Skip to main content

নারী অধিকার রক্ষায় সোচ্চার হোক আলেমসমাজ

বাংলাদেশের আলেমসমাজ রাজনীতি নিয়ে খুব বেশি চিন্তা-ভাবনা করেন না। রাষ্ট্রবিজ্ঞান সম্পর্কে জানাশোনাতেও তাই আগ্রহ কম তাদের। মাদরাসার পাঠ্যক্রম বা সিলেবাসে পলিটিক্যাল জ্ঞানের চর্চা নেই বললেই চলে। তবে ওনারা জাতীয় রাজনীতি থেকে সম্পূর্ণ বিমুখ- এটা বলা অন্যায় হবে আমার।

আলেমদের উল্লেখযোগ্য একটি অংশ রাজনীতির ময়দানে আগেও সক্রিয় ছিলেন, এখনও আছেন। ওনাদের এই রাজনীতিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বলা হয়- ‘ইসলামী রাজনীতি’। ইসলামের খেদমতের জন্য রাজনীতি। বিভিন্ন কারণে এই ধারার রাজনীতি এখনও গণমুখী হতে পারেনি। গণমানুষের আস্থা অর্জন করতে পারেনি। অথবা বলতে গেলে আলেমগণ সেটি হতে দিতে চাননি। তারা একটি বৃত্তের ভেতর ঘুরপাক খেতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে থাকেন। তবে ওনারা বিভক্ত হয়েছেন বহুবার। বহু অজুহাতে। বহু যুক্তিতর্কের ভেলকি দেখিয়ে এক শাশ্বত ধর্ম ইসলামকে বহুরূপে খণ্ড-বিখণ্ড করে জাতির সামনে উপস্থাপন করেছেন। করেই চলেছেন...

(দুই.) নারীদের অধিকার প্রশ্নে ভয় পান বা এড়িয়ে যেতে চান আলেমগণের বড় একটি অংশ। ওনারা ভাবেন, এসব নিয়ে কথা বলতে গেলে পাছে কেউ আবার ‘নারীবাদী’ তকমা দিয়ে দেয় কিনা! সেক্ষেত্রে নিজেদের ইজ্জত টিকিয়ে রাখাই মুশকিল হয়ে পড়বে। লোকজন হয়তো টিপ্পনি কেটে বলতে পারে- ‘হুজুররাও সুবিধাবাদী... হেনতেন।’ মোটা দাগে ঠিক এই কারণেই নারী অধিকার সম্পর্কে আলেমসমাজের কোনো ভ’মিকা আমাদের সমাজে সেভাবে চোখে পড়ে না। আগ্রহ নিয়ে সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে এগিয়ে আসেন না কেউ।

(তিন.) রাজনীতির সাথে যুক্ত অথবা রাজনীতি থেকে মুক্ত- সব আলেমরাই কিন্তু নিজেদেরকে নবি-রাসূলগণের গর্বিত উত্তরসূরি দাবি করে থাকেন। দ্বীনের জিম্মাদার বা দায়িত্বশীল মনে করে থাকেন। তাহলে নারী অধিকার নিয়ে সোচ্চার হতে বাধা রইলো কোথায়? মানবতার ধর্ম ইসলামে যদি নারীর মর্যাদা, নিরাপত্তা ও সুরক্ষার কথা থাকে তাহলে এ ব্যাপারে আড়ষ্টতা বয়ে বেড়ানো সচেতন ওলামায়ে কেরামের পরিচয় হয় কিভাবে? নারীর প্রতি সহিংসতা, সামাজিক কুসংস্কাররোধে এবং উত্তরাধিকার সম্পত্তিতে নারীর ন্যায্য অধিকার আদায়ে চুপ করে থাকা ইসলামের খাদেমগণের অবহেলা নয় কি?

মনে রাখা দরকার, নিন্দা আর ঘৃণা দিয়ে ভালো কিছুর আশা করা বোকামি। আমরা কিন্তু চাইলেই পারি- মায়ের শ্রদ্ধায়, বোনের ভালোবাসায় নারীদেরকে আপন করে নিতে। তাদের নাগরিক, সামাজিক ও ধর্মীয় সকল অধিকার আদায়ে সোচ্চার হতে। ওয়াজের মাঠে, মসজিদের মিম্বারে, ঘরোয়া আলোচনায় তাদের ব্যাপারে ইতিবাচক পদক্ষেপ নিতে। জীবনকে আরো সহনীয় করে তুলতে। তাই আসুন, আজ থেকে আমাদের বোধগুলো আরও উন্নত হোক। প্রত্যাশাগুলো হোক মঙ্গলময়। দিকে দিকে সুর উঠুক- ‘নারী স্বাবলম্বী হোক, জ্ঞানে-বিজ্ঞানে উন্নীত হোক, আদর্শের মায়াবি জাদুর বন্ধনে আগলে রাখুক ধরণী।’