Skip to main content

নির্বাচনের পর শেয়ারবাজার চাঙ্গা ডিএসইতে দশ মাসের মধ্যে সূচক সর্বোচ্চ 

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকেই দেশের শেয়ারবাজার পালের হাওয়া লেগেছে। গতকাল প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ডিএসইতে সূচক ১১৫ পয়েন্ট বেড়েছে। ফলে ডিএসইর প্রধান ম‚ল্য সূচক আবারও পাঁচ হাজার সাতশ পয়েন্ট অতিক্রম করেছে। এর আগে ২০১৮ সালের ৩০ এপ্রিলের সূচকটি ছিল পাঁচ হাজার ৭৩৯ পয়েন্টে।

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, বড় ধরনের রাজনৈতিক হানাহানি ছাড়াই সরকারের ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকায় শেয়ারবাজরে ইতিবাচক প্রভাব দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি অর্থমন্ত্রী পরিবর্তন হওয়া শেয়ারবাজারের জন্য ইতিবাচক হয়েছে। বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, নির্বাচনের পর নতুন বছরে শেয়ারবাজারে ছয় কার্যদিবস লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে পাঁচ কার্যদিবসেই ম‚ল্য সূচকের বড় উত্থান হয়েছে। এতে নতুন বছরের প্রথম ছয় কার্যদিবসে ডিএসইর প্রধান ম‚ল্য সূচক বেড়েছে ৩৮৫ পয়েন্ট। আর শেষ ১৩ কার্যদিবসে সূচক বেড়েছে ৫৫২ পয়েন্ট। অবশ্য টানা ১১ কার্যদিবস ঊর্ধ্বমুখী থাকার পর সোমবার ডিএসই এবং চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) কিছুটা দরপতন হয়। তবে এ দরপতনের পরের কার্যদিবসেই দশ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ উত্থানের দেখা মিলে। সেই সঙ্গে ২০১৮ সালের ১ এপ্রিলের পর ডিএসইর প্রধান ম‚ল্য সূচক ডিএসইএক্স একদিনেই একশ পয়েন্টের ওপরে বেড়েছে।
ম‚ল্য সূচকের বড় উত্থানের পাশাপাশি এদিন বাজারে লেনদেনে অংশ নেয়া বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেয়া ২৩৮টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম আগের দিনের তুলনায় বেড়েছে। দাম কমেছে ৮৫টির। আর ২৩টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ায় ডিএসইর প্রধান ম‚ল্য সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ১১৫ পয়েন্ট বেড়ে পাঁচ হাজার ৭৭০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। 

প্রধান মূল্য সূচকের পাশাপাশি বড় উত্থান হয়েছে অপর দুটি ম‚ল্য সূচকেও। এর মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ্ সূচক আগের দিনের তুলনায় ১৮ পয়েন্ট বেড়ে এক হাজার ৩০৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আর ডিএসই-৩০ আগের দিনের তুলনায় ৩৭ পয়েন্ট বেড়ে দুই হাজার এক পয়েন্টে অবস্থান করছে।  

এবিষয়ে ডিএসইর সাবেক সভাপতি ও বর্তমান পরিচালক রকিবুর রহমান বলেন, নির্বাচনের মাধ্যমে সরকারের ধারাবাহিকতা রক্ষা হওয়ায় শেয়ারবাজারে এমন উত্থান প্রতাশিত। এখন বাজার যে আচরণ করছে আমার দৃষ্টিতে তা খুবই ভালো। তবে বাজারে যাতে কেউ দুর্বল কোম্পানির শেয়ার নিয়ে খেলা করতে না পারে সেদিকে নজর দিতে হবে।

এদিকে মূল্য সূচক ও বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার পাশাপাশি গতকাল ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও বেড়েছে। দিনভর বাজারে লেনদেন হয়েছে এক হাজার ১০ কোটি তিন লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৯৬৫ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। সে হিসেবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন বেড়েছে ৪৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা। অপরদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের সার্বিক ম‚ল্য সূচক সিএসসিএক্স ২৪৭ পয়েন্ট বেড়ে ১০ হাজার ৬৮৯ পয়েন্টে অবস্থান করছে। বাজারে লেনদেন হয়েছে ৭১ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। লেনদেন হওয়া ২৭৭টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৮৩টির দাম বেড়েছে। কমেছে ৮০টির। আর অপরিবর্তিত রয়েছে ১৪টির দাম। সম্পাদনা সালেহ্ বিপ্লব


 

অন্যান্য সংবাদ