Skip to main content

নারীরা জাগার আগে এই পৃথিবীর কিছুই জাগে না

স্নিগ্ধ ভোরের হাত ধরে নেমে আসে যুদ্ধরত সকালটি। কাজের কোনো কিনারা নেই। রমণীর যুদ্ধে সকাল, দুপুর, বিকেল, সন্ধ্যা, রাত্রি কিছুই নেই। এমনকি খাওয়াটাও হয় অধিকাংশ সময় দাঁড়িয়েই। আলো থেকে আঁধার যেমন সন্ধ্যার আগে তরতর করে নেমে আসে ঠিক তেমনি সারাদিন গড়িয়ে যায় দৌড়ে দৌড়ে।

ছোটকালে পড়তামআমরা যদি না জাগি মা কেমনে সকাল হবে।ভাবতে হয় এভাবেই, নারীরা জাগার আগে এই পৃথিবীর কিছুই জাগে না। এমনকি শিশিরভেজা ভোরও না। সকালে উঠে নাস্তা আর বাচ্চাদের টিফিন বানানোর চাপে প্রাতঃভ্রমণটা অধিকাংশ সময় জলেই যায়। স্কুলে বাচ্চা আর মায়েরা ব্যস্ত দুপুরের আনাজ তরকারির খোঁজে। কোন মাছটি দিয়ে কোন তরকারিটি ভালো হবে এমনি চিন্তা নিত্যদিন একঘেঁয়ে লাগেই তবু ফুটে উঠা ভাতের দানায় রোজ নজর দিতেই হয়। আজকাল গৃহকর্মীর বড় অভাব। তাদের রোজ তেল দিতে যে পরিমাণ এনার্জি খরচ হয় তাতে নিজের চাকরি ছেড়ে দেয়াটাই স্বাভাবিক!

একা হাতে সামলাতে সামলাতে দম ফেলার সময় থাকে না। আজকাল শহরে বসবাসরত অধিকাংশ পরিবারেরই এমন অবস্থা। অনেক সময় টিকে থাকাই কঠিন মনে হয়। 

ঘুমুতে যাওয়ার আগে মেইন গেট থেকে সবগুলো দরজা জানালা চেক করা তো নিত্যদিনের কাজ। নারী পারে, আমরা পারি, আমাদের পারতে হয়। বিছানার পাশে তাজা ফুলের তোড়াটিও চেয়ে চেয়ে হাসে আর বলে আমাকে দেখো গন্ধ বিলাতে গিয়ে আর কিছু মনেই রাখি না! ফুলের স্টিকের গোড়ায় ঠিকমতো জল পড়েছে কী? কথা ভাবতে ভাবতে খুলে বসি কবিতার খাতা। রান্নাঘরটিও তখন ভীষণ ব্যস্ত। একদিকে চুলা চিমনি অন্যদিকে তরকারির কাটাকুটি এই সবকিছুই এক হাতের আঙ্গুলেরই কারিগরি। ওদিকে পত্রিকার লেখাটি রেডি তো? মেইলটা ঠিকমতো পৌঁছলো কিনা ভাবতে ভাবতে আরেকটি গদ্য লেখা প্রায় শেষের পথে।

এদিকে ভাত আর সবজি দুই চুলায় বসিয়ে সিদ্ধ হতে হতে হাতের আরো কিছু কাজ শেষ! শেষ বিকেলের কাজের খেয়াল থেকে ছুটি নিতে যাই বাইরে অন্য কোথাও কাজ আছে বলেই। তাও না, নিত্যই ছানাপোনা সঙ্গে নিয়ে ছুটি। এই তো জীবন!

ভাবি, কবে ছুটি হবে আর নিষেধ ভেঙে হারিয়ে যাবো? আর কী হবে সময়? প্রশ্নের বাঁকে প্রশ্ন ঘুরতেই থাকে তবু থেমে থাকে না কিছুই। রোজকার রুটিন আর টানাপড়েনের মাঝখানে বারান্দায় কিছুক্ষণের জন্য দাঁড়িয়ে যাই এক কাপ চা বা কফি হাতে!

এই তো মানিপ্ল্যান্টের আরো দুটি কুঁড়ি দেখা যাচ্ছে। অপরাজিতার বেশ কিছু ফুল আড়মোড়া ভেঙে তাকিয়েছে আমার এক জোড়া হরিণী চোখের দিকে। আমি ক্লান্ত বলে বুঝতেই পারিনি কোনোদিন! অথচ ছুটির জন্য মনের এতো আবেদন কেনো তবে? আমাকে আমার সঙ্গী করে কবে ফিরে যাবো নিজের কাছে? আতকে ওঠি জানলার গ্রিল ধরে একটা শালিক বসে আছে বিদ্যুতের খুঁটির ঠিক মাথায়, হঠাৎ চোখ ঘুরতেই এক ফাঁকে উড়ে চলে গেল মেঘের ওপরে। পরজন্মে পাখি হয়ে মেঘ ছোঁবো!

অন্যান্য সংবাদ