Skip to main content

নতুন বছর মানেই রাজধানীর ভাড়াটিয়াদের আতঙ্কের কারণ 

নতুন বছর মানেই রাজধানীর ভাড়াটিয়াদের আতঙ্কের কারণ। ভাড়া বাড়াতে তৎপর হয়ে ওঠেন বাড়ির মালিকরা। এলাকাভেদে ৫’শ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ভাড়া বাড়িয়েছেন বাড়ির মালিকরা। এমনিতেই বেতনের সিংহভাগ চলে যায় বাড়ি ভাড়ার পেছনে। সেখানে এই বর্ধিত ভাড়া মরার ওপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে ভাড়াটিয়াদের জন্য। ভোক্তা অধিকার সংগঠন ক্যাবের মনে করে দ্রুত বাড়ি ভাড়া আইন সংশোধন করা প্রয়োজন। চ্যানেল ২৪।

রাজধানীতে এলাকাভেদে বছর শেষে ৫’শ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ভাড়া বাড়ান বাড়ির মালিকরা। কোন নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে কোথাও আবার বছরের মাঝখানে ভাড়া বাড়ানোর নজিরও আছে। আয়ের সাথে সামঞ্জস্য না রেখে ভাড়া বাড়ানোর এই যাতাকলে চিড়ে চ্যাপ্টা ভাড়াটিয়ারা।

সারি সারি বাড়ি দেখে সার বাধা সৈন্যের মতো মনে হয়। বাড়িগুলোর বিভিন্ন আয়তনের খুপরি ঘরের বাসিন্দাদের সব পরিচয়ের বাইরে আছে আরও একটি পরিচয় ভাড়াটিয়া।
ব্যাংকার রাসেল আহমেদ এমনি একজন ভাড়াটিয়া। দশ বছর ধরে আছেন তিলোত্তমা নগরীতে। আর সবার মতোই বেঁচে আছেন বাসা খোঁজা, বদল, বছর বছর ভাড়া বাড়ানোর ঝক্কি সামলে।

রাসেল আহমেদ বলেন, বাড়িয়ালারা একপাক্ষিকভাবেই তাদের ভাড়া আমাদেরকে বলে দেয় আর সেটাই আমাদের মেনে নিতে হয়। আবার প্রতি বছর বছর তারা তাদের ইচ্ছা মতোই ভাড়া বাড়িয়ে নিচ্ছে এবং সে ক্ষেত্রে আমাদের তেমন কোন বক্তব্য দেয়ার সুযোগ নেই। যার ফলে আমাদের বেতনের একটা বড় অংশই চলে যাচ্ছে বাড়িয়ালাদের পেছনে।

ভাড়াটিয়া পরিষদের সভাপতি বাহরানে সুলতান বাহার বলেন, তাদের জায়গাটা পরিষ্কার না যে বাড়িয়ালারা যে ভাড়া বাড়ায়, কতো টাকা বাড়াতে হবে, কোথায় আইন আছে, আইনটাইন কিছুই জানে না তারা।

তবে বাড়ি মালিকরা সরকারের ওপরই দায় চাপালেন। তারা বলছেন প্রতি বছর পানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম বৃদ্ধির ফলেই বেড়ে যায় বাড়ি ভাড়া।

বাড়ির মালিক হাফিজুর রহমান বলেন, পানি, বিদ্যুৎ, সিটি করপোরেশন প্রভৃতির বিল যখন বাড়ানো হয়, তখন অধিক হারে যখন টাকাটা দিতে হয় আর সে সময় ভাড়াটা বাড়ানো যুক্তিসঙ্গত হয়ে দাঁড়ায়।

ভোক্তা অধিকার সংগঠন ক্যাবের হিসাবে গত ২৫ বছরে রাজধানীতে বাড়ি ভাড়া বেড়েছে প্রায় চারশ শতাংশ। অথচ একই সময়ে নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে প্রায় অর্ধেক। 
ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক, অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির ভূঁইয়া বলছেন, দুর্বল আইনের সুযোগ নিয়েই নৈরাজ্য চালাচ্ছেন বাড়ি মালিকরা। বাড়ি ভাড়া নিয়ে যে আইনটি হয়েছে তা ত্রুটিপূর্ণ। ১৯৯১ সালে যে আইনটি একটি অধ্যাদেশের মাধ্যমে করা হয়েছিলো কিন্তু পরে আর কোনো পরিবর্তন আসেনি। তবে যারা আইনটি তৈরি করবে তাদের মধ্যে অধিকাংশই বাড়িওয়ালা। যার কারণে তারা আইন নিয়ে আগাতে চায় না।  

অবস্থার উন্নয়নে বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন সংস্কারসহ নিম্ন ও মধ্যবিত্তদের জন্য সরকারি উদ্যোগে ফ্ল্যাট তৈরির পরিকল্পনা গতিশীল করার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের।
 

অন্যান্য সংবাদ