং পরিবেশের জন্য মারাত্বক ক্ষতিকারক রাসায়নিক কীটনাশক আমদানী প্রতিহত করে শত শত কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করবে।

তিনি আরো বলেন, কাজু আপেল থেকে জুস বের করে নেয়ার পর যে মন্ড বা ছোবরা হবে তা দিয়ে হাজার হাজার টন মাটির প্রাণ উত্তম জৈবসার উৎপন্ন হবে। ঠিক একইভাবে শেল বা খোশা থেকেও তেল বের করে নেয়ার পর যে খৈল হবে তা দিয়েও হাজার হাজার টন জৈবসার হবে। ৩ পার্বত্য জেলার ২ লাখ হেক্টর জমিতে প্রায় ১৫ কোটি কাজু বাদামের গাছ থাকবে। প্রতিটি গাছ যদি বছরে ৫০ কেজি করে গ্রীন হাউজ গ্যাস বা কার্বন-ডাই-অক্সাইড শোষণ করে তাহলে এর মোট পরিমাণ হবে ৭৫ লাখ টন। ইউএনএফসিসিসি( ইউনাইটেড নেশান ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন ক্লাইমেট চেঞ্জ) প্রতি টন গ্রীন হাউজ গ্যাস বা কার্বন-ডাই-অক্সাইড শোষণ করার জন্য প্রায় ২০ মার্কিন ডলার দেবে। সে হিসেবে প্রায় ১৫ কোটি মার্কিন ডলার বা ১২৪৫ কোটি টাকার সিডিএম( ক্লিণ ডেভেলপমেন্ট মেকানিজম) ফান্ড পাওয়া যাবে। যা আমাদের জন্য অনেক বড় সম্মানের এবং গর্বের। 
 


 

অন্যান্য সংবাদ