Skip to main content

পিতামাতার সন্তুষ্টিতে আল্লাহর সন্তুষ্টি

মানুষের মধ্যে নিজ পিতামাতার চেয়ে অতুচ্ছ মর্যাদার অধিকারী আর কেউ নেই। মহান আল্লাহ সমগ্র বিশ্ববাসীর একমাত্র উপাস্য ও অভিভাবক। আর পিতা-মাতা হলো শুধু তার সন্তানদের ইহকালীন জীবনের সাময়িক অভিভাবক।

আর মাতা-পিতাই হলেন জান্নাতপ্রাপ্তির প্রধান মাধ্যম। যে তাদের সঙ্গে সদ্ব্যবহার করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আর যে তাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করবে, সে পরকালীন শাস্তির পাশাপাশিও পাবে দুনিয়াবি শাস্তি। তাই সে সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তার নাক ধূলায় ধূসরিত হোক, তার নাক ধূলায় ধূসরিত হোক, তার নাক ধূলায় ধূসরিত হোক। বলা হলো- কার ইয়া রাসূলাল্লাহ (সা.)? তিনি (সা.) বললেন, যে তার মাতা-পিতাকে অথবা দুইজনের একজনকে বৃদ্ধাবস্থায় পেল অথচ জান্নাতে যেতে পারল না’। (সহিহ মুসলিম)

আল্লাহর সন্তুষ্টি পেতে পিতা-মাতার সেবায় নিজেকে যেমন নিয়োজিত করা প্রয়োজন। অপরদিকে সেবার পাশাপাশি প্রয়োজন তাদের দিকে নেক নজরে তাকানো। কেননা, সু-নজরেও মানুষকে খুশি করা যায়। আর আনমনাভাব দ্বারা সেবা করলেও মঞ্জিলে মকসুদে পৌঁছা কঠিন হয়ে যাবে। তাইতো হাদিস অনুযায়ী পিতা-মাতার সেবার পাশাপাশি নেক নজরকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আর এই নেক নজরের মাধ্যমে সন্তানরা পাবে একটি কবুল হজের সমান সওয়াব।

হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত। রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, যে সন্তান তার পিতা-মাতার দিকে সশ্রদ্ধ ও ভালবাসার নজরে তাকায় সাথে সাথে আল্লাহপাক তার আমলনামায় একটি কবুল হজের সওয়াব লিখে দেন। এ কথা শুনে উপস্থিত সাহাবায়ে কেরাম (রা.) আরজ করলেন, ইয়া রাসুলুল্লাহ (সা.)! সে যদি ওইভাবে দৈনিক একশতবার তাকায় তাহলে কি সে একশত কবুল হজের সওয়াব পাবে? উত্তরে বিশ্বনবি (সা.) বললেন হ্যাঁ! যদি দৈনিক একশতবার তাকায় তাহলে সে সন্তান একশত কবুল হজের সওয়াব পেতে থাকবে। (বায়হাকি, শুআবুল ইমান, মিশকাত)

অপরদিকে পিতা-মাতার দিকে রাগের নজরে তাকানো কিংবা খারাপ ব্যবহার করার ফলে রয়েছে দুনিয়াসহ পরকালীন শাস্তি। তাই পিতা-মাতার অবাধ্যতাকে কবিরা গোনাহ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। নবী (সা.) মাতা-পিতার অবাধ্য হতে বারণ করেছেন এবং বলেছেন এটি কবিরা গোনাহ। পিতা-মাতার অবাধ্যতা হলো তাদের ওপর রাগ করা, তাদের আনুগত্য না করা, তাদের কথায় মুখ ফিরিয়ে নেওয়া, তাদেরকে ধমক দেওয়া, তাদের প্রয়োজন প্রকাশ করলে এবং কোন কথা বললে উফ বলে বিরক্তি প্রকাশ করা। (সহিহ বোখারি)

হজরত আবু বকর (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (সা.) বলেছেন- আমি কি তোমাদেরকে সবচেয়ে বড় গুনাহ সম্পর্কে সংবাদ দেব না? (তিনবার বলেছেন) আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসূল সা.! বলুন! তিনি বললেন, আল্লাহর সাথে শরিক করা এবং মাতা-পিতার অবাধ্য হওয়া। রাসূল (সা.) এতক্ষণ হেলান দিয়ে বসা ছিলেন। এবার তিনি সোজা হয়ে বসে বললেন, সাবধান ! এবং মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া। তিনি বার বার কথাটি বলে যাচ্ছিলেন, ফলে আমারা মনে মনে বললাম, যদি তিনি থামতেন! (সহিহ বোখারি)