Skip to main content

বদলে যাচ্ছে দেশ

অন্তর, একদিন আসে ছেলেটা। কতোই বা বয়স, ৩৪/৩৫ বছর হবে। খেতের টাটকা সবজি, ফলমূল, শাক বোঝাই থাকে তার রিকশা ভ্যান। দাম মোটামুটি বাজারের মতোই, সামান্য ঊনিশ বিশ হতে পারে। মুখে গ্রাম্য সারল্য মাখা ছেলেটাকে দেখেই কেন জানি না ভালো লাগে। ভালো সবজি থাকলে যেচে ধরিয়ে দেয় হাতে, খারাপ হলে মাথা নেড়ে বারণ করে। কদাচিৎ বাধ্য হয়ে বাজারে গেলেও বেশি কেনাকাটা করি না আজকাল, মনে হয় ছেলেটার প্রাপ্যতে হাত পড়বে।
ভোর বেলা আমডাঙ্গা থেকে মাল নিয়ে আসে, বেশিরভাগই চাষির ঘরের। নিজেরও জমি আছে, সামান্য চাষবাসও করে। সৎ পরিশ্রমী, বিনয়ী, হাসিখুশি সরিফুলের সাথে আজ অনেক কথা হলো। পড়াশোনা হয়নি বিশেষ। বিয়েটাও অল্প বয়সে। এক মেয়ে আর এক ছেলে তার। মেয়ে ক্লাস এইটে পড়ে, ছেলেটা সবে স্কুলে যাচ্ছে। ‘খবরদার, মেয়েকে তাড়াতাড়ি বিয়ে দিবি না কিন্তু ভাই’ খানিক ধমকের স্বরেই বলি। ওর চোখ দু’টি স্বপ্নালু হয়ে যায়। ‘কি যে বলেন দাদা, যতোদূর মেয়েটা পড়তে চায় ততোদূর পড়াবো। না হলে সেই আমার মা বউয়ের মতো রান্নাঘরেই তো জীবন কেটে যাবে।’
এই চোখ দু’টো বিলক্ষণ চিনি আমি। এই চোখ দু’টো মায়া মাখানো ভালোবাসায় ভরা চোখ। যে চোখে ছেলেমেয়ের বিভেদ থাকে না। থাকে শুধু অপার ভালোবাসা আর স্বপ্ন। থাকে জেদ। সেই স্বপ্ন সফল করার জেদ। দিন বদলাচ্ছে। ধীরে হলেও বদলে যাচ্ছে আশপাশের সহনাগরিকরা। বদলে যাচ্ছে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী। বদলে যাচ্ছে দেশ। শত হতাশার মধ্যেও তাই দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশা হারাই না আমি। - ফেসবুক থেকে

অন্যান্য সংবাদ